লালমনিরহাটে আলোচিত শিশু নন্দিনী হত্যা মামলায় প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড
লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার আলোচিত শিশু নন্দিনী রায় হত্যা মামলায় প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রের মৃত্যুদণ্ড এবং তার বাবা-মাকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রোববার (২৩ আগস্ট) ২০২৬ লালমনিরহাটের আদালতে এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। মামলার ঘটনার মাত্র দুই মাস আট দিনের মধ্যে রায় ঘোষণা হওয়ায় বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১৫ জুন (সোমবার) আদিতমারী উপজেলার ফলিমারী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু নন্দিনী রায় বাড়ি থেকে খেলতে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা রাতভর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরদিন মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাখেত থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় নন্দিনীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার পর সন্দেহভাজন হিসেবে প্রতিবেশী বিধান চন্দ্র ও তার বাবা রনজিত কুমারকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষুব্ধ জনতার সংঘর্ষে ১৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হন এবং কয়েকটি সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের শিকার হয়। পরে বিজিবি মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
এ ঘটনায় নন্দিনীর বাবা তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ১৭ জুন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে বিধান চন্দ্র নন্দিনীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায় স্বীকার করেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়। হত্যার পর মরদেহ গোপন করতে ভুট্টাখেতে নিয়ে যাওয়ার কথাও তিনি স্বীকার করেন। এ কাজে তার বাবা রনজিত কুমার ও মা মমতা রানী সহযোগিতা করেছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়।
জবানবন্দি গ্রহণের পর বিধান চন্দ্র ও তার বাবাকে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।
রোববার আদালত রায় ঘোষণার সময় প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রকে মৃত্যুদণ্ড এবং সহযোগী আসামি তার বাবা রনজিত কুমার ও মা মমতা রানীকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন।
শিশু নন্দিনী হত্যার ঘটনায় দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শুরু থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছিল। রায় ঘোষণার পর এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

