ঝিনাইদহে ভূমি সেবা মেলার শেষদিনে অটোমেটেড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ শীর্ষক সেমিনার অনিুষ্ঠত
সাইফুল ইসলাম ঝিনাইদহ সংবাদদাতা-
ঝিনাইদহে তিনদিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা শেষ হয়েছে। শেষদিন (২১ মে) বৃহস্পতিবার বিকালে আড়াইটায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে
Automated Land Management System The Changes,Development and Way Forward
শীর্ষক সেমিনার ও মেলার সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুবীর কুমার দাস এর সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোসফেকুর রহমান,
ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী আব্দুল আওয়াল,ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম বাদশা এবং শাজাহান আলী। বক্তব্য রাখেন ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন,ঝিনাইদহ জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি এম এ কবীর প্রমূখ। সেমিনারে ভূমি সেবা বিষয়ক মূল প্রবন্ধ ডিজিটাল প্লাটফর্মে উপস্থাপন করেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তারেক হাসান। অনুষ্ঠানে জেলার ৬ উপজেলার নির্বাহী অফিসার,এসি ল্যান্ড, জেলা প্রশাসকের কার্যলয়ের নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেট জেলা রেজিস্টার,সাব রেজিস্টার,বিভিন্ন অফিস প্রধান,সাংবাদিক এবং স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি বলেন, জমির খতিয়ান তোলা, নামজারি (মিউটেশন) সম্পন্ন করা কিংবা ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ করা সাধারণ মানুষের জন্য একসময় সময়সাপেক্ষ, জটিল ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া ছিল। কাংখিত সেবা পেতে ইউনিয়ন ভূমি অফিস, উপজেলা ভূমি অফিস বা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দিনের পর দিন ঘুরতে হতো। দীর্ঘসূত্রতা,তথ্যের অস্বচ্ছতা এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্য মানুষের ভোগান্তিকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিত। তবে ডিজিটাল প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে সে চিত্র বদলে যাচ্ছে।
বর্তমানে মুঠোফোনে পাওয়া যাচ্ছে অধিকাংশ ভূমিসেবা। ফলে দুর্নীতি কমছে, বাড়ছে স্বচ্ছতা; নাগরিক জীবনে ফিরে এসেছে স্বস্তি।
তিনি বলেন, অটোমেশনের ফলে জনগণকে ভূমিসেবা পেতে এখন আর সরাসরি ভূমি অফিসে যেতে হয় না। ঘরে বসে বা অনলাইনে এ সেবা পাওয়া যাচ্ছে। সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয় এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর (ডিএলআরএস) ভূমি ব্যবস্থাপনাকে ধাপে ধাপে ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসছে,ফলে অনলাইনে নামজারি আবেদন, ই-নামজারি নিষ্পত্তি, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, খতিয়ান ও মৌজা ম্যাপ সংগ্রহ, অভিযোগ দাখিল এবং ভূমি সংক্রান্ত তথ্য যাচাই, সবকিছুই এখন এ্যপের মাধ্যমে করা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, অটোমেশনের ফলে মানুষ ভূমির যে সেবা পাচ্ছে, তার ডাটাবেজ সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে জিআইএস প্রযুক্তির মাধ্যমে মানচিত্রভিত্তিক জমির তথ্য দেখার সুবিধা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে ভূমি সেবা বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেয়া হয়। মেলায় স্টল দিয়ে অংশ গ্রহনকারী এবং সেবা প্রদানকারীদেরকেউ পুরস্কৃত করা হয়।##

