শীতের কুয়াশামাখা সকালে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে রঙিন বই উৎসব

মিজানুর রহমান সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি: “ নতুন বইয়ের গন্ধ শুঁকে ফুলের মতো ফুটব বর্ণমালার গরব নিয়ে আকাশ জুড়ে উঠব’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে কুয়াশামাখা, শিশির স্নিগ্ধ সোনালি সকাল। শীতের মিষ্টি রোদের হাল্কা আঁচ নিতে নিতে যেন প্রস্ফুটিত হয়ে উঠেছিল শতসহ¯্র মুকুল। সোমবার শীতের সকালে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা নতুন বছরের শুরুতে হাতে পেল নতুন বই। নিষ্পাপ মুখের মিষ্টি হাসির সঙ্গে রঙিন বইয়ের ঝাঁপি এনে দিল নতুন বছরের নতুন আনন্দ। নতুন বই হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীরা যেমন আনন্দিত তেমনি তাদের স্বপ্ন আর কল্পনার রাজ্যও যেন নতুন নতুন পরিকল্পনায় সেজে উঠলো। সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে উৎসব মুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, পাঠ্যপুস্তক দিবস ২০১৮ বই উৎসব বেলুল ও ফেস্টুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা- ০২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। এসময় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ২০১৮ শিক্ষাবর্ষে মোট ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৮৫ হাজার ৯৪৯ কপি পাঠ্যবই বিতরণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক স্তরের বই ২৪ কোটি ৩৬ লাখ ৮৪ হাজার ৪২৮ কপি এবং প্রাথমিক স্তরের বই ১১ কোটি ছয় লাখ এক হাজার ৫২১ কপি। সাতক্ষীরা জেলায় মাধ্যমিক স্তরে ২০লক্ষ ৫৭ হাজার ৯০ সেট বই এবং সদর উপজেলায় ৪লক্ষ ২০ হাজার সেট বই বিতরণ করা হচ্ছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১লক্ষ ৪০ হাজার ৬শ’ ৬১ সেট বই এবং ৩৩ হাজার ৩শ সেট বই বিতরণ করা হচ্ছে। আজকে খুব আনন্দের দিন। নতুন বই মানে আলাদা আনন্দ। উন্নত জাতি গঠনে শিক্ষাই একমাত্র পন্থা। বিশ্বে এমন কোন দেশ নেই যেখানে বছরের প্রথম দিনে বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেয়। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন। শিক্ষাক্ষেত্রের বিনিয়োগ ও অর্জনকে আমাদের সরকার সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ ও অর্জন হিসেবে দেখছে। আমাদের ছেলে-মেয়েরা যদি মানসম্মত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠে, তখন সারা পৃথিবীর জন্য উপযুক্ত হয়ে উঠবে। সে লক্ষ্যেই সরকারের এই উদ্যোগ। বিজয়ের মাস শেষ হলেও বাংলাদেশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিজয়ী হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে। এই বিজয় আমাদের ধরে রাখতে হবে। এই জাতিকে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বব্যাপী বিজয়ী জাঁতি হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। উন্নত সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। শিক্ষা-দীক্ষা সর্বক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানুষ হবে শ্রেষ্ঠ, সেটাই জননেত্রী শেখ হাসিনার একমাত্র লক্ষ্য। শিক্ষা হলো দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রধান হাতিয়ার। দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়তে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।’ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা খাতুন। বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন জেলা শিক্ষা অফিসার এস.এম ছায়েদুর রহমান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম, সাতক্ষীরা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. জিয়াউল হক, জেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার অলোক কুমার তরফদার, সমরেশ কুমার দাস, মো. আব্দুর রাজ্জাক, সিরাজুল ইসলাম ও ইয়াহিয়া ইকবাল প্রমুখ। বই উৎসবে এ বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের হাতে ২ হাজার ৫শ’ সেট নতুন বই তুলে দেওয়া হয়। এসময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক/শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শিক্ষক মো.

