আজ বগুড়ার কাহালু হানাদার মুক্ত দিবস

এম এ কাদের,কাহালু(বগুড়া)সংবাদদাতা : আজ ১৩ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে এইদিন বগুড়ার কাহালু পাক হানাদার মুক্ত হয়। কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধের দেয়া তথ্য মতে দিনটি ছিল সোমবার। ১২ ডিসেম্বর পাক সেনারা তাদের রাজাকার বাহিনীকে পাহারায় রেখে কাহালু থানা ছেড়ে চলে যায়। এই খবরটি মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ায় মুক্তিযোদ্ধারা সংগঠিত হয়ে সাধারণ মানুষের সহযোগীতা নিয়ে,পরেদিন সকালে অর্থাৎ ১৩ ডিসেম্বর কাহালুর পাঁচপীর মাজার এলাকা থেকে ফাঁকা গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে কাহালু থানা সদরের প্রবেশ কালে তাদের সাথে যোগ দেয় আশপাশের গ্রামের মুক্তিকামি হাজার হাজার মানুষ।এ দৃশ্য দেখে কাহালুর মানুষ সহজেই বুঝে নেয় দেশ শত্র“মুক্ত হতে আর বেশীদেরী নেই। সেদিন মুক্তিযোদ্ধা আর হাজার হাজার মানুষের জয়ের উল্লাস ধ্বনিতে গোটা কাহালু মুখরিত হয়ে উঠে।এছাড়া ওই দিন সংগ্রামী জনতা রাজাকার বাহিনীর সহ পাকিস্থানী দোসরদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রতিশোধ গ্রহন করে।১৩ ডিসেম্বর কাহালু বাসীর স্মরণীয় দিন। ৯ মাসের স্বাধীনতা যুদ্ধে এ লড়াইয়ে ঘটে গেছে অনেক কিছু তান্ডব। পাক হানাদাররা কাহালু সদর সহ গিরাইল,জয়তুল,নশীরপাড়া,লক্ষীপুর,মুরইল,ডোমরগ্রাম,উলট্ট,এলাকার নিরীহ মানুষদের নির্বিচারে হত্যা,ঘর বাড়ীতে অগ্নীসংযোগ,সহায় সম্পদ তরাজ করেছে। মায়ের কোলের শিশুরাও সেদিন হানাদারদের হাত হতে রক্ষা পায়নি। দীর্ঘ ৯ মাসের স্বাধীনতা সংগ্রামে কাহালুর বীর মুক্তিযোদ্ধারা একাধিকবার জীবন বাজী রেখে পাকবাহিনীর মুখো-মুখী হয়ে যুদ্ধ করেছে। প্রচন্ড যুদ্ধ হয়েছে কাহালুর দুর্গাপুর ইউনিয়নের বামুজা গ্রামে।মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস বীরচিত মনোবলের কারণে পিছু হঠতে বাধ্য হয়েছে সেদিন শত্র“পক্ষ।রক্তমাখা বেদনা বিধুর দিনগুলো আজও কাহালু বাসীর মানস পটে ভেসে উঠে।স্বাধীনতা সংগ্রামে যারা দেশের জন্য এত কিছু করেছেন তাদের অনেকেই আজ আর আমাদের মাঝে নেই,আমরা তাদের আতœার মাগফিরাত কামনা করি। আর যারা এখনও জীবিত আছেন তাদের দীর্ঘ আযু কামনা করি। কিন্তুু মনে ব্যথা পাই তখনিই যখন দেখি দীর্ঘ ৪৪ বছর পেরিয়ে গেলেও বীর মুক্তি যোদ্ধাদের অনেকেই অসহায় অবহেলিত দেখি। কালের চক্রে নতুন প্রজন্মের কাছে বীরত্বপূর্ণ অনেক কাহিনী আজও অজানাই রয়ে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *