সুন্দরগঞ্জে যে অধ্যক্ষের নিকট অনিয়মই নিয়ম
মোঃ আন্য়োর হোসেন, বিভাগীয় প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলাধীন শিবরাম আলহাজ্ব মোঃ হোসেন স্মৃতি স্কুল এন্ড কলেজটি ছিল জেলার একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রভাষক হিসেবে ২৪/০১/১৯৯৬ তারিখে অধ্যক্ষ মোঃ গোলাম আজম খাঁ যোগদান করেন । যোগদানের পর থেকেই তিনি উচ্চাভিলাসী হয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের সংগে সংগ দিয়ে অধ্যক্ষ পদটি গ্রহণের লোভে যখন যে সরকার আসে, তখন সেই সরকারি দলের নেতা হন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক শিক্ষক কর্মচারী বলেন, আওয়ামীলীগের সময় তিনি অফিস স্টাফের নিকট বলতেন ,তার বাবা মা তাকে কেন যে একজন রাজাকার,রাষ্ট্রবিরোধী মোঃ গোলাম আজম এর নামের সংগে মিল রেখে তার নামও গোলাম আজম রেখেছেন,তারা কি আর কোন নামেই খুঁজে পাননি।। এ নামটি রেখে তারা নাকি ভুল করেছেন। এ কথা বলায় তামাসার ছলে অনেকে তাকে বলেছিলেন, তাহলে আকিকা করে এ নামটি আপনি বদলে ফেলেন। এভাবে তিনি বিভিন্ন দলের আশ্রয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ থেকে অধ্যক্ষ পদটি তৎকালীন সময়ে তিনজন সিনিয়র প্রভাষক এবং প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল জলিল সরকার স্বপদে, স্ববেতনে কর্মরত থাকা সত্বেও একজন জুনিয়র প্রভাষককে মাত্র তিনদিনের জন্য ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দেখায়ে ০৪/০২/২০০৫ তারিখে নিয়োগ পরীক্ষা এবং ০৫/০২/২০০৫ তারিখই যোগদান দেখিয়ে অধ্যক্ষ পদটি তিনি বাগিয়ে নেন। তাছাড়া তিনি প্রায় বলতেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন নিয়ম নেই। প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং কমিটি রেজুলেশন করে যা করবেন, তাহাই নিয়ম এবং তাহাই আইন এবং করেছিলেনও তাই। তিনি কোন শিক্ষা বিধি-বিধানের ধার ধারতেন না এমন কি যাদেরকে তিনি বিধি বিধান বহির্ভুতভাবে নিয়োগ দিতেন,তারাই তার একমাত্র তোষামোদকারী ও অন্ধভক্ত হওয়ায় তিনি তাদেরকেই প্রথমে পদোন্নতি ,উচ্চতর স্কেল দিতেন । অধ্যক্ষ মোঃ গোলাম আজ খাঁ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং অধ্যক্ষ থেকে বিধি বহির্ভুতভাবে যে সব অনিযমই নিয়মে পরিণত করেছেন, সে সব বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার,পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর ,শিক্ষা মন্ত্রণালয়,শিক্ষাভবন,১৬ আব্দুল গণি রোড,ঢাকা-১০০০ এর শিক্ষা পরিদর্শক জনাব টুটুল কুমার নাগ ও সহকারি শিক্ষা পরিদর্শক জনাব মোঃ কাওছার হোসেন গত ২০/০৭/২০১৪ তারিখে এবং সহকারি শিক্ষা পরিদর্শক জনাব মোঃ মনিরুল ইসলাম গত ১৫/০৩/২০২০ তারিখে প্রতিষ্ঠানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন,যার স্মারক নং যথাক্রমে ডিআইএ/গাইবান্ধা/৬০৬-সি/রাজঃ১৮৫৬ তারিখ ২০/০৯/২০১৫ এবংস্মারক নং- ৩৭.১৯.০০০০.০৩৫.১৬.০১৩.২২.১৬/১, তারিখ ৩০জুন২০২২ এবংমাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর,বাংলাদেশ ,ঢাকা এর স্মারক নং ৩৭.০২.০০০০.১০৫.৩১.০৩.২০২০/৫১১৭ তারিখ ০১/১০/২০২৩ এর পত্রাদেশ এবং অন্যান্য তথ্য সূত্রে সংগৃহীত অনিয়মগুরোর মধ্যে অন্যতম যৎকিঞ্চিৎ অনিয়মের চিত্র তুলে ধরা হলো :-
(১) অধ্যক্ষ পদে মোঃ গোলাম আজম খাঁ‘র নিয়োগটাই ছিল বিধি বহির্ভুত এবং একটা সিাজানো নাটক। তিনি নিজে সচিব/ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ থেকে গোপনে অধ্যক্ষ পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি গোপনে দেন এবং বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন অত্র অঞ্চলের ঐ পত্রিকাটি গোপনে ক্রয় করে রাখতেন,যাতে অন্য কেহ পত্রিকাটি পড়ে তাঁর বিরুদ্ধে অধ্যক্ষ পদে আবেদন করতে না পারে। এ লক্ষ্যে অধ্যক্ষ পদের আবেদনের সময় তিনি তার প্রতিদ্বন্দী দেখানোর জন্য যে সব সহযোগী প্রার্থী দেখিযেছেন, তাদের ব্যাংক ড্রাফ্ট সমুহ তিনি তার তৎকালীন ব্যক্তিগত সহকারী বর্তমানে তারই হাতে নিয়োগ প্রাপ্ত কম্পিউটার পদে সহকারি শিক্ষক মোঃ আব্দল্যাহ মিয়ার দ্বারা তাদেরকে না জানিয়েই অনেক আগেই করিয়ে রেখেছিলেন এবং আবেদনের সময় শেষ হওয়ার পরে সে ব্যাংক ড্রাফ্টগুলো দিয়ে তিনি তার সহযাগী প্রার্থী হিসেবে আবেদন করিয়ে নেন। । প্রতিষ্ঠানটি স্কুল এন্ড কলেজ হওয়ায় প্রতিষ্ঠান প্রধান যেখানে ২০১১সাল পর্যন্ত স্বপদে স্ববেতনে কর্মরত থেকে অবসর গ্রহণ করেন সেখানে অধ্যক্ষ মোঃ গোলাম আজম খাঁ ০৫/০২/২০০৫ তারিখে অধ্যক্ষ পদে যোগদান করে এবং স্বীয় পদে অধিষ্ঠিত থেকে যে সকল সরকারি বেতন ভাতা ও সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করেছেন তাহা সম্পূর্ণি এমপিও নীতিমালা ও শিক্ষাবিধি পরিপন্থি এবং চরম অন্যায়। অধ্যক্ষ পদে যোগদানকালীন সময়ে তাঁর অভিজ্ঞতা ছিল প্রায় ০৩ (তিন) বৎসর ০৪ মাস । ক্ষমতায থাকায় তিনি এমপিও থেকে দুই বৎরে পরের উচ্চতর স্কেল ০৬(ছয়) মাসের মধ্যে এবং ৮বৎসর পরের টাইম স্কেল মাত্র দেড় বৎসরে (১৮ মাসের মধ্যে) বিধি বহির্ভুতভাবে বাগিয়ে নেন। যার দালিলিক প্রমাণ পাওয়া যায়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ০১/১০/২০২৩খ্রিঃ তারিখের ৩৭.০২.০০০০.১০৫.৩১.০৩.২০২০/৫১১৭ নং স্মারক পত্রাদেশে। এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কাম্য যোগ্যতা না থাকা সত্বেও বিধি বহির্ভুতভাবে অধ্যক্ষ পদে জনাব মোঃ গোলাম আজম খাঁ‘র নিয়োগ ,পদায়ন ও এমপিওভুক্তি হয়েছে। ২০১৩-২০১৪ আর্থিক বৎসরে শুধুমাত্র এক বৎসরেই তিনি প্রতিষ্ঠানের ৬,৬৯,৮২০/-(ছয় লক্ষ উনসত্তর হাজার আটশত বিশ) টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন। তার মধ্যে প্রতিষ্ঠানের হিসাব নম্বরে তিনি দুই কিস্তিতে ৫,০০,০০০/-পাঁচ লক্ষ টাকা জমাও দিয়েছিলেন। এ হিসেবে বিধি বহির্ভুতভাবে অধ্যক্ষ পদে এমপিওভুক্তির পর থেকে তিনি যে সকল সরকারি বেতন ভাতা ও সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করেছেন সরকারি কোষাগারে তাহা সমুদয় ফেরতযোগ্য বলে বিবেচিত হওয়া এবং আদেশ দান একান্ত আবশ্যক বলে সচেতন জনণ মনে করেন ।
(২) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও সরকারি বিধি মোতাবেক অধ্যক্ষ মোঃ গোলাম আজম খাঁ‘র আপন শ্যালিকা লায়লা আনজুমান চৌধুরীরও কম্পিউটার শিক্ষা বিষয়ে কোন প্রকার কাম্য শিক্ষা সনদ ছিল না। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বিধি মোতাবেক কম্পিউটার শিক্ষা বিষয়ে সরকার কর্তৃক স্বীকৃতি প্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা নট্রাম্স কর্তৃক প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হইতে হইবে উল্লেখ ছিল। কিন্তু কম্পিউটার শিক্ষা বিষয়ের প্রভাষক লায়লা আনজুমান চৌধুরী অধ্যক্ষ সাহেবের আপন শ্যালিকা হওয়ায় অধ্যক্ষ সাহেব নট্রাম্স হতে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের প্রভাষক মোঃ মাসুদ রানার কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদের একখানা ফটোকপি কৌশলে সংগ্রহ করে তার ছায়া কপিতে নিজের শ্যালিকার নাম টেম্পারিং করে মোঃ মাসুদ রানার নাম ,পদবী প্রভাষক (যুক্তিবিদ্যা) এর যুক্তিবিদ্যা ডিলিট করে মোছাঃ লায়লা আনজুমান চৌধুরী হাতে লিখে এমপিওভুক্তর জন্য পাঠানো হয়। এখানে দু রকমের হাতের লেখা পরিলক্ষিত হয়। যদিও নিয়োগকালীন সময়ে মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিপত্রে কম্পিউটার বিষয়ের প্রভাষক হতে হলে রসায়ন, গণিত,পদার্থবিদ্যা,পরিসংখ্যান, ব্যবস্থাপনা, অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতকোত্তর থাকার বিধান ছিল। অথচ তার বিষয় ছিল ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি। পরিধর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য মতে এমপিওভুক্তি থেকে গ্রহণকৃত সমুদয় সরকারি অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত প্রদানের কথা বলা হয়েছে যাহা অদ্যবধি প্রতিষ্ঠান প্রধানের স্বার্থে আঘাত লাগার কারণে কোনরুপ ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।
(৩) অধ্যক্ষ মোঃ গোলাম আজম খাঁ কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে নিরঞ্জন কুমার রায় ০৫/০৭/২০০৩ তারিখে “ইংরেজি বিষয়ে ” প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। সরকারি বিধি মোতাবেক নিয়োগকালীন সময়ে ইংরেজি বিষয়ে প্রভাষক পদে আবেদন করতে হলে আবেদনকারীর সর্বশেষ সনদ পত্রখানা অবশ্যই ২য় বিভাগ/শ্রেণি হতে হবে এমন বিধান বিদ্যমান ছিল। কিন্তু আবেদনকালীন সময়ে তার সর্বশেষ সনদ খানা ছিল তৃতীয় শ্রেণির। কিন্তু তার নিয়োগকালীন অধ্যক্ষ মোঃ গোলাম আজম খাঁ র সংগে যোগসাজস করায় অধ্যক্ষ সাহেব তার এমপিওভুক্তির জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বাং!লাদেশ ঢাকা বরাবর ফরম নং-ইএমআইএস-০০১/৯৮/১৩৭-শিক্ষা-১(৭) এর শিক্ষক/ কর্মচারী সম্পর্কিত তথ্য এর ১৩ নং ক্রমিকের শিক্ষাগত যোগ্যতার (ঙ) এর স্নাতকোত্তরে এম এ পাসের ৩য় শ্রেণির সনদ খানাকে ০৬/০৩/০৪ তারিখে ২য় শ্রেণি দেখায়ে ০১/০৪/২০০৪ থেকে তার এমপিওভুক্ত করে এনেছেন। অথচ তার নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল শীটে দেখা যায় তার এম এ পাসের সনদ খানা ৩য় শ্রেণির দেখানো হয়েছে। তৎকালীন সময়ে এমপিওভুক্তির আবেদন ফরমে শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সভাপতির স্বাক্ষর থাকলেই হতো এবংসনদপত্রগুলো যাচাই বাছাইয়ের ঝক্কি ঝামেলা না থাকায় অবৈধ পথে এ সুযোগটি গ্রহণ করেছিল।
(৪) শুধু তাই নহে, এদেরকেই সিনিয়র প্রভাষক হিসেবে চিহ্ণিত করণের জন্য কম্পিউটার বিষয়ের প্রভাষক লায়লা আনজুমান চৌধুরীর এবং ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক নিরঞ্জন কুমার রায় প্রভাষক পদে যোগদান করেন ০৫/০৭/২০০৩ তারিখে এবংএমপিওভুক্ত হন ০১/০৪/২০০৪ তারিখে । এছাড়াও ০১/০৪/২০০২১ তারিখে কলেজ শাখাএমপিওভুক্তির সময় অধ্যক্ষ সাহেবের সংগে যে সকল প্রভাষক এমপিওভুক্ত হয়েছিল, তিনি তাদেরকেও বাদ দিয়ে এই ইংরেজি প্রভাষকের নিকট মোটা অংকের বকশিস নিয়ে তিনি তাঁর আপন শ্যালিকা লায়লা আনজুমান চৌধুরীসহ দুজনেরই বিধি বহির্ভুতভাবে সহকারি অধ্যাপক পদে পদোন্নতিও দিয়েছেন এবং কম্পিউটার শিক্ষা বিষয়ের প্রভাষক লায়লা আনজুমান চৌধুরী প্রায় ২০০৪ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানে না এসে প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৫০ কি.মি. দূরে জীবিতা বাংলাদেশ নামক বেসরকারি সংস্থায় চাকুরি করেছেন এবং যোগদান থেকেই সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করে শ্যালিকা ও বোন জামাই মিলে তা আত্মসাৎ করেছেন।
(৫) মোঃ কাওছার আলী সরকার অধ্যক্ষ মোঃ গোলাম আজম খাঁ কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে ১৪/০২/২০১৩খ্রিঃ তারিখে “অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক ভুগো “ বিষয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। জানা গেছে “অথনীতি ও বাণিজ্যিক ভুগোল” বিষয়ে ২০০৩ সাল থেকে বাণিজ্য বিভাগে অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি নেই,। ২০০৩ইং সালের পূর্বে “অথনীতি ও বাণিজ্যিক ভুগোল” বিষয়ের প্রথম পত্র মানবিক বিভাগের ‘‘অর্থনীতি প্রথম পত্র”এর সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকায় তাহা একসঙ্গে পড়ানো হতো এবং দ্বিতীয় পত্রটি ব্যবস্থাপনা বিষয়ের প্রভাষক পাঠদান দিত। পরবর্তীতে ২০১০ সালে এ বিষয়টি উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে উঠিয়ে দেয়া সত্বেও প্রভাষক হিসেবে কাওছার আলীকে ২০১২ সালে নিয়োগ দিয়ে ২০১৪ সালে এমপিওভুক্ত করে এনে সরকারী অর্থ আত্মসাতে সহযোগিতা করছেন। বিধি মোতাবেক উক্ত বিষয়ে পরীক্ষার্থী না থাকলে, ফলাফল শীট প্রদর্শিত না হলে তাহার নিয়োগ অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। ২০০৩ সাল থেকে উক্ত বিষয়ে কোন শিক্ষার্থী নেই। ফলে এ শিক্ষক শিক্ষার্থী বিহীন অবস্থায় তার নিয়োগকালীন সময় থেকে সরকারি টাকা উত্তোলন করেই যাচ্ছেন।পরিধর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য মতে এমপিওভুক্তি থেকে গ্রহণকৃত সমুদয় সরকারি অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত প্রদানের কথা বলা হয়েছে যাহা অদ্যবধি প্রতিষ্ঠান প্রধানের স্বার্থে আঘাত লাগার কারণে কোনরুপ ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।
(৬) প্রদর্শক আবু তাহের আলম ২০০৩ সালে অধ্যক্ষ মোঃ গোলাম আজম খাঁ কর্তৃক অতিরিক্ত (প্যাটার্ণ বহির্ভুত ) হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হওয়ায় এবং জনবল কাঠামোর অতিরিক্ত হওয়ায় তিনি এমপিওভুক্ত হতে পারেন নাই এবং কাম্য শিক্ষার্থী না থাকা সত্বেও এবং সাবেক অধ্যক্ষ সাহেব বিধি-বহির্ভুতভাবে ভুয়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে তাকেও এমপিও ভুক্ত করে এনেছিলেন। উল্লেখ্য যে, প্রদর্শক আবু তাহের আলম কৃষি শিক্ষক নুর শাহীর সংগে কৃষি বিষয়ে সহকারি শিক্ষক পদে অকৃতকার্যও হয়েছিলেন ।
(৭) অধ্যক্ষের অপর এক শ্যালক মোঃ খালেক চান এর ল্যাব এসিসট্যান্ট পদে এসএসসি পাস সনদ না থাকা সত্বেও এসএসসি পাস সনদ দেখিয়ে এমপিও ভুক্ত হওয়ায় অধ্যক্ষ তাকে দিব্যি সরকারি বেতন ভাতা দিয়েই যাচ্ছেন এবং সরকারি অর্থের অপচয় করছেন । মোঃ খালেক চান ১৯৯১ইং সালে গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলাধীন মেরিরহাট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সমাজ বিজ্ঞান শাখায় ২য় বিভাগে উত্তীর্ণ দেখিয়ে সনদ পত্র জাল জালিয়াতি ভাবে সংগ্রহ পূর্বক শিবরাম আলহাজ্ব মোঃ হোসেন স্মৃতি স্কুল এন্ড কলেজে অধ্যক্ষের ছত্র ছায়ায় ল্যাব এ্যাসিসটেন্ট পদে চাকরি করছেন। সনদপত্রে তার রোল-পলাশ, নম্বর:-১২৪৫, রেজিষ্ট্রেশন নম্বর:-২৮৭২০/৯০এবং জন্ম তারিখঃ-২৮-০১-১৯৭৭ইং উল্লেখ আছে।
অপরদিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার আব্দুল মজিদ মন্ডল উচ্চ বিদ্যালয় এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এর এক প্রত্যয়ন পত্র সূত্রে জানা যায়,খালেক চান শিবরাম আলহাজ্ব মোঃ হোসেন স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় এর ৮ম শ্রেণি পাস দেখিয়ে সে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার আব্দুল মজিদ মন্ডল উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৪-০১-১৯৯১ইং তারিখে ৯ম শ্রেণিতে ভর্তি হয়। ভর্তি কালীন সময়ে তার জন্ম তারিখ ছিল ২৬-০৯ ১৯৭৮ইং এবং বয়স ছিল ১২ বৎসর ০৩ মাস ৩০দিন। সে ৯ম ও ১০ম শ্রেণি অধ্যয়ন্তে ১৯৯২ইং সালে নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণান্তে নির্বাচিত হয়ে এসএসসি পরীক্ষা/১৯৯২ এ অংশ গ্রহণ করে অকৃতকার্য হয়।
(৮) জীববিদ্যা বিষয়ের শিক্ষক মোঃ আশেক আলী বিএসসি শিক্ষক থাকা সত্বেও অধ্যক্ষ মোঃ গোলম আজম খাঁ তার এক ভাতিজা মোঃ আমিনুল ইসলাম খানকে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই মোঃ আমিনুল ইসলাম খানের সহযোগী সকল প্রতিদ্বন্দীদেরকে লিখিত পরীক্ষায় অকৃতকার্য দেখায়ে সেই অকৃতকার্য প্রার্থীদেরই মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে তাকে কৃতকার্য দেখায়ে এমপিওভুক্ত করে এনেছেন ।পরিধর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য মতে এমপিওভুক্তি থেকে গ্রহণকৃত সমুদয় সরকারি অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত প্রদানের কথা বলা হয়েছে যাহা অদ্যবধি প্রতিষ্ঠান প্রধানের স্বার্থে আঘাত লাগার কারণে কোনরুপ ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।
(৯) ইংরেজী বিষয়ের শিক্ষক নাজমুস সাকিব থাকা সত্বেও অধ্যক্ষ তার অপর এক ভাতিজা মোঃ শিবলী সাদিক খান এর স্নাতকে ইংরেজি বিষয়ে ৩০০ নম্বর থাকায় তাকে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই বিধি-বহির্ভুতভাবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে স্নাতকে ইংরেজি বিষয়ে ৩০০ নম্বরের শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। ভাতিজাদ্বয়কে কৌশলগতভাবে এমপিওভুক্ত করার জন্য অধ্যক্ষ সাহেব এক বিষয়ের শিক্ষককে অন্য বিষয়ের শিক্ষক দেখিয়ে এবং একেকবার এককজন সহকারি শিক্ষককে ভুয়াভাবে সহকারি প্রধান শিক্ষক দেখানো হয়েছে। যেমন:- ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক নাজমুস সাকিবকে ভুয়াভাবে শরীর চর্চা শিক্ষক দেখানো হয়েছে, কখনো সহকারি শিক্ষক মাখন চন্দ্র সরকারকে সহকারি প্রধান শিক্ষক এবং জীববিদ্যা বিষয়ের শিক্ষক মোঃ আশেক আলীকেও দেখানো হয়েছে] ।পরিধর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য মতে এমপিওভুক্তি থেকে গ্রহণকৃত সমুদয় সরকারি অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত প্রদানের কথা বলা হয়েছে যাহা অদ্যবধি প্রতিষ্ঠান প্রধানের স্বার্থে আঘাত লাগার কারণে কোনরুপ ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।
(১০)। কাব্য তীর্থ বিষয়ে কাম্য সনদ না থাকা সত্বেও অধ্যক্ষ কাব্য তীর্থ বিষয়ে সহকারি শিক্ষক হিসেবে স্বপ্না রানীকে নিয়োগ দিয়ে এমপিও ভুক্ত করায় সরকারি অর্থের অপচয় করছেন। জানা মতে, কাব্য তীর্থ শিক্ষক হিসেবে আবেদন করতে হলে আবেদনকারীকে আদ্য কলাপ, মধ্য কলাপ,ব্যাকরণে উপাধি সনদ এবং আদ্য কাব্য, মধ্য কাব্য ও কাব্য উপাধি সনদ অর্জন করতে হবে। কিন্তু দেখা যায় যে, আবেদনকালীন সময়ে তিনি সে সমস্ত সনদ বা সার্টিফিকেট অর্জন না করেই অধ্যক্ষ মোঃ গোলাম আজম খাঁর সঙ্গে যোগ সাজস করেই নিয়োগ লাভ করে এমপিওভুক্ত হয়েছেন।
(১১) “কৃষি শিক্ষা ” বিষয়ে কাম্য সনদ না থাকা সত্বেও অধ্যক্ষ সহকারি শিক্ষক হিসেবে নুর শাহীকে নিয়োগ দিয়ে এমপিও ভুক্ত করায় সরকারি অর্থের অপচয় করছেন। পরিধর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য মতে এমপিওভুক্তি থেকে গ্রহণকৃত সমুদয় সরকারি অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত প্রদানের কথা বলা হয়েছে যাহা অদ্যবধি প্রতিষ্ঠান প্রধানের স্বার্থে আঘাত লাগার কারণে কোনরুপ ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।
(১২) এ ছাড়াও অধ্যক্ষ সাহেবের আপন বড় ভাই আইয়ুব খান এস এসসি ও এইচ এসসি মানবিক বিভাগে তৃতীয় পাস হওয়া সত্বেও তাকে বাণিজ্য শাখায় হিসাব রক্ষক পদে চাকুরি শেষ করার সুযোগ দিয়েছেন ।
এ সব বিষয়ে অভিযোগকারীগণ অনেক সময় অভিযোগ করেও নিরাশ হয়ে পড়েন। কারণ দুর্নীতিবাজ শিক্ষক কর্মচারীগণ প্রতিষ্ঠানে সংখ্যা গরিষ্ঠ এবং অধ্যক্ষ্যের দুর্নীতির সমর্থক হওয়ায় অধ্যক্ষ সাহেব তাদেরই টাইম স্কেল ও পদোন্নতি সর্বাগ্র দিতেন, এবং প্রতিবাদীদেরকে নানানভাবে নাকানি চুবানি দিতেন। শুধু তাই নহে, হিংসার বশবতি হয়ে তারা উপস্থিত থাকলেও তাদের অনেককে উপস্থিত থেকেও অনুপস্থিত লিখে বেতন কর্তন করতেন,, প্রতিশোধমূলক বিভিন্ন বাহানায় প্রতিবাদী শিক্ষকগণকে টাইমস্কেল,পদোন্নতি প্রদান না করে কালক্ষেপন করে তাদেরকে জ্যৈষ্ঠতার দিক থেকে শাস্তি স্বরুপ জুনিয়র করে রাখেন। অনেকের চাকুরি শেষ হয়েছে কিন্তু পদোন্নতি দেন নাই। আবার অনেকের দিলেও মোটা অংকের বকশিস নিয়ে দিয়েছেন। প্রতিবাদী শিক্ষকদেরকে অনেক সময় নানাভাবে বিভিন্ন মামলায় ফেলার চেষ্টা করেন এবং ফেলান, । চাচা,ভাই,ভাতিজা, ভায়রা ,বাসায় কাজের বুয়া এবং তার প্রতি অন্ধ সমর্থক লোকদেরকে নিয়ে কমিটি করায় তার অন্যায়ের প্রতিবাদী বিভিন্ন শিক্ষককে যখন তখন সাময়িক বরখাস্ত করে বৎসরের পর বৎসর ধরে ব্যাংকে আসা তাদের বেতন ভাতা সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠান, এভাবে কয়েকজন শিক্ষকের প্রায় ৩০/৪০ লক্ষ ফেরত গেছে। কয়েকজনের চাকুরি চলে গেছে। অনেকে বাধ্য হয়ে তার অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে তাঁকে হাজার হাজার টাকা ঘুষ প্রদান করে অবসর কলাণ ভাতায় শেষ স্বাক্ষর করে নিয়েছেন। তাঁরই এক শিক্ষক আমান উদ্দিনকে কটু ভাষায় কথা বলায় তিনি ব্রেইন স্ট্রোক করায় পরবর্তীতে তিনি মারা যান, গণিত বিষয়ের শিক্ষক নবীর উ দ্দিন মন্ডলকে পদোন্নতি প্রদান না করায় এ শোকে তিনি হঠাৎ হার্টফেল করে মারা যান, তারই প্রধান শিক্ষককে তিনি সাময়িক বরখাস্ত করায় অফিস কক্ষে বসে বসে তিনি অঝোরে কাঁদতেন,।
তবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ০১/১০/২০২৩খ্রিঃ তারিখের ৩৭.০২.০০০০.১০৫.৩১.০৩.২০২০/৫১১৭ নং স্মারক পত্রাদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কাম্য যোগ্যতা না থাকা সত্বেও বিধি বহির্ভুতভাবে অধ্যক্ষ পদে জনাব মোঃ গোলাম আজম খাঁ‘র নিয়োগ ,পদায়ন ও এমপিওভুক্তি হয়েছে এবং বর্তমানে অধ্যক্ষ সাহেবের বেতনভাতা এমপিও শীটে বন্ধ থাকলেও তিনি প্রতিষ্ঠানকে এখনও এককভাবে পৌরনীতি বিষয়ের প্রভাষক আপন শ্যালিকা ফরিদা পারভীনকেবিধি বহির্ভুতভাবে সহকারি অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দিয়ে নামমাত্র তাকে রেখে প্রতিষ্ঠানটি নিজেই পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন। দ্রুত তাঁর বেতন ভাতা মন্ত্রণালয় থেকে ছাড় হবে বলে প্রতিবাদী বাকি শিক্ষকদেরকে বিভিন্নভাবে কর্ণগোচর করছেন এবং ভয় ভীতিতে রাখছেন। প্রতিষ্ঠানে ৮০০/৯০০ শিক্ষার্থীদের মধ্যে গড়ে প্রায় ৪০/৫০জন উপস্থিত থাকে। জাতীয় দিবসগুলোতে শিক্ষার্থী না থাকলে রাস্তা থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ধরে এনে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন, তাহাও সম্ভব না হলে প্রতিষ্ঠানের ৪০/৫০ জন শিক্ষককে নিয়ে নিজেরাই গোল হয়ে পতাকা উত্তোলন করে থাকেন। এলাকাবাসীর দাবী এ প্রতিষ্ঠানের দাবী এ প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগ শিক্ষকই বিধি বহির্ভুতভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত যা পরিদর্শন প্রতিবেদন হতে জানা যায় । কাজেই অধ্যক্ষ এবং অধ্যক্ষের পরিবার তন্ত্র থেকে এ প্রতিষ্ঠানটিকে রক্ষা করতে না পারলে এ সুনামধন্য প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত আরো ধ্বংসের দিকে ধাবিত হবে।

