বটিয়াঘাটায় ইভটিজিংয়ের অভিযোগ ঘিরে সংঘর্ষ, গুলির শব্দ—ঘটনার নেপথ্যে রহস্য কী?
সেখ রাসেল, বিভাগীয় ব্যুরো চিফ, খুলনা
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার ৬ নম্বর বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের ফুলবাড়ী (বদ্ধি বাড়ী) গ্রামে এক স্কুলছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বালিয়াডাঙ্গা (মোল্যা বাড়ী/মসজিদ বাড়ী) গ্রামে ০৬/১০/২০২৬ তারিখ দুপুর 12 টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ, হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে। পরবর্তী সময়ে বাড়িতে হামলার অভিযোগ এবং গুলির শব্দ শোনা ও দেখার দাবিও উঠেছে। তবে গুলির ঘটনাটি নিয়ে এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটির সূত্রপাত ঘটেছে তার আরও ২/৩ আগে থেকে ক্রামগত ঘটনারই রূপ।
দু’পক্ষের সাথে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফুলবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল ইসলামের নাতি অর্থাৎ লবনচরা এলাকার আশরাফুল ও রানী বেগমের কন্যা রিমি খাতুন (১৫) ফুলবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে নানাবাড়িতে তার মামা সাগর ফকিরদের বাড়ী থেকে লেখাপড়া করে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সম্প্রতি স্কুলে যাওয়ার পথে রিমিকে ইভটিজিং করা হয়েছে—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে তার পরিবারের পক্ষ থেকে সন্দেহ করা হয় বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের শিমুল মোল্যা ও খাদিজা বেগমের ছেলে ফাহিমকে (১৫) কে। এ নিয়ে একপর্যায়ে রিমি খাতুন এর নানা ফাহিমকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান।
বিষয়টি ফাহিমের দাদা মিজান মোল্যা জানতে পেরে রিমির নানার সঙ্গে কথা বলতে গেলে উভয় একে অপরের বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
এরপর সাগর ফকিরসহ কয়েকজন বালিয়াডাঙ্গা এলাকায় ফাহিমদের বাড়িতে গেলে সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও মারামারি হয় বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। ফাহিমের মা খাদিজা বেগম জানান সাগর ফকিরদের বসার জন্য চেয়ার এগিয়ে দিচ্ছিলেন—এমন পরিস্থিতিতেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বলে স্থানীয়রা জানান। সাগর ফকিরের মাথা ফেটে যায় এবং ফাহিমের চাচা সবুজ মল্লিক ও গুরুতর আহত হয়। এরপর সাগর পক্ষের লোকজন সেখান থেকে চলে যায়।
এরপরই কি ঘটেছিল?
স্থানীয় ও সাগর ফকিরদের দাবি, ঘটনার কিছু সময় পর শিমুল মোল্যা ৪টি মোটরসাইকেলে ৮ জন লোক নিয়ে ফুলবাড়ী এলাকায় সাগর ফকিরদের বাড়ির দিকে যান। সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন জানিয়েছেন।
একপর্যায়ে একটি গুলির শব্দ শোনা গেছে বলে দাবি করেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তবে ফুলবাড়ী এলাকার মিরাছুন শেখ ও খোকন শেখ গুলি করতে দেখেছেন বলে দাবি উঠেছে। খোকন শেখ এর ০১৭৫৮-৬৮৭৬০১ নম্বরে কয়েকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অপরদিকে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হওয়ার জন্য শিমুল মোল্যা তার ০১৯২৩-৪৯৪৪৯১ নং মুঠোফনে কয়েকবার ফোন দিয়েও সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি। যে কারণে ধোয়াসা থেকেই যাচ্ছে।
সাগর ফকির দাবি করেন, তার মা বাড়ি থেকে বের হলে তাকে লক্ষ্য করে হুমকি দেওয়া হয় এবং গলা থেকে চেন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। সাগর ফকিরের মা এবং স্ত্রী বলেন ছেলেকে বাচাতে তার মা “খেপা রাব্বী” নামে একজন ব্যক্তির হাত ধরে বসলে সে তার গলা থেকে চেন ছিনিয়ে নেয় এবং নাকের তা বেকে যায়। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে সেখান থেকে তারা পালিয়ে যায়।
এখানে একটি প্রশ্ন থেকে যায়, যদি তারা কাউকে মারার উদ্দেশ্যে যাবে তাহলে কেন চেন ছিনতাই করতে যাবে? আবার গুলির খোসা কুড়িয়ে নিয়ে চলে আসেন বলে দাবি করেন সাগর ফকিরের পরিবার। ঘটনার সাথে একটি গড়মিল রয়ে যায়। পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং শিমুল মোল্যা ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন সেখান থেকে চলে যান বলে স্থানীয়দের দাবি।
তবে কথিত ওই গুলির খোসা প্রশাসনের হাতে আসেনি এবং এর সত্যতাও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে প্রশাসনের সাথে কথা বললে জানা যায়, দু’পক্ষের ভাষ্য গড়মিল, তাছাড়া স্থানীয়রাও বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলছেন না।
আসল ঘটনা কী—জানতে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললে জানা যায়: ঘটনার শুরু থেকে পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে দু’পক্ষের এবং স্থানীয়দের বক্তব্যে ভিন্নতা পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ইভটিজিংয়ের অভিযোগ, প্রথম সংঘর্ষের কারণ, পরবর্তী সময়ে কারা কার বাড়িতে গিয়েছিলেন এবং গুলির শব্দের উৎস—এসব বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।
এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী, সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করা হচ্ছে না। বরং স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও ধারাবাহিকতা অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
তবে শুধুমাত্র দু’পক্ষের ভাষ্য, স্থানীয়দের ভাষ্যের উপর নির্ভর না করে বিভ্রান্ত না হয়ে প্রশাসনের উচিত প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা।

