ভোটে আসায় বিএনপিকে স্বাগত প্রধানমন্ত্রীর


অপরাধ তথ্যচিত্র ডেক্স: নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয়ায় বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে স্বাগত জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রবিবার (১১ নভেম্বর) বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় সংসদীয় বোর্ডের সভায় বক্তব্যে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানান শেখ হাসিনা।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করাই সরকারের লক্ষ্য। জনগণ যাদের ভোট দেবে তারাই বিজয়ী হবে। আমরা সকলে মিলে নির্বাচন করবো। সবাই যেহেতু নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেজন্য সবাইকে ধন্যবাদ ও স্বাগত জানাচ্ছি।’সংলাপের ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনটা কীভাবে করবো এবং নির্বাচন যাতে সুষ্ঠুভাবে হয় সে বিষয়েই আলোচনা হয়েছে। অনেকে অনেক দাবি-দাওয়া করেছিল। বেশ কিছু আমরা মেনে নিয়েছি।’নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের ভূমিকা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, ‘নির্বাচনটা যেন সকলের জন্য অংশগ্রহণমূলক হতে পারে, সবাই যেন নির্বাচন করার সুযোগ পায় সেদিকে আমরা দৃষ্টি রাখব, সে কথা আমরা দিয়েছি।’যে দলই ক্ষমতায় থাকুক দেশের চলমান উন্নয়নের ধারা যেন ব্যাহত না হয়- এ কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভানত্রেী বলেন, ‘আমরা সব সময় এটাই চাই যে, আমরা যে উন্নয়নটা করেছি তার ধারা যেন অব্যাহত থাকে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এই গতিটা যেন কোনোমতেই থেমে না যায়।’১৪ দলীয় জোটের মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘৩০০ আসনেই নিজেদের প্রার্থী থাকলেও জোট শরিকদের জন্য কিছু আসন ছেড়ে দেয়া হবে।’একাদশ জাতীয় নির্বাচনে উপযুক্ত প্রার্থী বাছাই করেই তাঁর দল মনোনয়ন দেবে বলেও জানান শেখ হাসিনা।
উল্লেখ্য, শরিক দলগুলোর সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক শেষে রবিবার (১১ নভেম্বর) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দেয় বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। আগামীকাল সোমবার সকাল ১০টা থেকে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করবে বিএনপি। বিএনপি আসন্ন নির্বাচনে নিবন্ধিত ৮টি শরিক দল নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোটে লড়বে। বিএনপি ছাড়াও অপর ৭টি দল হলো- লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), খেলাফত মজলিস, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।এর আগে গত ৮ নভেম্বর জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া এক ভাষণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ১৯ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে ২২ নভেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ নভেম্বর। আর ভোট হবে ২৩ ডিসেম্বর।তবে তফসিল পিছিয়ে নির্ধারিত তারিখের একমাস পর নির্বাচন দেয়ার জন্য কমিশনের প্রতি দাবি জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। অন্যদিকে নির্বাচন এক সপ্তাহ পেছানোর দাবি জানিয়ে কমিশনকে চিঠি দিয়েছে বি.চৌধুরীর যুক্তফ্রন্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *