কলেজ ছাত্রীকে ইভটিজিং ও প্রকাশ্যে শ্লীলতাহানির হুমকি; ইউএনও ও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের

আদমদীঘি প্রতিনিধি:
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার সরকারি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীকে (১৮) শ্লীলতাহানীর হুমকি, ইভটিজিং, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও মানহানিকর প্রচারণার অভিযোগে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী নিজে বাদী হয়ে তার জীবনের নিরাপত্তার চেয়ে গত (১২ অক্টোবর) সোমবার আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং থানায় পৃথক পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, সান্তাহার সরকারি কলেজে যাওয়া-আসার সময় দীর্ঘদিন ধরে ওই ছাত্রী সহ অন্যান্য শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ভাবে সান্তাহার সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মাহাবুব আলমের নেতৃত্ব অন্তর, মিজান, আরাফাত বিভিন্ন ভাবে উত্যক্ত ও ইভটিজিং করে আসছে। অভিযোগে আরও উল্লেখ্য রয়েছে যে, উক্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ইতিপূর্বেও একাধিক ছাত্রীর সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা, ইভটিজিং করা এবং মানসিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার সাথে জড়িত ছিল।
পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ, অশালীন ও ভিত্তিহীন পোস্ট, মন্তব্য এবং বার্তা ছড়িয়ে মানহানিকর কর্মকাণ্ড করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত (২৪ সেপ্টেম্বর) বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে সান্তাহার সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে অভিযুক্তরা তার পথরোধ করে। এ সময় তাকে প্রকাশ্যে শ্লীলতাহানির হুমকি দেওয়া এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এতে করে সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ভুক্তভোগী। ঘটনার পর থেকে ওই ছাত্রী নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য নিজের নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক সহ অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে) আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন পোস্ট, কমেন্ট ও মেসেজের মাধ্যমে আমার সম্পর্কে অত্যন্ত অশীল, কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর মন্তব্য ছড়িয়ে দিচ্ছে। অভিযুক্তদের ক্রমাগত হুমকির দাপটের কারণে এবং নিজের ব্যক্তিগত জীবনের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ইউএনও অফিস ও আদমদীঘি থানায় পৃথক পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি।
অভিযোগের বিষয়ে সান্তাহার সরকারি কলেজ শাখার ছাত্রদলের সভাপতি মাহাবুব আলমের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। রাজনৈতিক ভাবে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এমন মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে। সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক সিয়াম হোসেন জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাসুমা বেগম একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *