বটিয়াঘাটা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে “জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস” পালিত
সেখ রাসেল, বিভাগীয় ব্যুরো চিফ, খুলনা:
নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে খুলনার বটিয়াঘাটায় পালিত হয়েছে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। অনুষ্ঠানটি উজেলা নির্বাহী অফিসার থান্দার কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে উপজেলা অডিটরিয়মে অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য এর পক্ষ থেকে বটিয়াঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খন্দকার ফারুক হোসেন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ ফজলে রাব্বী সহকারী কমিশনার ভূমি বটিয়াঘাটা, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এজাজুর রহমান শামীম, খুলনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের আহবায়ক ও সাংবাদিক বীর মুুক্তিযোদ্ধা কামরুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌস শেখ বটিয়াঘাটা, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার সেলিম সুলতান, উপজেলা প্রকৌশলী গৌতম কুমার মন্ডল, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহিদুর রহমান, কৃষি অফিসার আবু বক্কর সিদ্দিক সহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা গণ, বিভিন্ন স্কুল থেকে আসা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্টনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
১৯৭৫ সালের এই দিনে সংঘটিত সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান, তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের বন্দিদশা থেকে মুক্তি এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে পরবর্তী পরিবর্তনের ঘটনাপ্রবাহ গভীরভাবে স্মরণ করা হয়।
০৩ নভেম্বরে সামরিক অভ্যুত্থানের পর সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে ঢাকা সেনানিবাসে গৃহবন্দি করা হয়। পরবর্তী সময়ে ৬ নভেম্বর দিবাগত রাত থেকে ৭ নভেম্বরের প্রথম প্রহরে সেনানিবাসে সিপাহিদের বিদ্রোহ শুরু হয়। একপর্যায়ে সিপাহিরা জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করেন। সেনাসদস্যদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে ঘটনাটি সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান হিসেবে পরিচিতি পায়।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা:
৭ নভেম্বরের ইতিহাস আলোচনায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি একজন সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারেও তাঁর ভূমিকা ছিল। মুক্তিযুদ্ধের পর সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে তিনি বন্দি হন এবং ৭ নভেম্বর সিপাহিদের অভ্যুত্থানে মুক্তি পান।
কেন পালন করা হয় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস?
৭ নভেম্বরকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালনের মূল তাৎপর্য হলো ১৯৭৫ সালের সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান, সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার অবসানের প্রত্যাশা এবং জাতীয় জীবনে ঐক্য ও সংহতির বার্তাকে স্মরণ করা। বিএনপি দিনটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পালন করে। দলটির ঐতিহাসিক ব্যাখ্যায়, এদিনের ঘটনা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয়তাবাদী চেতনা ও বহুদলীয় রাজনীতির অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
তবে ইতিহাসের নিরপেক্ষ মূল্যায়নে ৭ নভেম্বরের ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষ ও ইতিহাসবিদের ভিন্ন ব্যাখ্যার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। কারও কাছে এটি সিপাহী-জনতার বিপ্লব ও সংহতির প্রতীক, আবার কারও কাছে এটি ১৯৭৫ সালের ধারাবাহিক সামরিক অভ্যুত্থান ও ক্ষমতার পালাবদলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

