মাগুরার বিরল প্রজেরিয়া রোগে বৃদ্ধর মত চেহারার বয়োজিদ মারা গেছে

মাগুরা প্রতিনিধি: অবশেষে মারা গেল মাগুরা মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের খালিয়া গ্রামের আলেচিত সেই ‘বৃদ্ধ শিশু’ ৫ বছর বয়সি বায়োজিদ। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ্য থাকার পর মাগুরার মহম্মদপুরের বিনোদপুরের খালিয়া গ্রামের ৫ বছর বয়সি সেই ‘বৃদ্ধ শিশু’ বায়োজিদ সোমবার সন্ধ্যায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। মাগুরার বিরল প্রজেরিয়া রোগে আক্রান্ত বায়োজিদকে ৮০-৯০ বছরের বৃদ্ধর মত দেখা যেত। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় খালিয়া মাদ্রাসা মাঠে যানাজার নামাজ শেষে নিজ গ্রামে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়। বায়োজিদের বাবা লাবলু শিকদার জানান, পুরুষঙ্গে চামড়া বেড়ে প্রসাব বন্ধ হয়ে পেট ফুলে যাওয়ায় রোববার রাত সাড়ে ১২ টার দিকে বায়োজিদকে মাগুরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তার অবস্থা আরো অবনতি হলে ভোর সাড়ে পাঁচ টার দিকে তাকে ফরিদপুর মেডিকেলে নেওয়া হলে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে সে মারা যায়। বায়োজিদকে নিয়ে গত বছর মে মাসে বিভিন্ন পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হলে মাগুরা সদর হাসপাতালে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পিজি হাসপাতালে পাঠায়। অনেকে তার চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তার হাত বাড়ান। ঢাকায় দেড় মাস চিকিৎসা করালেও তার শরীরিক অবস্থার কোন পরিবর্তন না হওয়ায় তাকে বাড়ি ফেরৎ আনা হয়। তার পর থেকে সে আরো অসুস্থ হয়ে পড়ে। এবস্থায় সে মাগুরা সদর হাসপাতালের মেডিসিন চিকিৎসক দেবাশিষ বিশ্বাসের অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলো। দেবাশিষ বিশ্বাস জানান, পুরুষঙ্গের চামড়া বেড়ে তার প্রসাবের রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। এবস্থায় তার অপারেশন প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বায়োজিদ যেহেতু জন্মগতভাবে জটিল প্রজেরিয়া রোগে আক্রান্ত সে কারনে তার জন্য এ অপারেশন ছিল অত্যন্ত ঝুকিপুর্ন।

