বটিয়াঘাটা বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম দূর্ণীতি নিয়ে ইউএনও বরার অভিযোগ
সেখ রাসেল, বিভাগীয় প্রধান, খুলনা:
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলা পরিষদের নাকের ডগায় বসে হেডকোয়ার্টার মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুরঞ্জন চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান চরমভাবে অবনতি হয়েছে। ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ১১ জন শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। এ কারণে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের ওই বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে অনিহা প্রকাশ করছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারী মিলিয়ে প্রায় ১৮ জন থাকলেও ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র প্রায় ৩০ জন। যদিও কাগজে-কলমে এ সংখ্যা ৫০ থেকে ৬০ জন দেখানো হয় বলে অনেকে জানিয়েছেন। শিক্ষার্থী সংখ্যা কম থাকায় নিয়মিত পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যেই ক্লাস শেষ হয়ে যায় এবং এরপর আর কোনো শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে বলা হয়, মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে প্রধান শিক্ষকের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় মাসতাতো ভাইকে নৈশপ্রহরী ও অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সাবেক নৈশপ্রহরী নিখিল মন্ডল অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ৫ থেকে ৭ বছর বিনা বেতনে দায়িত্ব পালন করলেও অর্থ দিতে না পারায় তাকে চাকরি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থেকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকেন। বিদ্যালয়ের মাঠে দিনের বেলায় গবাদিপশু চরানো এবং রাতে অসামাজিক কার্যকলাপের ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদিত হলেও বাস্তব চিত্রের সঙ্গে তার সামঞ্জস্য নেই বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, যথাযথ তদারকির অভাবে সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে। এ সকল অভিযোগের প্রেক্ষিতে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন আবেদনকারীরা। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে অনুলিপিও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
অধিকাংশ অভিভাবকদের দাবি উপজেলা প্রশাসনের একেবারই সন্নিকটে থেকে দিনের পর দিন অনিয়ম দূর্ণীতি করলেও দেখার কেউ নেয়। অনেকেই বলেন, প্রশাসন ভাগ পায় বলেই এগুলো অনায়াসেই ঘটে। শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড হলেও আওয়ামী সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দার প্রান্তে রেখে গেছে। অভিভাবকরা শিক্ষা মস্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করেছে।

