যশোরে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার বিষয়ে সোচ্চার হলেও লংঘিত হচ্ছে অহরহ, অসহয় মানুষের পাশে রুখে দাঁড়াতে হবে মানবাধীকার কর্মীগণ, সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ন দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষ্যে যশোর শহরে ১০ই ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ৯:০০ ঘটিকার সময় খুলনা বিভাগীয় সমন্মকারীর উদ্দগে যশোর জেলা আহবায়ক কমিটির মাধ্যমে র্যালীটি মনিহার চত্তর হইতে দড়াটানা ভৈরব চত্তরে এসে থামে।
ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস্ এন্ড হেলথ কেয়ার সোসাইটি খুলনা বিভাগীয় সমন্ময়কারী জি.এম মিজানুর রহমান মিজান যশোর জেলা আহবায়ক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সামসুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক কাজী রকিবুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শফিকুর রহমান, অর্থ সম্পাদক মুরাদুল ইসলাম মুরাদের উদ্দগে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস ও আলোচনা সভা পালিত হয়। উক্ত আলোচনা সভায় বিভাগীয় সমন্ময়কারী মানবাধিকার সম্পর্কে বলেন। বিশ্ব জুড়েই মানুষের বাস। স্থান ও আবহাওয়া ভেদে মানুষের গায়ের রং ও আকৃতি-প্রকৃতি পার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু অধিকারের কোন পার্থক্য নেই। জন্মটা সোনা বা রুপার চামচ নিয়েই হউক আর খড়কুটা ও পাতা কুঞ্জের মধ্যেই হউক জ¤েœর সঙ্গে সঙ্গে মানুষের অধিকারও জন্ম নেয়। এমনকি রাষ্ট্রীয়ভাবেও নিগৃহীত হচ্ছে মৌলিক অধিকার এ সম্পর্কে আমাদের সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদে ৫টি এবং ৩৫ অনুচ্ছেদে ৬টি বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে- (১) গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে ম্যাজিষ্টেটের সামনে হাজির করতে হবে, (২) শীঘ্র গ্রেফতারের কারণ জ্ঞাপন না করে কোন ব্যক্তিকে পুলিশ প্রহরায় আটক রাখা যাবে না, (৩) গ্রেফতারকৃত ব্যাক্তিকে তার আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শের সুযোগ দিতে হবে, (৪) কোন ব্যক্তিকে যন্ত্রণা দেওয়া যাবে না কিংবা নিষ্ঠুর অমানুষিক লঞ্চনাকর দন্ড দেওয়া যাবে না এবং (৫) অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যদিতে বাধ্য করা যাবে না। মানবাধিকার সংক্রান্ত আইন ও বিষয়গুলো আমাদের প্রত্যেকের জানা উচিৎ। তাহলে অনেক ক্ষেত্রে মানবাধিক বিষয়ে জ্ঞান বৃদ্ধি পাবে এবং মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নে সহজতর হবে। মানবাধিকার সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষ্যে প্রতি বছর ১০ ডিসেম্বরকে বেছে নেওয়া হয়েছে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস হিসাবে। যা প্রতি বছর সরকারী ভাবে পালন করা হয়। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা ছিল, (১) সমতার অধিকার, (২) বৈসম্য থেকে মুক্তি পাওয়ার অধিকার, (৩) জীবন, স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার অধিকার, (৪) দাসত্ব থেকে মুক্তির অধিকার, (৫) নির্যাতন ও অবমূল্যায়ন থেকে মুক্তির অধিকার, (৬) আইনের চোখে একজন ব্যক্তি হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়ার অধিকার, (৭) আইনের দৃষ্টিতে সকলে সমান অধিকার পাওয়া, (৮) উপযুক্ত আদালত থেকে বিচার পাওয়ার অধিকার, (৯) বে-আইনী আটক ও বন্দীদশা থেকে মুক্তি পাওয়ার অধিকার, (১০) নিরপেক্ষ প্রকাশ্য শুনানীর অধিকার, (১১) অপরাধ প্রমান না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ ব্যক্তি মর্যাদা পাওয়ার অধিকার, (১২) পরিবার বাড়িতে এবং পত্র যোগাযোগের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার, (১৩) স্বাধীন ভাবে যে কোন দেশে যাওয়া বা আসার অধিকার, (১৪) অন্য দেশে অমানবিক যন্ত্রণা থেকে রক্ষা পাওয়ার অধিকার, (১৫) জাতীয়তা পাওয়া এবং পরিবর্তন করার অধিকার, (১৬) বিয়ে করা এবং পরিবার গঠন করার অধিকার, (১৭) সম্পত্তির মালিক হওয়ার অধিকার, (১৮) নিজস্ব বিশ্বাসে ধর্মের স্বাধীনতার অধিকার, (১৯) মতামত দেওয়া ও তথ্য পাওয়ার অধিকার, (২০) শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ ও সংগঠন করার অধিকার, (২১) মূক্ত নির্বাচন ও সরকারে অংশ গ্রহনের অধিকার, (২২) সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার, (২৩) কাঙ্খিত কাজ পাওয়া ও ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার, (২৪) অবসর ও বিশ্রাম পাওয়ার অধিকার, (২৫) স্বয়ং সম্পূর্ণ জীবন যাত্রার অধিকার, (২৬) শিক্ষার অধিকার, (২৭) সমাজের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণের অধিকার, (২৮) মানবাধিকার রক্ষাকল্পে সামাজিক নিশ্চয়তার অধিকার, (২৯) মানবাধিকার রক্ষাকল্পে সামাজের কর্তব্য পালনের অধিকার, (৩০) উপরোক্ত অধিকার গুলোর ব্যাপারে রাষ্ট্র ও ব্যক্তির হস্তক্ষেপ থেকে রক্ষা পাওয়ার অধিকার।
