বটিয়াঘাটায় গোবিন্দ বাড়ৈয়ের মৃত্যু কি রহস্যই থেকে যাবে? পর্ব-৪
সেখ রাসেল, বিভাগীয় ব্যুরো চিফ, খুলনা।
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার কিসমত ফুলতলা গ্রামের সিলিন্দামারী এলাকার মৃত হরিপদ বাড়ৈয়ের ছেলে গোবিন্দ বাড়ৈয়ের মৃত্যুর ঘটনা কি শেষ পর্যন্ত রহস্যই থেকে যাবে? ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এখনও আসেনি, ১৪ দিনেও শনাক্ত হয়নি আসামি—দাহ নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন? মামলায় এখনো কোনো আসামি শনাক্ত না হওয়ায় নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
প্রকৃত কারণ উদঘাটনের কাজে থানা পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার আগেই কিছু ব্যক্তি জোর গলায় বলে বেড়াচ্ছেন—গোবিন্দ বাড়ৈ স্ট্রোক করে মারা গেছেন। কিন্তু ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশের আগেই কীভাবে তারা মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এমন নিশ্চিত বক্তব্য দিচ্ছেন—এ নিয়েই দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।
গোবিন্দ বাড়ৈ সম্পদশালী ব্যক্তি ছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি। তার মৃত্যুর পর মরদেহ দ্রুত দাহ করার বিষয়টিও স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রে বিশেষ পরিস্থিতিতে মৃতদেহ সমাহিত করার বিধান রয়েছে বলেও স্থানীয়দের কেউ কেউ উল্লেখ করছেন। তাহলে কেন তড়িঘড়ি করে মরদেহ দাহের অনুমতি নেওয়া হলো—এ প্রশ্নও উঠছে।
স্থানীয়দের একাংশের প্রশ্ন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশের আগেই যদি মৃত্যুর কারণ নিয়ে নির্দিষ্ট বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে এর পেছনে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাছাড়া স্ট্রোক করলে মাথায় আঘাত ও সেখান থেকে রক্ত ঝরতো না। যখন মাথায় এতো বড় আঘাতের চিহ্ন ও রক্ত ঝরেছে তাহলে হত্যা হতেও পারে। এমনকি কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পরিবর্তনের কোনো চেষ্টা হচ্ছে কি না কিংবা কোনো মহল থেকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে কি না—তাও তদন্তের আওতায় আসা উচিত।
অপরদিকে, এজাহার অনুযায়ী গোবিন্দ বাড়ৈয়ের মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার ১৪ দিন পেরিয়ে গেলেও থানা পুলিশ কিংবা সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখনো প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি বলে জানা গেছে। কোনো আসামি শনাক্ত না হওয়া এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ না পাওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
আরও একটি বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—গোবিন্দ বাড়ৈয়ের স্ত্রী পলি মল্লিক নিজেই যদি ঘটনাটিকে হত্যা হিসেবে উল্লেখ করে এজাহার দায়ের করে থাকেন, তাহলে কেন মরদেহ সমাহিত না করে দ্রুত দাহ করা হলো? এই সিদ্ধান্তের পেছনে কী কারণ ছিল, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
গোবিন্দ বাড়ৈয়ের মৃত্যু স্বাভাবিক, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—এখন সেই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্তের অগ্রগতির ওপর।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গোবিন্দ বাড়ৈয়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তবে স্থানীয়দের একাধিক প্রশ্নের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জবাব মিলবে—এমন প্রত্যাশাই এখন এলাকাবাসীর।
তবে এসব অভিযোগ বা আশঙ্কার সত্যতা এখনো নিশ্চিত নয়। প্রকৃত সত্য জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি। আইন একটি পবিত্র বিষয়। যদি কেউ তা খেয়ানত করে তাহলে কেয়ামতের দিন তাকেও বিচারের কাঠগড়ায় দাড়াতে হবে তায় নয়, শান্তিও পেতে হবে।

