কালবৈশাখীর তাণ্ডবে হরিপুরে বিদ্যুৎ বিপর্যয়: সচল থাকতে জেনারেটরে চার্জ, ২০ টাকায় মিলছে টকটাইম

জসীমউদ্দীন ইতি, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
উত্তর জনপদের সীমান্ত ঘেঁষা জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঝড়ে গাছপালা উপড়ে পড়ে এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার ছিঁড়ে যাওয়ায় গত কয়েকদিন ধরে পুরো উপজেলা অন্ধকারে নিমজ্জিত। এই বিদ্যুৎহীন অবস্থায় সবচাইতে বেশি বিপাকে পড়েছেন মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীরা। জরুরি যোগাযোগ রক্ষা করতে এখন জেনারেটরই হয়ে উঠেছে মানুষের শেষ ভরসা।

উপজেলার মন্নাটুলী বাজারসহ বিভিন্ন স্থানীয় হাট-বাজারে দেখা গেছে এক ব্যতিক্রমী চিত্র। যেখানে মানুষ ভিড় করছেন বিদ্যুৎ পাওয়ার আশায় নয়, বরং জেনারেটরের মাধ্যমে মোবাইল ফোনটি একটু চার্জ দিয়ে সচল করার জন্য। ব্যবসায়ীরা জেনারেটর চালিয়ে মাল্টিপ্লাগের মাধ্যমে সারি সারি মোবাইল চার্জ দিচ্ছেন। আর এই সেবা নিতে গ্রাহকদের প্রতি মোবাইল চার্জ বাবদ গুণতে হচ্ছে ২০ টাকা করে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঝড়ের পর থেকে পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। কতক্ষণে বিদ্যুৎ ফিরবে তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। এদিকে মোবাইলে চার্জ না থাকায় বিদেশের স্বজন বা জরুরি প্রয়োজনে কারও সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছিল না। বাধ্য হয়েই ২০ টাকা খরচ করে মোবাইলে প্রাণ ফেরাচ্ছেন তারা।

বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি গোদের ওপর বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে মোবাইল নেটওয়ার্কের বেহাল দশা। ঝড়ের পর থেকেই গ্রামীণফোন, বাংলালিংক ও এয়ারটেলসহ প্রায় সব অপারেটরের টাওয়ারে বিদ্যুৎ ব্যাকআপ না থাকায় নেটওয়ার্ক অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক জায়গায় নেটওয়ার্ক একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষ যেমন দুর্ভোগে পড়েছেন, তেমনি ব্যবসায়িক ও দাপ্তরিক কাজকর্মেও স্থবিরতা নেমে এসেছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ে লাইনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় তারের ওপর বড় বড় গাছ পড়ে আছে, যা পরিষ্কার করে লাইন সচল করতে কর্মীরা নিরলস কাজ করছেন। তবে ঠিক কতক্ষণের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না তারা।

ততক্ষণ পর্যন্ত হরিপুরের এই দুর্গম এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য জেনারেটরের ২০ টাকার চার্জই হয়ে উঠেছে বেঁচে থাকার ও যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই দুর্ভোগের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যা স্থানীয়দের অসহায়ত্বের এক প্রতিচ্ছবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *