কাজিপুরে ডিবি পুলিশ কতৃর্ক মিথ্যা মামলা দায়ের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: শুক্রবার সকাল ১০টায় কাজিপুর অস্থায়ী প্রেসক্লাবে জনাকির্ণ পরিবেশে সিরাজগঞ্জ ডিবি পুলিশ সাইফুল ইসলাম কতৃর্ক দু’টি মিথ্যা মামলা দায়েরের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিরিহ ভুক্তভোগী, ক্ষতিগ্রস্থ কাছিহারা গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের পুত্র আলহাজ¦ মোঃ আইয়ুব আলী। আলহাজ¦ মোঃ আইয়ুব আলী তার লিখিত বক্তব্য রাখেন। তিনি তার বক্তব্য বলেন আমি একজন অবসর প্রাপ্ত আনসার ব্যাটেলিয়ান। অবসরে বাড়িতে এসে আমি ধান, চাউল এর ব্যাবসা করে জিবিকা নির্বাহ করি। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ এর পিপুল বাড়িয়া গ্রামের জয়নাল আবেদিনের পুত্র আব্দুল মালেক আমার পাশর্^বর্তি মিরার পাড়া গ্রামের নিজাম সরকারের মেয়েকে বিয়ে করে। সেই সুবাদে আব্দুল মালেকের ছোট ভাই মোঃ আশরাফ আলী আমার এলাকায় অবাদে আসা যাওয়া করত এবং স্থানীয় বাজারে বসত। সেখানে দেখা সাক্ষাৎ এবং আলাপ চারিতার সুবাদে তাহার সাথে আমার পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে পরিচিতি আত্মীয়তার রুপ লাভ করে এবং তাহার বাড়িতে যাওয়া আসা চলে। ভাল সম্পের্কের জের ধরে সুচতুর আশরাফ আলী আমাকে স্থানীয় বাগবাটী হাট থেকে কিছু কম মুল্যে চাউল কিনে দেবে মর্মে আমাকে প্রস্তাব দেয় এবং টাকা চায়। আমি সরল বিশ^াসে চাউল খরিদ করার জন্যে আশরাফ আলীকে জুলাই ২০১৫ এর প্রথম সপ্তাহে ২০হাজার টাকা প্রদান করি। টাকা দেওয়ার সপ্তাহ খানেক পরে আশরাফ আলী চাউল কিনেছে কিনা তার জন্য যোগাযোগ করি। এর পর প্রায় ২০/২৫দিন পেরিয়ে গেলেও আশরাফ আলী আমাকে চাউল কিনেদিতে ব্যার্থ হয়। তখন আমি টাকা ফেরত নেওয়ার জন্য আশরাফ আলীকে চাপ দেই। এক পর্যায়ে সুচতুর আশরাফ আলী আমাকে জানায় যে, আমি টাকা বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসব। তৎপর জুলাই মাসের শেষের দিকে আমার অনুপস্থীতিতে আশরাফ আলী পাওনা টাকার মধ্যে ১০হাজার টাকা আমার স্ত্রীর হাতে দিয়ে আসে। আমি রাত্রিতে বাড়িতে এসে জানতে পারি উক্ত আশরাফ আলী ১০হজার টাকা দিয়েগেছেন। পর দিন আমি আশরাফ আলীর দেয় টাকার ১শ টাকার দুটি নোট স্থানীয় বাজারে নিয়ে বাজার করিতে গেলে দোকানদারের মাধ্যেমে জানতে পারি টাকা জাল। সেখানে বাজারের অনেক লোককে টাকা দুটি দেখালে জাল বলে চিহিৎত করেন। তখন কাউকে কিছু নাবলে বাড়িতে গিয়ে আশরাফ আলীর সাথে মোবাইলে বার-বার যোগাযোগ করলে তাকে পাওয়া যায়নি বা মোবাইল রিসিভ করেনি। এঘটনায় আমি ভিষন চিন্তিত হয়েপড়ি। আমি আনসার ব্যাটেলিয়ানে চাকুরি করার সুবাদে এমদাদ নামে একজন জাতীয় গয়েন্দা পুলিশের সাথে আমার ভাল সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের জেরধরে তারসাথে যোগাযোগের একপর্যায়ে বিষয়টি তাকে জানাই। সে আমর শুভাকাংঙ্খি হিসেবে সুচতুর আশরাফ আলীর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে ঘটনাটির সত্যতা শিকার করেন এবং আশরাফ আলী জাল টাকা ফেরত নিয়ে পাওনা টাকা পরিশোধ করবে মর্মে তার কাছে স্বীকার করেছে। যাহা আশরাফ আলীর স্বীকারোক্তির জবানবন্ধি রেকর্ড করা হয়েছে। আশরাফ আলী আরো স্বীকার করেছে তিনি একজন এলাকার প্রভাবশালী ইয়াবা ও জাল টাকার ব্যাবসায়ী। যা প্রমাণের জন্য মোবাইলে ভেয়েস রেকর্ড রয়েছে। এর পর আশরাফ আলী আমাকে ফাঁসানোর জন্য সাদা পোশাকে পুলিশ নিয়ে আমার বাড়িতে গিয়ে তার দেয় জাল টাকা গুলো ফেরত চায়। আমি তার দেয় সাকুল্য জাল টাকা ফেরত দিয়ে পাওনা টাকার দাবি করা মাত্র আশরাফের সঙ্গে থাকা সাদা পোশাকের লোকটি আমাকে ঝাপটায়ে ধরে এবং হ্যানকাপ বের করে। তখন আমার সাথে তার ধস্তা-ধস্তি হয়। আমি কৌশলে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে দুরে সরে যাই। তিনি তার লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে আরো বলেন এ সময় সুচতুর আশরাফ আলী ঘর থেকে বের হয়ে আমার বাড়ির পাশে রেখে আসা আরও কয়েকজন সন্ত্রাসী ও সাদা পোশাকের লোক নিয়ে এসে তাদের সহয়তায় ডিবি পুলিশের এস আই সাইফুল ইসলাম ও আশরাফ আলী আমার ঘরে ঢুকে আমার আলমারী ভেঙ্গে ৪/৫ ভরি সোনার গহনা ও একটি মোবাইল সেট সহ কিছু মুল্যবান জিনিষ পত্র জোর পূর্বক নিয়ে যায়। এসময় আমার স্ত্রী মোছাঃ সানোয়ার খাতুন সহ কয়েকজনকে তারা মারপিট করে এবং গ্রামের মৃত গফুর আলীর পুত্র নূরনবী নামে এক জন সাধারণ লোক বাড়িতে উপস্থিত হলে তাকে ধরেফেলে এবং তার পকেটে মরন নেশার ইয়াবা ট্যাবলেট জোর পূর্বক ঢুকিয়ে দিয়ে আটক করে তার বিরাদ্ধেসহ তিনজন কে আসামী করে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। এদিকে ডিবি পুলিশের এস আই মোঃ সাইফুল ইসলাম ও ইয়াবা ব্যাবসায়ী আশরাফ আলীর যোগসাজসে আমাকে ক্ষতি গ্রস্থ করার জন্য আমার হেফাজতে জাল টাকা ও ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া গেছে মর্মে পৃথক পৃথক মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। যার কাজিপুর থানার মামলা নং-১০৭/২০১৫(কাজি)ও ১০৮/২০১৫ইং। ঈর্ষা মূলক তার মিথ্যা মামলা দায়ের করায় আমি অনেক ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছি। প্রকৃত কারণ উৎঘাটন হলে আমি নির্দোষ প্রমানিত হব বলে দৃঢ় প্রত্যায় ব্যাক্ত করছি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন আশরাফ আলী আমার নিকট হতে প্রতারনা মূলক ভাবে টাকা না দেওয়ায় অসৎ উদ্দেশ্যে এবং আমাদেরকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার জন্য পুলিশের সাথে যোগসাজসে আমার বাড়ি হতে ইয়াবা ট্যাবলেট ও জাল টাকা উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। আমি ১০৭/২০১৫ও১০৮/২০১৫(কাজি) নং- মামলার বিষয়ে নিরপেক্ষ এজেন্সি দ্বারা প্রকাশ্যে ও গোপনে তদন্ত করতঃ প্রকৃত ঘটনা বের করার জন্য আমি সংশ্লিষ্টদের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। এদিকে ডিবি পুলিশের এস আই সাইফুল ইসলামের দায়েরকৃত দুটি মিথ্যা মামলার প্রাথমিক ভাবে ফৌজদারী বিধান কেসের ১৭২ধারা অনুযায়ী কেস ডায়েরীতে কাজিপুর থানার এ এস আই মোঃ ছমির উদ্দিন গত ১৪/০৯/২০১৫ তারিখে উল্লেখখিত আইয়ুব আলী সহ তিন জন মামলার আসামীর ব্যাপারে কেস ডায়েরীতে নির্দোষ বলে উল্লেখ করেছেন এবং উপস্থিত গ্রামবাসিকে ডেকে তাদের নামে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা সবাই ভাল বলে পুলিশকে জানায় এবং তিনি কেস ডায়েরীতে উল্লেখ করেছেন, যার নিয়ন্ত্রন নং-২৬৪। আমি আইয়ুব আলী এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যেমে দুটি মিথ্যা মামলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়ার জন্য সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহদয়ের কাছে এ ব্যাপারে সবিনয় অনুরোধ জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কাছিহার গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা গাজী মোক্তাল হোসেন, মুরুবি¦ হারুণ তালুকদার, জয়নাল আবেদিন ও আফছার আলী প্রমুখ।
জহুরুল ইসলাম কাজিপুর প্রতিনিধি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *