৮ দিনের গ্রেফতার হয়নি সুন্দরগঞ্জে এমপি লিটনের সংসদ সদস্য পদ বাতিলসহ দল থেকে বহিস্কারের দাবী অব্যাহত

মোশাররফ হোসেন বুলু, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) :
সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের ছোড়া গুলিতে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র শাহাদত হোসেন সৌরভ আহত হওয়ার ঘটনা ৮ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এ ঘটনার পর থেকে এমপি লিটনের সাংসদ পদ বাতিলসহ দল থেকে বহিস্কারের জোরালো দাবী উঠেছে। প্রতিবাদ সমাবেশ, গণস্বাক্ষর কর্মসূচি, পোস্টারিংসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। পোস্টারে ছেয়ে গেছে সুন্দরগঞ্জের যত্রতত্র। এ নিয়ে গতকাল শুক্রবার বেলা ১১ টায় পৌর সম্মেলন কক্ষে যৌথভাবে আ’লীগ ও পৌর নাগরিক সংগ্রাম পরিষদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা আ’লীগের সাবেক সভাপতি টিআইএম মকবুল হোসেন প্রামানিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন পৌর মেয়র ও সাবেক ছাত্র নেতা আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এমদাদুল হক বাবলু, আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বাবুল, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম, পৌর আ’লীগের সহ-সভাপতি এটিএম মাসুদ-উল-ইসলাম চঞ্চল, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ও মানবতা বিরোধী অপরাধ মামলার বাদী আনিছুর রহমান, স্বেচ্ছা সেবকলীগের সভাপতি গোলাম কবির মুকুল, সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ কুমার বিকাশ, নাগরিক সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি বীরেন সরকার মিন্টু, মঞ্জুরুল হক প্রামানিক বকুল প্রমুখ। বক্তারা অসৎ, দু-চরিত্র, সন্ত্রাসী এমপি লিটনের সংসদ সদস্য পদ বাতিল, দলীয় পদ থেকে বাহিস্কারসহ গ্রেফতার পূর্বক তাকে অবিলম্বে আইনের কাঠগড়ায় দাড় করানোর জোর দাবী জানান। এছাড়া ওই বৈঠকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ কর্তৃক চ্যম্পিয়ান অব দি আর্থ এ্যাওয়ার্ড লাভ করায় তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানোর জন্য আগামী ১১ অক্টোবর রোববার পৌর শহরের বঙ্গবন্ধু চত্বরে এক সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সুন্দরগঞ্জের আপামর জনতা শিশুকে গুলি করার ঘটনায় বিভিন্ন নিন্দা ও বিচারের দাবী অব্যাহত রয়েছে। উপজেলার যত্রতত্র পোস্টারিংয়ের মাধ্যমে এমপি লিটনকে গ্রেফতারসহ বিচারের দাবী জানানো হয়। একজন এমপির দাড়ায় শিশুর অধিকার খর্ব হওয়ায় হতঃভম্ব হয়েছেন এলাকার শান্তি প্রিয় মানুষ। সাধারণ জনগণের দাবী বাংলাদেশ যে সময় বিশ্বে মাথা উচু করে দাড়াতে শুরু করেছে ঠিক সেই সময়ে একজন জাতীয় সংসদ সদস্য কর্তৃক শিশুকে গুলি করায় তা ম্লান হতে চলেছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ১৯৮৯ সালে শিশু অধিকার বিষয়ক একটি সনদ পাশ করে। ১৯৯০ সালে এই সনদ আন্তর্জাতিক আইন হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। শিশুর অধিকার রক্ষায় এ সনদ একটি কার্যকর কাঠামো হিসেবে প্রমানিত হয়েছে। শিশু অধিকার সনদের মতো আর কোন মানবাধিকার সনদ এত দ্রুত ও ব্যাপক পরিসরে বিভিন্ন রাষ্ট্রের অনুমোদন লাভ করেনি। এসনদ শিশুদের কত গুলো সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নির্ধারণ করেছে। যেমন শিশুর বেঁচে থাকা, শৈশবে বেড়ে উঠা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযতœ ও সমাজ কল্যাণ সংক্রান্ত অধিকার। বর্বরতার শিকার হয়ে রাজেন, রাকিবদের নৃংশ মৃত্যু ও সৌরভকে গুলি করে আহত করার ঘটনা সমাজের বিবেকবানদের দারুন ভাবে নাড়া দিয়েছে। তাই শিশু অধিকার সনদের পরিপন্থি কাজ করায় একজন সংসদ সদস্যের পক্ষে কতখানি অশোভনীয় তা ভাষায় প্রকাশ করা বড় কঠিন কাজ। সুন্দরগঞ্জের আপামর জনতা বর্তমানে এমপির বিরুদ্ধে দারুণ ভাবে ফুসে উঠেছে। জনগণের এই দাবী বাস্তবায়নে কতদিন সময় লাগবে তা কেউ বলতে পারছে না। উল্লেখ্য, গত ২ অক্টোবর শিশু সৌরভকে গুলি করে আহত করেছে তাই নয়, সৌরভকে হাসপাতালে নিতে তার এম্বুলেন্সটিও আটককে দেয়া হয়েছিল। এ যেন এক কঠিন বর্বরতা। তারপরও সুধী সমাজ অসহায় দরিদ্র শিশু সৌরভের চিকিৎসার সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন। বিভিন্ন সুধীজন ইতোমধ্যেই হাসপাতালে সৌরভের চিকিৎসায় অর্থ তুলে দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সাবেক এমপি ডাক্তার আব্দুল কাদের খান সৌরভের পিতা সাজু মিয়ার হাতে চিকিৎসার অর্থ সহায়তা দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *