খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ
সেখ রাসেল, বিভাগীয় ব্যুরো চিফ, খুলনা:
যৌন হয়রানি এবং ছাত্রীদের গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থীরা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) রাতে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর তারা এই ঘোষণা দেন এবং বিভিন্ন একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন।
শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি: বিজয় ’২৪ হলের ছাত্রীদের গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে অভিযুক্ত ক্যান্টিন কর্মচারী ইমাম হাসানের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট হল প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত দুই শিক্ষক—ড. মো. রুবেল আনছার ও ড. মো. রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে দ্রুত স্থায়ী বহিষ্কারের ব্যবস্থা নেওয়া।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ :শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে তাদের দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা হলেও কোনো দৃশ্যমান বা সন্তোষজনক সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রশাসন আইনি জটিলতার কথা বলে সময়ক্ষেপণ করছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
প্রশাসনের পদক্ষেপ: বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে:
১) গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২) অভিযুক্ত ক্যান্টিন কর্মচারীর ক্যান্টিনের বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে। ৩) ছাত্রীদের আবাসিক হলে পুরুষ কর্মী নিয়োগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৪) আবাসিক হলে কর্মচারীদের মোবাইল ফোন বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ৫) ছাত্রী হলের ক্যান্টিন পরিচালনায় নতুন কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। ৬) অধ্যাপক ড. মো. রুবেল আনছারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে রিভিউ আবেদন পেলে পুনঃতদন্ত করা হবে।
আইনি অবস্থাঃ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ভিডিও ধারণের অভিযোগে অভিযুক্ত ইমাম হাসানকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করেছে। তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়েছে।
পটভূমি ঃ ২৩ জুলাই বিজয় ’২৪ হলের ওয়াশরুমে গোপনে মোবাইল ফোন রেখে ভিডিও ধারণের অভিযোগে ক্যান্টিন কর্মচারীকে ছাত্রীরা আটক করেন। ১৮ জুন অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে মেসেঞ্জারে অশালীন বার্তা পাঠানোর অভিযোগ ওঠে; বিষয়টি তদন্তাধীন। এর আগে অধ্যাপক ড. মো. রুবেল আনছারের বিরুদ্ধেও যৌন হয়রানির অভিযোগ তদন্তের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে দুই বছরের জন্য পাঠদান, পরীক্ষা গ্রহণ এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
উল্লেখ্য, এসব অভিযোগের কিছু এখনও তদন্তাধীন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তবে যেসব বিষয়ে চূড়ান্ত বিচারিক বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হয়নি, সেগুলোর ক্ষেত্রে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমনটি বলা যায় না।

