তানোরে অধ্যক্ষ জামিলুরের ব্যাংক ড্রাফ বাণিজ্য

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোরের কলমা ইউপির বিল্লী স্কুল এ্যান্ড কলেজ অধ্যক্ষ জামিলুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যাংক ড্রাফ বাণিজ্যর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অধ্যক্ষ জামিলুর কর্মচারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অবৈধ অর্থ আহরণের জন্য ব্যাংক ড্রাফ বাণিজ্যে করছে। তার ব্যাংক ড্রাফ বাণিজ্যর কারণে এলাকার অনেক মেধাবী চাকরি প্রত্যাশী যুবক আবেদন করতে পারেনি বলেও অভিযোগ রয়েছে। এদিকে অধ্যক্ষের ব্যাংক ড্রাফ বাণিজ্যর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার অভিভাবক, সচেতন মহল ও চাকরি প্রত্যাশীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে, উঠেছে সমালোচনার ঝড় কেউ আবার অধ্যক্ষের শাস্তির দাবিও করেছে। তানোর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে যেভাবে টাকা নেয়া হচ্ছে সেটা অন্যায়, আয়া, মালী ও পিয়নসহ যেসব পদে চাকরির জন্য লিখিত পরীক্ষা নেয়া হয় না, সেখানেও আবেদনের সঙ্গে টাকা চাওয়া কোনভাবেই সমর্থনযোগ্য বা যুক্তিযুক্ত নয়। তবে লিখিত পরীক্ষার খরচ বাবদ কিছু টাকা চাওয়া যাইতে পারে, তবে কোন ভাবেই ৫০০ টাকা হতে পারে না অথচ বিল্লী স্কুল এ্যান্ড কলেজ এক হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে বেকারত্বের সুযোগ নিয়ে এভাবে বাণিজ্য করা অনৈতিক এদের বিরুদ্ধে আসলেই ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ। এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক গ্রামবাসী বলেন, অধ্যক্ষ নিজেই অযোগ্য প্রার্থী হয়েও টাকার জোরে নিয়োগ নিয়ে এখন টাকা উশুলের জন্য এসব করছে। তারা আরো বলেন, বিল্লী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬৫ শতক সম্পত্তি জালিয়াতির মাধ্যমে বিল্লী স্কুল এ্যান্ড কলেজ হাতিয়ে নিয়েছে, আবার বিল্লী স্কুল এ্যান্ড কলেজের নামে প্রায় ৪২ বিঘা ফসলী জমি রয়েছে তার হিসেব কমিটির কেউ কখানো পায়নি।
সূত্র জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার জাহিদপুর গ্রামের হাজী শাহজাহানের পুত্র হাজী কাদের বিল্লী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে ৬২ রেকর্ড মুলে, কাজীপাড়া মৌজায়, এসএ খতিয়ান নম্বর ৪৬ ও ৫৭ নম্বর দাগে ৬৫ শতক সম্পত্তি দান করেছেন। কিšত্ত বিল্লী স্কুল এ্যান্ড কলেজ জালিয়াতির মাধ্যমে আরএস ৭২ রেকর্ড মুলে, যাহার আরএস খতিয়ান নম্বর ২, আরএস জেল নম্বর ১৭৪ ও আরএস দাগ সম্বর ৮৯, উপজেলা নাচোল দেখিয়ে ওই সম্পত্তি তাদের নামে হাতিয়ে নিয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, বিল্লী স্কুল এ্যান্ড কলেজ ৭২ রেকর্ড মুলে কার কাছে থেকে ওই সম্পত্তি রেজিস্ট্রি নিয়েছেন সেটি দেখার বিষয়। কিšত্ত তারা সম্পত্তি দাবি করলেও তার পক্ষে কোনো রেজিস্ট্রি দলিল দেখাতে অপারগতা প্রকাশ করেছে। আর এতেই বিষয়টি নিয়ে সাধারণের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এছাড়াও কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে একজন অসুস্থ শিক্ষকের বেতন কেটে নেয়ার মতো অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়রা বিল্লী স্কুল এ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষের বিষয়ে দূর্নীতি দমন কমিশন দুদুকের অনুসন্ধান দাবী করেছেন।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি একটি আঞ্চলিক দৈনিকে তানোরের কলমা ইউপির বিল্লী স্কুল এ্যান্ড কলেজে কর্মচারীর একটি (শূণ্য) পদ পূরুণের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে অধ্যক্ষ বরাবর আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তানোর সোনালী ব্যাংক শাখা খেকে এক হাজার টাকার ব্যাংক ড্রাফ অফেরতযোগ্যসহ আবেদন করতে বলা হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, যেই দেশে একটি পদের বিপরীতে সহস্রাধিক প্রার্থীর আবেদন করার রেকর্ড রয়েছে সেই দেশে কি বিবেচনায় একটি শূণ্য পদে আবেদনের জন্য অফেরতযোগ্য এক হাজার টাকা ব্যাংক ড্রাফ চাওয়া হয়, তাহলে যদি সহস্রাধিক আবেদন পড়ে তবে ব্যাংক ড্রাফের সেই বিপুল অর্থ কারা পাবেন। আবার কৃষি প্রধান এলাকার কৃষক পরিবারের সন্তানেরা কি ভাবে সেই টাকা সংগ্রহ করবে যেখানে ধানের মণ ৬০০ টাকা। আসলে অধ্যক্ষ উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত হয়েই হাজার টাকা ব্যাংক ড্রাফ চেয়েছেন যাতে সাধারণ কেউ আবেদন করতে না পারে তাহলেই তারা তাদের পচ্ছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ করতে পারবেন। সচেতন মহলের দাবি এভাবে প্রতি পদে পদে টাকা চাওয়ায় চাকরি খুঁজতে গিয়ে এলাকার অসংখ্য বেকারের পকেট কাটা যাচ্ছে। তারা অফেরতযোগ্য এক হাজার টাকা ব্যাংক ড্রাফ ছাড়াই পুনঃ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবি করেছেন যাতে এলাকার প্রার্থীরা সকলেই আবেদন করতে পারেন। স্থানীয় যুবসমাজ বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দিয়ে দেখভালের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এবিষয়ে জানতে চাইলে বিল্লী স্কুল এ্যান্ড কলেজ অধ্যক্ষ জামিলুর রহমান সাংবাদিকদের কাছে কোনো বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, আপনারা (সাংবাদিক) আমার বিরুদ্ধে যা খুশি লেখেন আমি কোনো বক্তব্যই দিবো না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *