বটিয়াঘাটা ইউএনও থান্দার কামরুজ্জামানের উদ্যোগে ৩ বছর পর সচল ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, প্রসবসেবায় জন্ম নিল কন্যাশিশু

সেখ রাসেল, বিভাগীয় ব্যুুরো চিফ, খুলনা:
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার ৬ নং বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সেবা ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র দীর্ঘ প্রায় তিন বছর ধরে জনবল সংকটের কারণে কার্যক্রম ব্যাহত থাকার পর অবশেষে নতুন করে সচল করলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) থান্দার কামরুজ্জামান। তার ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দ ফিরে এসেছে। তার বিভিন্ন সমাজ উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডে ইতিমধ্যে বাহবা কুড়িয়ে মানবিক (ইউএনও) হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। সাধারণত প্রশাসনের কেউ জনগণের মন রক্ষা করতে পারে না, সেখানে উনি মানুষের মনের ভালোবাসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি চালুর পরপরই মিলেছে মানবিক সেবার একটি আনন্দঘন সাফল্য। উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা শেখ রাসেল এবং আফসান বেগমের ঘর আলো করে একটি কন্যা সন্তানের আগমন ঘটেছে। আফসানা বেগম কে সেবা প্রদান করেন স্বাস্থ্যকর্মী FWV বটিয়াঘাটা কিসমত ফুলতলা গ্রামের সুজিত রায় এর কন্যা অবন্তিকা রায় ও FWA নিগার সীমা দের সেবায় সফল ও স্বাভাবিকভাবে প্রসাবের মাধ্যমে কন্যা শিশুটি ভূমিষ্ঠ হয়েছে।
দীর্ঘদিন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শীকার পদটিতে জনবল না থাকায় স্বাভাবিক প্রসব সেবা বিঘ্নিত হয়ে আসছিল। মানবিক থান্দার কামরুজ্জামান উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসাবে পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় খুলনা এর উপপরিচালক মহোদয়ের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে জনবলের ব্যবস্থা করেন এবং ফলস্বরূপ ১৯/০৩/২০২৩ তারিখের পর আবার স্বাভাবিক প্রসব কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হলো। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের এই কার্যক্রম আরো বেগবান হোক। ভালো থাকুক বটিয়াঘাটার মা এবং সন্তানেরা।

দীর্ঘদিন পর পুনরায় চালু হওয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রসবসেবার মাধ্যমে একটি নবজাতকের জন্ম স্থানীয়দের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এলাকাবাসীর মতে, দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটের কারণে কেন্দ্রটির কার্যক্রম ব্যাহত থাকায় সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পেতে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তেন গর্ভবতী নারী ও প্রসূতিসহ মা ও শিশুরা।

স্থানীয়রা জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ে সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এ ধরনের স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দীর্ঘদিন পর কেন্দ্রটি সচল হওয়ায় এখন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে গর্ভবতী নারীরা হাতের কাছেই প্রয়োজনীয় মাতৃ ও প্রসবসেবা পাওয়ার আশা করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এ উদ্যোগকে প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করে বলেন, একটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়া এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত সুখবর। বিশেষ করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি চালুর পরপরই নিরাপদ প্রসবসেবার মাধ্যমে একটি কন্যাশিশুর জন্ম হওয়ায় সেবার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বেড়েছে।

তবে এলাকাবাসীর দাবি, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির কার্যক্রম যাতে আর ব্যাহত না হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

দীর্ঘ তিন বছরের স্থবিরতা কাটিয়ে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নতুন যাত্রা এবং সেখানেই একটি নবজাতকের জন্ম—বটিয়াঘাটার মানুষের কাছে যেন এটি শুধু একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু হওয়ার খবর নয়, বরং মানবিক সেবা ও নতুন জীবনের আশাব্যঞ্জক এক প্রতীক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *