বাগেরহাটের রামপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: বাস–মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ১৩, একই পরিবারের ১১ জন

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির,বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১১ জন একই পরিবারের সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই মর্মান্তিক ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকাল চারটার দিকে বেলাইব্রিজ এলাকায় খুলনা–মোংলা মহাসড়কে একটি বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় মানুষ, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, মোংলা থেকে ছেড়ে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস বেলাইব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা মোংলাগামী একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে দুটি গাড়ির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন যাত্রীর মৃত্যু হয় এবং অনেকেই গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে তাদের রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের মরদেহ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে, আর অন্যদের মরদেহ নেওয়া হয়েছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

জাফর আহমেদ জানান, নিহতদের অধিকাংশই মাইক্রোবাসের যাত্রী ছিলেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সব হতাহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ কারণে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, খুলনা–মোংলা মহাসড়কে প্রায়ই দ্রুতগতির যানবাহনের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। তারা মহাসড়কে কঠোর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই পরিবারের এতজনের প্রাণহানিতে স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *