হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে এনসিপি নেতাদের পুলিশি বাধা, ‘বাহ পুলিশ, চমৎকার! সন্ত্রাসের পাহারাদার’ স্লোগানে নতুন বিতর্ক
সেখ রাসেল, দপ্তর সম্পাদক:
জুলাই যোদ্ধাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে হবিগঞ্জগামী নেতাদের পথরোধ; পুলিশের ভূমিকা নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহর সমালোচনা, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়েছে পুলিশ। এতে করে পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে জন সাধারণ। অধিকাংশদের মন্তব্য বাংলাদেশ পুলিশ কি নিরপেক্ষ হয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারবেনা। অপরদিক কেউ কেউ বলছেন, মুক্তিযোদ্ধারা সম্মানের কিন্তু তাদের কিছু যোদ্ধাদের অতিরঞ্জিতের ফলে ঘৃনার চোখে দেখে তেমনি এনসিপিও ২৪ কে বিক্রী করে চলেছে, অনেক এনসিপি নেতারা রাতা রাতি সম্পদের পাহাড় জমাচ্ছে।
হবিগঞ্জে জুলাই যোদ্ধাদের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদ ও আহতদের খোঁজখবর নিতে যাওয়ার পথে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর একাধিকবার পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। এ সময় দলের মুখ্য সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ পুলিশের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “বাহ পুলিশ, চমৎকার! সন্ত্রাসের পাহারাদার।” তাঁর এ বক্তব্যের পর উপস্থিত নেতাকর্মীরাও একই স্লোগান দেন। ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া এনসিপির গাড়িবহরকে কয়েক দফায় থামিয়ে দেয় পুলিশ। সর্বশেষ হবিগঞ্জের মিরপুর এলাকায় পথরোধ করা হলে হাসনাত আব্দুল্লাহসহ দলের নেতারা মহাসড়কে অবস্থান নেন এবং পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
এ সময় হাসনাত আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেন, হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার না করে ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়াতে যাওয়া রাজনৈতিক নেতাদের চলাচলে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, যারা নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের উচিত হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনা। কিন্তু বাস্তবে আক্রান্তদের সহায়তায় যাওয়া ব্যক্তিদেরই বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি থাকলেও শ্রীমঙ্গলসহ অন্যান্য এলাকায় তাদের চলাচলে কেন বাধা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, বিষয়টি সম্পর্কে পুলিশের কাছ থেকে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে তিনি পুলিশের উদ্দেশে বলেন, হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করে জনপ্রতিনিধিদের পথরোধ করা গ্রহণযোগ্য নয়। পরে তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে “বাহ পুলিশ, চমৎকার! সন্ত্রাসের পাহারাদার” স্লোগান দেন।
অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল সার্কেল) মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণেই এনসিপি নেতাদের চলাচলে সাময়িকভাবে বাধা দেওয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, পরিস্থিতির অবনতি এড়ানো এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল পুলিশের উদ্দেশ্য।
উল্লেখ্য, এর আগে হবিগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে স্থানীয় প্রশাসন হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। ওই ঘটনার প্রতিবাদ এবং আহতদের খোঁজ নিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা হবিগঞ্জে যাচ্ছিলেন বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।
ঘটনার সময়: ২৯ জুলাই, ২০২৬ (বুধবার), বিকেল আনুমানিক ৪টা।
মূল উদ্দেশ্য: হবিগঞ্জে তাঁদের আক্রান্ত কর্মীদের পক্ষে মামলা করতে এবং সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শনে যাচ্ছিলেন এনসিপি নেতারা।
পুলিশের যুক্তি: আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার স্বার্থে এবং হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি থাকায় তাঁদের শ্রীমঙ্গলে আটকে দেওয়া হয়।
হাসনাতের প্রতিক্রিয়া: তিনি পুলিশকে লক্ষ্য করে বলেন, “আপনারা যদি রাজনীতি করতে চান, তবে পুলিশের পোশাক খুলে ব্যানার নিয়ে রাজনীতি করেন”। এরপরই তিনি এই ব্যঙ্গাত্মক ও প্রতিবাদের স্লোগানটি দেন।
এদিকে, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্য ও স্লোগানকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

