খুলনায় ডেঙ্গু-হামের ভয়াবহ থাবা। ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ২ ও হামে ১ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ১৭৮ রোগী

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:

খুলনা বিভাগে উদ্বেগজনকভাবে অব্যাহত রয়েছে ডেঙ্গু ও হামের প্রাদুর্ভাব। একদিকে প্রতিদিন বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা, অন্যদিকে হামের সংক্রমণও ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন এলাকায়। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন এসব তথ্য জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে নতুন করে ১৪৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সর্বোচ্চ ৮৫ জন এবং খুলনা জেলা হাসপাতালে ৪৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া দুজনই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। নতুন রোগী ভর্তি এবং মৃত্যুর ফলে বিভাগজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৬৪৯ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩২২ জনে। এ সময়ে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের।

হামের সংক্রমণেও বাড়ছে উদ্বেগ
ডেঙ্গুর পাশাপাশি খুলনা বিভাগে হামের সংক্রমণ নিয়েও স্বাস্থ্য বিভাগে উদ্বেগ বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৩৩ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন।

এ সময়ে খুলনা জেলায় সন্দেহভাজন হামে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের হাম সংক্রান্ত পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত খুলনা বিভাগে মোট ১০ হাজার ৮৯ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩৬৫ জন।

একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫ জনে।

একই সঙ্গে দুই রোগের চাপ
ডেঙ্গু ও হামের সংক্রমণ একসঙ্গে অব্যাহত থাকায় খুলনা বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টার হিসাবেই ডেঙ্গু ও সন্দেহভাজন হাম মিলিয়ে ১৭৮ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি হামের সংক্রমণ রোধে দ্রুত শনাক্তকরণ, আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা এবং টিকাদান কার্যক্রম আরও কার্যকর করা জরুরি।

একই সঙ্গে জ্বর, শরীরব্যথা, র‍্যাশসহ ডেঙ্গু বা হামের সম্ভাব্য উপসর্গ দেখা দিলে রোগীকে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

খুলনা বিভাগে একদিকে ডেঙ্গুর বিস্তার এবং অন্যদিকে হামের সংক্রমণ—দুই রোগের সমান্তরাল চাপ জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিনের নতুন রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে তুলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *