বটিয়াঘাটা শ্রমিক দলের আহবায়কের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

সেখ রাসেল, বিভাগীয় ব্যুরো চিফ, খুলনা:
খুলনার বটিয়াঘাটায় বিএনপির অঙ্গসংগঠন শ্রমিক দলের বটিয়াঘাটা সদর ইউনিয়ন এর শ্রমিক দলের আহবায়ক এর কাছ থেকে বিভিন্ন কাজের কথা বলে প্রায় প্রায় ২০ লাখ ৪২ হাজার ১০৩ টাকা নেওয়া এবং পরবর্তীতে ওই টাকা ফেরত চাইলে ভয়ভীতি ও জীবননাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. হেলাল শেখের বিরুদ্ধে, তার বাড়ী বটিয়াঘাটা উপজেলার নদীর ওপার ছোট কড়িয়া। এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় তদন্ত দাবি করেছেন তিনি।

এ অভিযোগ করেছেন ০২ নম্বর বটিয়াঘাটা সদর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. ইউনুস হাওলাদার। এ বিষয়ে তিনি শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বটিয়াঘাটা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

লিখিত বক্তব্যে মো. ইউনুস হাওলাদার দাবি করেন, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজ ও প্রয়োজনের কথা বলে মো. হেলাল শেখ তার কাছ থেকে একাধিক ধাপে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ঢাকা হাইকোর্ট বাবদ ৪ লাখ ১১ হাজার টাকা, জে,এল ৮ নং হোগলবুনিয়া মৌজায় বোরো ফিট বাবদ ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৩৫১ টাকা, হেতালবুনিয়ার জমি বিক্রয় বাবদ ৩২ হাজার টাকা, মংলায় বালি তোলার কাজ বাবদ ৫৫ হাজার টাকা, গুপ্তমারী চর বন্দোবস্ত বাবদ ৬০ হাজার টাকা, গুপ্তমারী শশার কাজ বাবদ ৩২ হাজার ৫০০ টাকা এবং বগুড়ার ব্যবসা বাবদ ৫৮ হাজার ৬২ টাকাসহ বিভিন্ন খাতে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এছাড়া রবিউল ইসলামের কাছ থেকে ৫০ হাজার, শংকর মল্লিকের কাছ থেকে ২ লাখ ১৭ হাজার, শংকর মল্লিকের হোগলবুনিয়ার জমি বাবদ ১ লাখ ৬ হাজার ৭৬০, মিলন ভাই (সাচিবুনিয়া) এর কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে যোগাযোগ, দলীয় কার্যক্রম, মাছ ক্রয়, পার্টি, অফিস ভাড়া, চেয়ার, হোটেল খরচসহ বিভিন্ন খাতে আরও অর্থ নেওয়া হয়েছে বলে লিখিত বক্তব্যে দাবি করেন অভিযোগকারী বটিয়াঘাটা সদর ইউনিয়ন এর শ্রমিক দলের আহবায়ক ইউনুস হাওলাদার।

তার লিখিত হিসাব অনুযায়ী, ইজিবাইক ভাড়া বাবদ ২৫৫ দিন × ৫০০ টাকা হিসাবে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ টাকাসহ মোট ২০ লাখ ৪৫ হাজার ১০৩ টাকা বিভিন্ন পর্যায়ে গ্রহণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ইউনুস হাওলাদারের অভিযোগ, পাওনা টাকা ফেরত চাইলে দেনাদার বটিয়াঘাটা উপজেলা শ্রমিক দলের আহবায়ক মো. হেলাল শেখ তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জীবননাশের হুমকি দেন। এমনকি নিজেকে এমপি হিসেবে পরিচয় দেওয়ারও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি ও তার পরিবার আর্থিকভাবে চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ইউনুস হাওলাদার আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে এবং তার বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে একাধিক রাজনৈতিক মামলা হয়। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিজের আর্থিক সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের পর থেকে বটিয়াঘাটা সদর ইউনিয়নে দলীয় কার্যক্রম ও বিভিন্ন সমাবেশে তিনি নিজ খরচে অংশগ্রহণ করেছেন এবং ইউনিয়ন শ্রমিক দলের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন ব্যয়ও বহন করেছেন।

তিনি বলেন, বিপুল অর্থ আটকে যাওয়ায় বর্তমানে তার পক্ষে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অর্থের অভাবে তিনি অনেকটা অসহায় অবস্থায় রয়েছেন এবং তার পরিবারও আর্থিক সংকটে পড়েছে।

ইউনুস হাওলাদার আরও দাবি করেন, তিনি বটিয়াঘাটা সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি। তার বড় ভাই আব্দুল নাসির হাওলাদার (কালু) বটিয়াঘাটা সদর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। এ সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্যও তাকে চাপ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মো. ইউনুস হাওলাদার তার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে পাওনা অর্থ উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, তাকে ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং হুমকির ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

তবে এ বিষয়ে মো. হেলাল শেখের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। কয়েকবার ০১৯৮১-৯৪৭৩৬৮ ফোন নম্বরে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে। সংবাদ সম্মেলনে মো. ইউনুস হাওলাদার নিজেকে ০২ নম্বর বটিয়াঘাটা সদর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের আহ্বায়ক হিসেবে পরিচয় দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *