বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ড্রেনেজ নির্মাণকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে এনে এলাকাবাসীর তৎপরতায় কাজ বন্ধ

সেখ রাসেল, বিভাগীয় ব্যুরো চিফ, খুলনা:
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলমান ড্রেনেজ নির্মাণকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা, হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও ১ নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃ আলম ভূইয়ার অভিযোগ নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং নির্মাণ বিধি উপেক্ষা করে কাজ করা হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণাধীন ড্রেনের বিভিন্ন অংশে মাপ ও গঠনে অসঙ্গতি রয়েছে। ড্রেনের গভীরতা এক এক জায়গায় একক রকম।
স্থানীয়দের দাবি ও সরেজমিনে এবং কাজে নিয়োজিত কয়েকজন শ্রমিক ও মিস্ত্রির সঙ্গে কথা বলে জানা যায় ড্রেনের রড বসানোর ক্ষেত্রে দক্ষিণ পাশে ৩ ফিট উচ্চতা থাকলেও রড দেখা গেছে ১.৫ ফুট। রড বাধার দূরত্ব ৭, ৮, ৯ ইঞ্চিরও বেশি। ভালো মানের কাজে ব্যবহার করা হয় প্রতি ১ ব্যাগ সিমেন্টে ৬ ঝুড়ি পাথর, ৪ ঝুড়ি বালি। কিন্তু সরেজমিনে দেখা যায় ১ ব্যাগ সিমেন্টে ৮/৯ ঝুড়ি পাথর, ৭ ঝুড়ি বালি ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে নির্মাণকাজের স্থায়িত্ব ও গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এছাড়া ড্রেনে পানি জমে থাকায় নিচের অংশের নির্মাণকাজ ও প্লাস্টার সঠিকভাবে পরিদর্শন করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত “সাইট ইঞ্জিনিয়ার বেল্লাল” অধিকাংশ সময় কর্মস্থলে না থেকে ঠিকাদারদের চাপ প্রয়োগ করে ইচ্ছামতো কাজ পরিচালনা করছে।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আলম ভূঁইয়া বলেন, “সরকারি অর্থে পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে এমন নিম্নমানের কাজ গ্রহণযোগ্য নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত করা উচিত।”
হাসপাতালে আগত রোগীর স্বজন দেবীতলা এলাকার প্রকাশ (কালা) বলেন, “হাসপাতালে প্রতিদিন শত শত রোগী আসে। এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজে অনিয়ম হলে তার দায়ভার কে নেবে, তা আমরা জানতে চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে দায়িত্বপ্রাপ্ত “সাইট ইঞ্জিনিয়ার বেল্লাল” কে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগের চিকিৎসক ডা. ওহিদুজ্জামানের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং নির্মাণকাজের গুণগত মান যাচাই করতে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে। পরবর্তী সংবাদ জানতে পত্রিকার পাতায় চোখ রাখুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *