ঝিনাইদহে সার না পেয়ে ডিলার পয়েন্ট ঘেরাও কৃষি অফিসের ব্যবস্থাপনায় সার বিতরণ

সাইফুল ইসলাম ঝিনাইদহ সংবাদদাতা-
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সার না পেয়ে ডিলার পয়েন্ট ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। পরে কৃষি অফিসের ব্যবস্থাপনায় কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হয়। তবে এ সময় ডিলার শহিদুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।
রোববার সকালে কালীগঞ্জ উপজেলার জামাল ইউনিয়নের দুধরাজপুর গ্রামের ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। শহিদুল ইসলাম উপজেলার জামাল ইউনিয়নের নির্ধারিত ডিলার। তার দাবি, তিনি সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করে দিয়েছেন। এখন আর তার কাছে কোনো সার নেই।
কৃষকদের দাবি, তাদের রোববার সার দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত দিনে তারা ডিলার পয়েন্টে এসে জানতে পারেন, শুক্রবার ও শনিবার সার বিতরণ হয়ে গেছে। তাই রোববার আর সার দেওয়া হবে না। এ সময় সেখানে উপস্থিত কৃষকরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। পরে আরও কৃষক সেখানে আসেন। একপর্যায়ে ডিলার পক্ষের সহযোগিতায় গোডাউন খুলে সেখানে প্রায় ৬০ বস্তা সার দেখতে পান কৃষকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডিলার শহিদুল ইসলামের চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ৬৪ টন সারের চাহিদা ছিল। তিনি প্রথম সপ্তাহে ৫৮ টন সার উত্তোলন করেছেন। ৫৮ টন সারে বস্তা হয় প্রায় ১ হাজার ২০০টি। সেখানে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা ডিলার পয়েন্টে থাকা সার বিতরণ রেজিস্টার পর্যালোচনা করে দেখতে পান, বিতরণকৃত সারের তালিকায় মাত্র ৫ শতাংশ ফোন নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯ জন কৃষককে ফোন দেওয়া হলে একজন জানান, তিনি সার পেয়েছেন। বাকি ৮ জনের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত জামিল জানান, যে সার আছে তা কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসের ব্যবস্থাপনায় আরও সার আনা হচ্ছে, যা কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। এছাড়া সার বিতরণের রেজিস্টার পরীক্ষা করা হচ্ছে, কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

চলতি আমন ধানের ভরা মৌসুমে চাহিদামতো সার না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। ইউরিয়া সারের পাশাপাশি টিএসপি ও ডিএপি সারের জন্যও কৃষকদের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর সকালে জেলার শৈলকুপার গাড়াগঞ্জ বাজারে সার না পেয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কৃষকরা। সকালে উপজেলার গাড়াগঞ্জ পুরাতন বাজারের সার ডিলার শুভ এন্টারপ্রাইজে সার নিতে আসেন স্থানীয় কৃষকরা। এ সময় ডিলার সার দিতে অস্বীকৃতি জানালে কৃষকরা গাড়াগঞ্জ-শৈলকুপা সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করেন।

সম্প্রতি চাহিদামতো সার না পাওয়ার বিষয়টি সামনে এলেও জেলা কৃষি বিভাগ ও বাফার গোডাউন কর্তৃপক্ষ বলছে, জেলায় সারের যথেষ্ট মজুদ রয়েছে। প্রতিমাসের চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ অনুযায়ী ডিলাররা সার উত্তোলন করছেন। তবে কৃষকদের অভিযোগ, ডিলার পয়েন্টে চাহিদামতো সার মিলছে না। কিন্তু বেশি দাম দিলে খোলা বাজারে সারের অভাব নেই।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে অবস্থিত বাফার গোডাউনের ইনচার্জ অহিদুর রহমান জানান, ডিলার শহিদুল ইসলাম চলতি মাসের চাহিদার ৬৪ টনের মধ্যে ৫৮ টন সার উত্তোলন করেছেন। সারের মজুদ, আমদানি ও বিতরণ সম্পর্কে তিনি জানান, ইউরিয়া সারের মজুদ, আমদানি ও বিতরণে কোনো ধরনের ঘাটতি বা অনিয়ম নেই। কালীগঞ্জের এ সার গোডাউন থেকে ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় ১২৬ ডিলারের মাধ্যমে ইউরিয়া সার বিতরণ করা হয়।

সেপ্টেম্বর মাসে ইউরিয়া সারের চাহিদা রয়েছে ১০ হাজার ৩৭৩ মেট্রিক টন। গত বছরের একই মাসে ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ৯ হাজার ৫২১ মেট্রিক টন।
অভিযুক্ত ডিলার শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি যে সার উত্তোলন করেছিলেন তা বিতরণ করা হয়েছে। বিতরণকৃত সারের রেজিস্টার রয়েছে, চাইলে তা দেখা যেতে পারে। চাহিদার চেয়ে কম সার পাওয়া গেলে তার কী করার আছে—এমন প্রশ্নও করেন তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম রনি জানান, সংবাদ পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে কৃষি কর্মকর্তাদের পাঠিয়ে ব্যবস্থা নিয়েছেন। উপস্থিত কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হচ্ছে। সেখানে আরও সার পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো.কামরুজ্জামান বলেন, সারের কোনো ঘাটতি নেই। কিছু মানুষ কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরি করার চেষ্টা করছে।##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *