শাহবাগ থানায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা,ছাত্রদলের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত ঢাবি সাংবাদিক সমিতির

সেখ রাসেল,দপ্তর সম্পাদক:
রাজধানীর শাহবাগ থানায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি। একই সঙ্গে সারাদেশে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বানও জানানো হয়। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি মানজুর হোছাঈন মাহি বলেন, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর স্বাধীন সাংবাদিকতার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, সাম্প্রতিক ধারাবাহিক ঘটনাগুলো তা প্রশ্নবিদ্ধ করছে। গত দুই দিনে সাংবাদিকদের হেনস্তা এবং সর্বশেষ শাহবাগ থানায় সরাসরি হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তিনি আরও বলেন, একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার খবর পেয়ে সাংবাদিকরা শাহবাগ থানায় গেলে ভিডিও ধারণের সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বাধা দেয়। প্রতিবাদ জানালে সাংবাদিকদের ধাক্কা দেওয়া হয় এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। পরবর্তীতে ১৫০ থেকে ২০০ জনের একটি দল মব তৈরি করে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়।

তিনি জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার খবর পেয়ে সাংবাদিকরা শাহবাগ থানায় যান। সেখানে ভিডিও ধারণ করতে গেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বাধা দেয়।

প্রতিবাদ জানালে তাকে ধাক্কা দেওয়া হয় এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। পরবর্তীতে একটি ‘মব’ তৈরি করে ১৫০-২০০ জন নেতাকর্মী সাংবাদিকদের ওপর হামলে পড়ে।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলাম বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে থাকাকালে পুলিশের ভূমিকা ছিল নীরব। আমাদের ওপর হামলার পরই পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়।”

তিনি দাবি করেন, পূর্বের ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতায় এটি সাংবাদিকদের জন্য একটি স্পষ্ট ‘থ্রেট’ (হুমকি)।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, হামলায় অন্তত ১০-১২ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর জখম হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতদের মধ্যে সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিজেও রয়েছেন।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সংবাদ সম্মেলন শেষে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান নেতারা। এ ছাড়াও আগামীকাল সকাল ১০টায় হামলাকারীদের ছাত্রত্ব বাতিলের জন্য উপাচার্য বরাবর স্মারক লিপি জমা দেয়া হবে বলে জানান তারা।

সমিতির পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়—হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে হবে। জড়িত যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করতে হবে। সারাদেশে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশের ভূমিকা ছিল নীরব। তাদের উপস্থিতিতেই পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটে এবং হামলা তীব্র হয়। তিনি এটিকে সাংবাদিকদের জন্য একটি স্পষ্ট ‘থ্রেট’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ ঘটনায় অন্তত ১০ থেকে ১২ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন। আহতদের মধ্যে সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিজেও রয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি তিন দফা দাবি উত্থাপন করেছে-হামলায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেফতার, জড়িত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবিলম্বে বহিষ্কার, এবং সারাদেশে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করা।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এছাড়া সংবাদ সম্মেলন শেষে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে শাহবাগ থানার ভেতরে সংবাদ সংগ্রহের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্তত ১০ জন সাংবাদিক হামলার শিকার হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *