বটিয়াঘাটায় আলফা এগ্রো প্লাস লি: কে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নগদ জরিমানা ও ৫টি গোডাউন সিল গালা করে বাহবা কুড়ালেন উপজেলা প্রশাসন
সেখ রাসেল, বিভাগীয় ব্যুরো চিফ, খুলনা:
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় নষ্ট ও পচা উপকরণ দিয়ে মাছ ও পশুর খাবার তৈরির অভিযোগে আলফা প্লাস এগ্রো লিমিটেডকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ৫টি গোডাউন সিলগালা করা হয়েছে। মোবাইল কোর্টের অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিম্নমানের ও পচা খাদ্যসামগ্রী জব্দ করে তা ধ্বংস করা হয়।
রোববার (৪ অক্টোবর) বটিয়াঘাটা উপজেলার ২ নম্বর বটিয়াঘাটা ইউনিয়নের কিসমত ফুলতলা এলাকায় বটিয়াঘাটা সরকারি টেকনিক্যাল কলেজের বিপরীতে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উক্ত প্রতিষ্ঠানের স্বত্তাধিকার কাজী মাহফুজুর রহমান এবং তার নিকট থেকে মৎস্য খাবার তৈরির জন্য ভাড়া নিয়েছে ইমরান যার মোবাইল নম্বর: ০১৭১০-৭৪৪৮৬৪।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার থান্দার কামরুজ্জামান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সেলিম সুলতান এবং বটিয়াঘাটা থানার এসআই কৌসিক সাহাসহ পুলিশের একটি দল, মিডিয়াদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বটিয়াঘাটা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সাংবাদিক ইমরান হোসেন ও যুগ্ম সম্পাদক সেখ রাসেল সহ আরও অনেকে।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে পচা ও নষ্ট উপকরণ ব্যবহার করে মাছের খাবার ও পশুখাদ্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল। নিয়ম অনুযায়ী মাছের খাবার ও পশুখাদ্য উৎপাদনের জন্য পৃথক লাইসেন্স এবং পৃথক উৎপাদন ব্যবস্থা থাকার কথা থাকলেও সেখানে একই স্থানে বিভিন্ন নামে এসব খাদ্য উৎপাদন করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
অভিযানকালে গোডাউনে থাকা খাদ্যসামগ্রীর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক বলে দেখা যায়। পচা ও নষ্ট উপকরণে পোকামাকড় সৃষ্টি হয়ে গোডাউনে দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে বিপুল পরিমাণ প্যাকেট ও বস্তা পাওয়া গেলেও অনেক বস্তায় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা বা প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ ছিল না।
অভিযানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ১১ ধরনের খাদ্যপণ্য শনাক্ত করা হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১। মা ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ, ২। আল-আমিন ফিড, ৩। এস,এস কার্প গ্রোয়ার, ৪। হাইপার এগ্রো কার্প, ৫। সুপার স্টার ফিড, ৬। উইনার এগ্রো ফিড, ৭। এস আর টেক ফিড, ৮। মা চিংড়ি ফিড, ৯। রূপায়ন ফিস ফিড, ১০। গফফার সুপার স্টার, ১১। আয়ান এগ্রো ফিড।
মোবাইল কোর্ট চলাকালে মাটি খুঁড়ে ২৮০+১১টি, মোট ২৯১ বস্তা, অর্থাৎ প্রায় ৭ হাজার ২৭৫ কেজি খাদ্যসামগ্রী বের করা হয়। পরে এসব পণ্য পানি দিয়ে ভিজিয়ে নষ্ট করে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়।
ধ্বংস করা খাদ্যসামগ্রীর আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ লাখ ৭১ হাজার ৫০০ টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা এবং অতিরিক্ত ১৬ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের খাদ্যসামগ্রী রয়েছে বলে অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান।
অভিযান শেষে আইন অমান্য করে পরিচালিত কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানটির ৫টি গোডাউন সিলগালা করে দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বিভিন্ন নামে নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রী উৎপাদন ও বাজারজাতের কার্যক্রম চলছিল। মোবাইল কোর্টের এ অভিযানে জনস্বাস্থ্য, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্যসম্পদের জন্য ক্ষতিকর এমন কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

