শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক

Garments-Worker-77yy66jjjসাভার (ঢাকা): সাভারে বকেয়া বেতনের দাবিতে একটি ফার্নিচার তৈরির কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে আহত হয়েছে অর্ধশতাধিক শ্রমিক।
মঙ্গলবার বিকেলে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের খাগান এলাকার অটবি ফার্নিচার তৈরির কারখানায় এ সংঘর্ষ হয়।
আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়াও শ্রমিকদের আন্দোলনে উসকে দেয়ার অভিযোগে খাগান এলাকার এক দোকানি মনির হোসেন ও কারখানার তিন শ্রমিক বাদল, হাসান ও রবিউল আউয়ালকে আটক করেছে পুলিশ।
শ্রমিক ও পুলিশ সূত্র জানায়, সাভারে অটবি ফার্নিচার তৈরির কারখানার শ্রমিকদের গত দেড় মাসের বকেয়া বেতন দিতে তালবাহান করে আসছিল কর্তৃপক্ষ। এক পর্যায়ে মঙ্গলবার সকালে শ্রমিকদের বেতন দেয়ার কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষের কোনো সাড়া না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে শ্রমিকরা। কারখানার আটশ’ শ্রমিক ভেতরে ঢোকার পর থেকেই কাজে যোগ না দিয়ে কর্মবিরতি শুরু করে। পরে বিকেলের দিকে কারখানা কর্তৃপক্ষ আগামী ২০ মে শ্রমিকদের বেতন দেয়ার কথা বলায় আরো ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে শ্রমিকরা।
এক পর্যায়ে শ্রমিকরা উত্তেজত হয়ে দ্রুত বেতন দেয়ার দাবি জানিয়ে কারখানার ভেতরে ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জ শুরু করলে তারা কারখানার বাইরে অবস্থান নেয়। এসময় শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়লে উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে এসময় কারখানার অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হয়। পরে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ এসে টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও লাঠিচার্জ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ব্যাপারে আশুলিয়া শিল্প পুলিশের পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে কারখানার ভেতরে ব্যাপক ভাঙচুর চালালে লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়। এছাড়াও যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কারখানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
মোস্তাফিজুর রহমান আরো জানান, শ্রমিকদের আন্দোলনে উসকে দেয়ার অভিযোগে খাগান এলাকার এক দোকানদার মনির হোসেন ও কারখানার তিন শ্রমিক বাদল, হাসান ও রবিউল আউয়ালকে আটক করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত কয়েক মাস আগে অটবি কারখানায় আগুন লেগে দোতলা কারখানার পুরোটাই পুড়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *