দুই বছর পর হরিপুরে চালু হলো জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন: এমপি ডা. আব্দুস সালামের উদ্যোগে স্বস্তি, প্রশংসায় এলাকাবাসী

জসীমউদ্দিন ইতি (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: দীর্ঘ দুই বছর ধরে বন্ধ থাকার পর অবশেষে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারিভাবে পুনরায় চালু হয়েছে কুকুরে কামড়ানো রোগীদের জন্য অত্যন্ত জরুরি জলাতঙ্ক প্রতিষেধক ভ্যাকসিন (এআরভি) সরবরাহ। ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সালামের বিশেষ ও আন্তরিক উদ্যোগে এই চিকিৎসাসেবা পুনরায় চালু হওয়ায় সীমান্তঘেঁষা এই উপজেলার সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এই জনমুখী উদ্যোগের জন্য স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষ সংসদ সদস্যের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা ব্যক্ত করছেন।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত দুই বছর ধরে সরকারিভাবে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। এই দীর্ঘ সময়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কুকুর, বিড়াল কিংবা শিয়ালের কামড়ে অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছেন। সরকারি হাসপাতালে ভ্যাকসিন না থাকায় নিরুপায় হয়ে আক্রান্ত রোগীদের চড়া দামে বাইরের ফার্মেসি থেকে ভ্যাকসিন কিনতে হতো। অনেক সময় প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র ও দিনমজুর পরিবারের পক্ষে এই খরচ বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়ত, যা আক্রান্তদের জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলে দিত। বর্তমান সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সালাম বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নেন এবং দ্রুত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি ভ্যাকসিন বরাদ্দের ব্যবস্থা করেন।

হাসপাতালে নতুন করে ভ্যাকসিন আসার পর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা আক্রান্ত রোগীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে এই সেবা পাচ্ছেন। সম্প্রতি চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—কাঠালডাঙ্গী ঝাড়বাড়ী এলাকার লতিফুরের স্ত্রী জান্নাতুন (১৭), ডাঙ্গীপাড়ার শাহিনের দুই বছরের শিশু সন্তান মুন্তাকিন এবং তারবাগান এলাকার রুবেলের পাঁচ বছরের শিশু সন্তান নুর ইসলাম। অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জরুরি মুহূর্তে সরকারি এই জীবনরক্ষাকারী ভ্যাকসিন হাসপাতালে বিনামূল্যে পেয়ে আক্রান্ত শিশুদের পরিবার ও স্বজনরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন।

ভ্যাকসিন কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়ে হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আসাদুজ্জামান বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সরকারি উদ্যোগে আমাদের হাসপাতালে পুনরায় জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সরবরাহ শুরু হয়েছে, যা এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত আনন্দের খবর। ভ্যাকসিন আসার পর থেকে এই পর্যন্ত অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যেই মোট ২৮ জন রোগীকে এই চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক সাশ্রয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে আরএমও ডা. আসাদুজ্জামান আরও জানান, “বাইরের বাজারে প্রতিটি ভ্যাকসিনের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫০০ টাকা। সেই হিসাবে সরকারিভাবে এই সেবা চালু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের মোট ৪২ হাজার টাকারও বেশি আর্থিক সাশ্রয় হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, দরিদ্র রোগীরা এখন কোনো প্রকার ভোগান্তি ছাড়াই সঠিক সময়ে মানসম্মত চিকিৎসা পাচ্ছেন।” আগামীতেও হাসপাতালে এই ভ্যাকসিনের সরবরাহ স্বাভাবিক ও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ডা. আব্দুস সালাম নিজে একজন চিকিৎসক হওয়ায় উপজেলার স্বাস্থ্য খাতের এই দীর্ঘমেয়াদী সমস্যাটি তিনি দ্রুত অনুধাবন করতে পেরেছেন এবং দ্রুততম সময়ে তা সমাধান করেছেন। এই উদ্যোগের ফলে হরিপুর উপজেলার স্বাস্থ্যসেবার মান আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *