বাগেরহাটে দীর্ঘদিন বন্ধ ‘জিয়া অরফানেস ট্রাস্ট’ চালুর দাবি সংসদে বেকারদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে দ্রুত প্রতিষ্ঠানটি চালুর আহ্বান এমপি শেখ মনজুরুল হক রাহাদের
এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা বাগেরহাটের ‘জিয়া মেমোরিয়াল অরফানেস ট্রাস্ট’ পুনরায় চালুর দাবি জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধি অনুসারে সোমবার জাতীয় সংসদে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি তুলে ধরে তিনি প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
সংসদে বক্তব্যে শেখ মনজুরুল হক রাহাদ বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে প্রতিষ্ঠিত বাগেরহাটের জিয়া মেমোরিয়াল অরফানেস ট্রাস্ট দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। একসময় এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দর্জি বিজ্ঞান, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্সসহ বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। এর মাধ্যমে হতদরিদ্র ও বেকার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছিল।
তিনি বলেন, ২০১৯ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ভবন ও অবকাঠামো বর্তমানে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নতুন করে চালু করা গেলে বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
৩.৯০ একর জমিতে প্রতিষ্ঠা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাট সদর উপজেলার বেমরতা ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামে ৩.৯০ একর জমির ওপর ‘জিয়া অরফানেস ট্রাস্ট’ প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণ করা হয়। ১০ থেকে ১৮ বছর বয়সী এতিম ও দুস্থ শিশুদের লালন-পালন, শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৯৪ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. এম. মোস্তাফিজুর রহমান প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণ করেন।
একসময় এতিম ও দুস্থ শিশুদের আশ্রয়, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন কারিগরি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ থাকায় প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা—আবারও প্রাণ ফিরুক পরিত্যক্ত প্রতিষ্ঠানে
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর জাতীয় সংসদে প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালুর দাবি ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, একসময় যে প্রতিষ্ঠানটি এতিম-দুস্থ শিশুদের স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি বেকারদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখত, সেটি বছরের পর বছর বন্ধ পড়ে থাকা দুঃখজনক।
তাদের মতে, পরিত্যক্ত ভবন সংস্কার করে আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালু করা গেলে বাগেরহাটের বেকার তরুণ-তরুণীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।
সংসদে জনগুরুত্বপূর্ণ এ দাবি তুলে ধরায় স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এখন প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নেবে—এমন প্রত্যাশা তাদের।

