বটিয়াঘাটার কাজীবাছা নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় মোবাইল কোর্ট, জব্দ ১০ হাজার মিটার অবৈধ জাল
সেখ রাসেল, বিভাগীয় ব্যুরো চিফ, খুলনা:
মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান–২০২৬ বাস্তবায়ন এবং দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার কাজীবাছা নদীতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) পরিচালিত এ অভিযানে সর্বমোট ১০ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন বটিয়াঘাটা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব মোঃ ফজলে রাব্বি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বটিয়াঘাটা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সেলিম সুলতান।
মা ইলিশ রক্ষায় কঠোর নজরদারি : মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান–২০২৬-এর মূল লক্ষ্য হলো ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা, প্রজনন মৌসুমে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার পরিবেশ তৈরি করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইলিশের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা বজায় রাখা। এ লক্ষ্যে নদ-নদীতে অবৈধ জাল ব্যবহার ও নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরার প্রবণতা প্রতিরোধে প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের তৎপরতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কাজীবাছা নদীতে পরিচালিত এ অভিযানে ১০ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দের ঘটনা মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকার প্রতিফলন। নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং ইলিশের প্রাকৃতিক প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখা জরুরি।
জেলেদের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা: মা ইলিশ সংরক্ষণ ও মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি নিম্নলিখিত নির্দেশনা ও আহ্বান প্রযোজ্য—
১. নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকুন: সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞার সময় ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, ক্রয়-বিক্রয় এবং অন্যান্য নিষিদ্ধ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হবে। কোন কার্যক্রমে কী বিধিনিষেধ প্রযোজ্য, তা সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী অনুসরণ করতে হবে।
২. অবৈধ জাল ব্যবহার করবেন না: নিষিদ্ধ ও অবৈধ জাল ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। বৈধ ও অনুমোদিত জাল ব্যবহারের পাশাপাশি মৎস্য আইন মেনে চলতে হবে।
৩. ইলিশের প্রজননক্ষেত্র সুরক্ষিত রাখুন: নদীতে বর্জ্য ফেলা, মাছের প্রজনন পরিবেশ নষ্ট করা এবং জলজ জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয়—এমন কর্মকাণ্ড পরিহার করতে হবে।
৪. প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন: কোথাও অবৈধ জাল ব্যবহার বা নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরার ঘটনা দেখা গেলে স্থানীয় মৎস্য বিভাগ কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অবহিত করুন। আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে কর্তৃপক্ষের সহায়তা নিন।
৫. জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ান: জেলে সমিতি, আড়তদার, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্মিলিতভাবে আইন মেনে চলার বার্তা ছড়িয়ে দিতে হবে।
৬. সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করুন: নিষেধাজ্ঞার নির্দিষ্ট সময়সীমা, প্রযোজ্য এলাকাসমূহ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিনিষেধ সম্পর্কে উপজেলা মৎস্য দপ্তর ও সরকারি প্রজ্ঞাপন থেকে হালনাগাদ তথ্য জেনে নিন।
আইন অমান্য করলে ব্যবস্থা: মৎস্য সংরক্ষণ ও সুরক্ষা আইন এবং প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুযায়ী নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা, অবৈধ জাল ব্যবহার কিংবা নিষিদ্ধ কার্যক্রমে জড়িত থাকার ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। অপরাধের ধরন ও প্রযোজ্য আইনের বিধান অনুযায়ী জরিমানা, কারাদণ্ড বা অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা প্রযোজ্য হতে পারে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অপরাধ, প্রমাণ ও প্রযোজ্য আইনের বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সবার সম্মিলিত উদ্যোগই পারে ইলিশ রক্ষা করতে
ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ এবং দেশের অর্থনীতি, খাদ্যনিরাপত্তা ও মৎস্যজীবীদের জীবিকার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্যসম্পদের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।
তাই শুধু প্রশাসনের অভিযান নয়, জেলে, ব্যবসায়ী, ক্রেতা, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সচেতনতাই পারে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানকে সফল করতে।
আসুন, নিষেধাজ্ঞা মেনে চলি, মা ইলিশ রক্ষা করি এবং সমৃদ্ধ মৎস্যসম্পদ গড়ে তুলতে সবাই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করি।

