শাপলা থেকে লালদীঘি—বিচার ও গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলের লংমার্চ ‘শাপলা, পিলখানা ও চব্বিশের গণহত্যার বিচার আদায় করে ছাড়ব’: ডা. শফিকুর রহমান
সেখ রাসেল, দপ্তর সম্পাদক:
শাপলা থেকে লালদীঘি, রাজপথে ১১ দল। ‘শাপলা, পিলখানা ও চব্বিশের গণহত্যার বিচার আদায় করে ছাড়ব’: ডা. শফিকুর রহমান। গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি | সরকারের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ | বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, জ্বালানি সংকট নিরসন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ ছয় দফা দাবিতে রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রামের লালদীঘি অভিমুখে লংমার্চ শুরু করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। শনিবার সকাল ৭টায় শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশের পর চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে লংমার্চের বহর।
লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শাপলা চত্বর, পিলখানা ও ২০২৪ সালের জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তিনি বলেন, পিলখানায় নিহত ৫৭ সেনা কর্মকর্তার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের এবং আয়নাঘর ও জল্লাদখানা তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিচার আদায় করে ছাড়বেন।
তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। বিরোধী দলকে কোনো ধরনের লোভ বা টোপ দিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়নের দাবিতে প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে। তাঁর দাবি, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, অপরাধ, আধিপত্যবাদ ও রাজনৈতিক অনিয়মের বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
ছয় দফায় সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ : ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত ছয় দফার মধ্যে রয়েছে—গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ।
জোটের নেতাদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। দ্রব্যমূল্য, জ্বালানি সংকট, আইনশৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার—একাধিক ইস্যুতে সরকারের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। ফলে সরকারের ‘ব্যর্থতা’ নিয়ে বিরোধী জোটের অভিযোগকে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
লালদীঘিতে বড় সমাবেশের প্রস্তুতি : ঢাকা থেকে শুরু হওয়া লংমার্চের পথে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর, কুমিল্লার পদুয়া বাজার, ফেনীর মহীপাল ও মীরসরাইয়ে পথসভা হওয়ার কথা রয়েছে। কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
এর মধ্য দিয়ে শাপলা চত্বর থেকে লালদীঘি পর্যন্ত ১১ দলীয় ঐক্যের এই কর্মসূচি শুধু একটি রাজনৈতিক লংমার্চেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং গণভোটের রায়, জুলাই গণহত্যার বিচার, দ্রব্যমূল্য ও আইনশৃঙ্খলাসহ সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির সমন্বিত চাপ সৃষ্টির প্রচেষ্টা হিসেবে সামনে এসেছে।
লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শাপলা চত্বর, পিলখানা ও ২০২৪ সালের জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা থামবেন না। পিলখানায় নিহত ৫৭ সেনা কর্মকর্তার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং আয়নাঘর ও জল্লাদখানা তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের বিচার দাবি করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা ও সংস্কারে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে তারা মনে করেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে রাজপথের আন্দোলন আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
লংমার্চকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের কথা জানিয়েছে আয়োজকরা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, লালদীঘির সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান ও ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের বক্তব্যে পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে।

