ইরানের প্রতিরোধে দিশেহারা ট্রাম্প, যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাবে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র নয়: আইআরজিসি, ট্রাম্প নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা
সেখ রাসেল, দপ্তর সম্পাদক:
ইরান ও ইসরায়েল যুদ্ধে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছেন যুক্ত রাষ্ট্রের ডোনাল ট্রাম্প। ট্রাম্প কল্পনাও করেনি ইরান এভাবে গর্জে উঠবে। তার কারণ ট্রাম্প দাবি করেছেন ইরান যুদ্ধ বিরতী চেয়ে আলোচনায় বসতে চায়, কিন্তু জানাগেলো দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। নিজেকে বাঁচাতে এমন মিথ্যার আশ্রয় খুজে নিয়েছে।
ইরানের শাসনব্যবস্থাকে উপড়ে ফেলার আশা নিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দেশটিতে হামলা চালায়। প্রথম হামলাতেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ৪০ জনেরও বেশি শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। কিন্তু ইরান পাল্টা হামলা শুরু করলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব ঘাঁটিতে হামলা চালায় তেহরান। এতে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার খবর মিলেছে। এছাড়া ইসরাইলেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। এ অবস্থায় যুদ্ধ শেষ করার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছেন ট্রাম্প। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, শিগগির ইরান যুদ্ধ শেষ হতে পারে। তবে ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র নয়, যুদ্ধের শেষ কবে হবে তা নির্ধারণ করবে তেহরান। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায়ও আগ্রহী নয় বলে জানিয়েছে। খবর আলজাজিরা ও বিবিসির।
গতকাল মঙ্গলবার ছিল যুদ্ধের এগারতম দিন। এদিন হামলা ও পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে দুই পক্ষই। ইরান আঘাত হেনেছে ইসরাইলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন স্বার্থে। অন্যদিকে ইসরাইল হামলা চালিয়েছে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে। এছাড়া লেবাননের পরিস্থিতিও দিন দিন নাজুক হচ্ছে। এরই মধ্যে নেতনিয়াহুর মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি কতটুকু সত্য তা এখনও জানা যায়নি।
এই যুদ্ধ শিগগির শেষ হবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেছেন, সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যেই ইরানের প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংস করেছে। বাকি লঞ্চারগুলো খুব দ্রুত ধ্বংস করা হবে। মার্কিন সেনাবাহিনী ৪৬টি ইরানি নৌবাহিনীর জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে। এই অভিযান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এর ফলে একটি অনেক নিরাপদ পৃথিবী তৈরি হবে।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মুজতবা খামেনির নিয়োগ কোনোভাবেই মানতে পারছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার বিষয়ে ইরানকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যদি ইরান এমন কিছু করে যা হরমুজ প্রণালিতে তেলের প্রবাহ বন্ধ করে দেয়, তাহলে তারা এখন পর্যন্ত যতটা আঘাত পেয়েছে তার চেয়ে ২০ গুণ বেশি আঘাত পাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে।
অন্যদিকে কঠোর হামলা চালানো নিয়ে ট্রাম্পের হুমকিকে পাত্তাই দিচ্ছে না ইরান। ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি বলেছেন, ইরান আপনার ফাঁকা হুমকিকে ভয় পায় না। আপনার চেয়েও বড়রা ইরানকে নির্মূল করতে পারেনি। নিজের প্রতি খেয়াল রাখুন যেন নির্মূল হয়ে না যান! ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বলেছে, ওয়াশিংটন নয়, যুদ্ধ কবে শেষ হবে তা নির্ধারণ করবে তেহরান। বাহিনীটির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি মোহাম্মদ নায়েনি বলেন, অপমানজনক পরাজয়ের পর মিথ্যা সামরিক সাফল্য দেখানোর চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যুদ্ধের সমাপ্তি শুধু আমরাই নির্ধারণ করব।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় ৪৮৬ জন নিহত হয়েছে।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনিকে তার বাবা ও সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর জন্য সমবেদনা জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ চিঠি লিখেছেন মুজতবা খামেনির নেতৃত্বে ইরান আগামী বছরগুলোতে শান্তি, স্থিতিশীলতা, মর্যাদা ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।
নতুন করে ইসরাইলে মিসাইল ছুড়ল ইরান ইসরাইলকে লক্ষ্য করে ফের মিসাইল ছুড়েছে ইরান। দীর্ঘ সময় হামলা বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ১২টার দিকে নতুন মিসাইল হামলা চালায় তেহরান। মিসাইলের প্রভাবে ইসরাইলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেলআবিব ও আশপাশের অঞ্চলে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের সময়সীমা নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তার জবাব দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তারা বলেছে, এই যুদ্ধ কখন শেষ হবে তা ওয়াশিংটন নয়, তেহরানই নির্ধারণ করবে। আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নাঈনি ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘মিথ্যা ছাড়া আর কিছু নয়’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, অপমানজনক পরাজয়ের পর ট্রাম্প ‘ভুয়া সামরিক সাফল্য তৈরি করার চেষ্টা করছেন’।

