সোনাইমুড়ীতে ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি সুদি নান্টু গ্রেপ্তার
মোঃ জাবেদ হোসেন: নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে ব্যবসায়ী আব্দুর রহিমকে মারধর করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মো. বেলাল হোসেন ওরফে নান্টু ওরফে সুদি নান্টুকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
র্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালী ও র্যাব-৪, সদর কোম্পানি, মিরপুর, ঢাকার যৌথ অভিযানে তাকে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জুলাই ২০২৬ রাত ১০টা ২০ মিনিটে ডিএমপির মিরপুর থানাধীন আনসার ক্যাম্প সাফাখানার মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার বেলাল হোসেন ওরফে নান্টু ওরফে সুদি নান্টু নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানার মামলা নম্বর-১৮, তারিখ ২৯ নভেম্বর ২০২৫-এর এজাহারভুক্ত ১ নম্বর প্রধান আসামি। মামলায় তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৩৪২/৩৮৬/৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ রয়েছে।
টাকা-পয়সার লেনদেন নিয়ে বিরোধ
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত আব্দুর রহিম (৫৭) দীর্ঘ ১০-১২ বছর ধরে সোনাইমুড়ীর আমিশাপাড়া বাজারে ‘মিতালী বেকারি’ নামে ব্যবসা পরিচালনা করতেন। টাকা-পয়সার লেনদেনকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে মামলার প্রধান আসামি বেলাল হোসেনের বিরোধ ছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে প্রধান আসামিসহ মামলার অন্যান্য আসামিরা আমিশাপাড়া বাজারে নিহতের বেকারির সামনে যায়। সেখানে তাকে জোরপূর্বক বের করে মারধর করা হয়। পরে তাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে তাকে একটি তুলার দোকানের ভেতরে আটকে রেখে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগও করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ভিকটিম পরে বজরা দীঘিরজান মসজিদে গিয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে মসজিদের বারান্দায় রাখেন।
খবর পেয়ে নিহতের স্ত্রী ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে সোনাইমুড়ীর বজরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নোয়াখালীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৭ নভেম্বর ২০২৫ রাত আনুমানিক ২টা ১০ মিনিটে আব্দুর রহিম মারা যান।
হত্যা মামলার পর পলাতক ছিলেন আসামিরা
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১০-১৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে সোনাইমুড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র্যাব জানায়, মামলা দায়েরের পর থেকে আসামিরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে ছিলেন। চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালীর একটি দল গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালী ও র্যাব-৪, সদর কোম্পানি, মিরপুর, ঢাকার যৌথ অভিযান পরিচালনা করে প্রধান আসামি মো. বেলাল হোসেন ওরফে নান্টু ওরফে সুদি নান্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার বেলাল হোসেন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানার আফুলশী গ্রামের মৃত মোজাফফর আহমেদের ছেলে।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে ডিএমপি ঢাকার মিরপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

