দামুড়হুদায় পুলিশ-গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা : পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ক্লোজড
হাবিবুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দলকা-লক্ষীপুর গ্রামে ওয়াজ মাহফিলের টাকা তোলাকে কেন্দ্র করে পুলিশ-গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ৫ জন গুলিবিদ্ধসহ ১১ জন আহতের ঘটনায় অজ্ঞাত ১৫’শ জনের বিরুদ্ধে দামুড়হুদা মডেল থানায় মামলা দায়ের করছে পুলিশ। অন্যদিকে দলকা-লক্ষীপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই রবিউল কে রাতেই পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে বলে পুলিশ সুত্রে জানা গেছে।
দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুজ্জামান জানান, শুক্রবার রাতে দলকা-লক্ষীপুর গ্রামের লোকজন কর্তৃক পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার ঘটনায় শুক্রবার রাতেই অজ্ঞাত এক / দেড় হাজার লোকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। মামলা নং-০২। তাং-০৩.০৪.২০১৫ ইং। তবে এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি।
ওইদিন আত্মরক্ষার্থে পুলিশ ১৯ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছুঁড়েছে বলে ওসি জানান।
চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মো. রশীদুল হাসান জানান, ‘গ্রামবাসী পুলিশ ক্যাম্পে আক্রমন করলে পুলিশ প্রথমে আত্মরক্ষার চেষ্টা করে। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গেলে শর্টগানের গুলি ছুঁড়ে।’
এলাকবাসিরা জানান, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫ টায় গ্রামের ওয়াজ মাহফিলের জন্য টাকা তুলছিল তারাচাঁদের ছেলে মিজানুর (১৮), শাকের আলীর ছেলে আজাবুল (১৬), জাহাবক্স’র ছেলে রিফাত (১৬), কাতু সরদারের ছেলে সাজিদ (১৫), ও রহিম সরদারের ছেলে হুমায়ন (১৬)। এ সময় দলকালক্ষীপুর পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ধরে ক্যাম্পে নিয়ে প্রচন্ড মারধর করে। এ খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যার পর গ্রামবাসীরা উত্তেজিত হয়ে একযোগে ওই পুলিশ ক্যাম্পে হামলা চালায়। এ সময় পুলিশ-গ্রামবাসি সংঘর্ষ শুরু হয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গেলে পুলিশ গুলি বর্ষন শুরু করে। এতে গ্রামের গোলাপ বিশ্বাসের ছেলে মারজুল (৪০) ও বকুল জোয়ার্দ্দারের ছেলে সেলিম (২৪), জিন্নাত আলীর ছেলে মিলন, আঃ রহিমের ছেলে শুভ (১৮), মজনুর রহমানের ছেলে আলমগীর (২৩), ও কাতু সরদারের ছেলে স্বাধীন (১৭) গুলিবিদ্ধ হয়। তাদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে এরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এদিকে এ ঘটনার পর চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার ও স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ রাত ১১ টায় বৈঠক করে। এরপর এলাকার পরিস্থিতি শান্ত হয়।
দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সিরাজুল আলম ঝন্টু জানান, রাতে পুলিশের সাথে বসে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। তবে মামলার বিষয়টি আমার জানা নেই। মামলা হয়ে থাকলে স্থানীয় সংসদ সদস্য বিষয়টি দেখবে।

