মেঘনা নদীর পশ্চিম পাড়ের নাওভাঙ্গা গ্রামে সরকারি রাস্তা নির্মাণে বাধা ভোগান্তিতে চরাঞ্চলবাসী
বিশেষ প্রতিনিধি: মতলব উত্তর উপজেলার জহিরাবাদ ইউনিয়নের মেঘনা নদীর পশ্চিম পাড়ের চরাঞ্চল নাওভাঙ্গা গ্রামে সরকারি রাস্তা নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে দেখা দিয়েছে বিরোধ। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা/কাবিটা) কর্মসূচির আওতায়
হেদায়েতুল্লাহ ও মফিজ পাটোয়ারীর বাড়ি থেকে মর্তুজা তফাদারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থানীয় কয়েকজনের বাধার কারণে প্রকল্পের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে শুক্রবার বিকেলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভমিছিল করেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাবেক ইউপি সদস্য মর্তুজা, জাহাঙ্গীর রফিক মিয়া গং প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা দিচ্ছেন। এতে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগে রয়েছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং সরকারি আবাসন প্রকল্পের পরিবারগুলো।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে নৌকায় করে স্কুলে যেতে হয়, চলাচল আরও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। রোগী ও গর্ভবর্তী নারীদের হাসপাতালে নেওয়াও হয়ে ওঠে ঝুঁকিপূর্ণ।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সলিমুল্লাহ প্রধান, আছমা বেগম, সোলেমান প্রধান, ফরিদা বেগম, মানিক মেম্বার, রফিক সরদার, আসলাম সরদার, মুকুল প্রধান, শান্ত তপদার ও রহমতুল্লাহ প্রধান বলেন, বহুদিন ধরে একটি চলাচল উপযোগী রাস্তার দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে রাস্তা বাস্তবায়ন হলে কয়েকশ পরিবার সরাসরি উপকৃত হবে এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ হবে।
স্থানীয় বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও জানান, রাস্তার অভাবে নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে বিদ্যালয়ে পৌঁছানো অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ে।
এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নের পক্ষে মত দিয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. তোফায়েল হোসেন বলেন, এই সরকারি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব হবে। জনস্বার্থে দ্রুত কাজ শুরু হওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্পের বাইরে অন্য একটি বাড়ির মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য প্রয়োজন হলে তিনি নিজ অর্থায়নে আলাদা রাস্তা নির্মাণ করে দেবেন।
অন্যদিকে অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য মর্তুজা মেম্বারে পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকারি রাস্তা হলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে যে জায়গা দিয়ে রাস্তা নেওয়া হচ্ছে, সেটি এলাকার মানুষের খুব বেশি কাজে আসবে না। এছাড়া বিদ্যালয়ের পরের অংশে রাস্তা আমাদের জমির মাঝখান দিয়ে গেছে। আমরা চাই জমির আইল (সীমানা) ধরে রাস্তা নেওয়া হোক।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। অভিযোগ ও উভয় পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটাতে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে জটিলতার সমাধান করে সরকারি প্রকল্পের রাস্তার নির্মাণকাজ শুরু করা হোক, যাতে চরাঞ্চলের মানুষ নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ পায়।

