বাগাতিপাড়ায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে হত্যার হুমকি! থানায় জিডি

রফিকুল ইসলাম রোজ নিজস্ব প্রতিবেদক: নাটোরের বাগাতিপাড়ায় সাবেক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ, দোকানঘর দখল ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে বাগাতিপাড়া মডেল থানায় জিডি করেছেন মুক্তিযোদ্ধা পরিবার।সম্প্রতি তমালতলা বাজারের উপর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মালিকানাধীন মার্কেটের একটি দোকানঘর জোরপূর্বক দখল করে নেন সাবেক ইউপি সদস্যে আজিজুল হাকিম। কিন্তু পরবর্তিতে স্থানীয়দের চাপে রুমটি ছেড়ে দেয়ার কথা স্বিকার করলেও তা করেনি হাকিম। এ ঘটনায় রোজ বাগাতিপাড়া মডেল থানায় নিরাপত্তার স্বার্থে জিডি করেন। জিডি নং ৫৪৯।তবে সকল অভিযোগ অস্বিকার করে অভিযুক্ত আজিজুল হাকিম দাবী করেন, ‘বাড়ি থেকে উচ্ছেদ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার বিষয়টি মিথ্যা। রোজ ও তার পরিবারের সাথে আমার পূর্বেই জমি-জমা সংক্রান্ত লেনদেন ছিল।’ বিষয়টি আইন সিদ্ধ ও ন্যায় সঙ্গতভাবে নিরসনের জন্য সর্বদা প্রস্তুত আছেন বলে জানান তিনি। বীরমুক্তিযোদ্ধা মরহুম আলহাজ্ব আব্দুর রশিদের ছেলে ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ সংগঠনের জেলা সভাপতি রফিকুল ইসলাম রোজ দাবী করেন, ‘এক সময়ের নছিমন-করিমনের ড্রাইভার, পরে কশাই, গরু-মহিষের দালালী করতে করতে এখন গড়ে তুলেছেন নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী। প্রথমে থেকেই ব্যাক্তি স্বার্থে দল পরিবর্তন করা তার একটি বৈশিষ্ঠ হয়ে উঠে। দলছুট হাকিম বর্তমান সরকারের সময়ে আওয়ামীলীগে যোগ দিয়ে পদ পেয়ে যান। থানা আওয়ামীলীগের সর্বশেষ কাউন্সিলে অর্থ বিষয়ক সম্পাদক পদ পেয়েও দলীয় সৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে বহিস্কৃত হয়। রাজনীতি করে অঢেল অর্থের মালিক হয়েছে আজিজুল হাকিম। এক সময়ের ভাঙ্গাচুরা বাড়ি এখন ফ্লাটে পরিনত হয়েছে। মাঠেও কিনেছেন বেশ কয়েক বিঘা জমি। সরকারী বিভিন্ন প্রজেক্ট এর নামমাত্র কাজ করেই অর্থ আত্মসাত করা, সরকারী খাস জমি দখল করে দোকান ঘর তৈরী করে তা লক্ষাধিক টাকায় বিক্রি করা, স্কুলের নিয়োগ বানিজ্য, অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন গ্রাম্য শালিশে প্রভাব খাটানো এখন তার প্রধান কাজে পরিনত হয়েছে। নিজেস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী থাকায় তার এমন কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করতে সাহস পান না এলাকাবাসী। ভূমি দস্যু সন্ত্রাসী আজিজুল হাকিম এলাকার বিভিন্ন অপকর্মের হোতা। এভাবে চলতে থাকলে তার দ্বারা অনেক পরিবারই পথে বসা সহ প্রাণনাশ হতে পারে।’ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।বিষয়টি নিয়ে বাগাতিপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যাপক আবুল হোসেন বলেন, ‘মরহুম বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুর রশিদ এর দলের জন্য অবদান অস্বিকার করার সুযোগ নেই। উপজেলা আওয়ামীলীগের পার্টি অফিস ও শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ এবং শহীদ মিনার তাঁর দানকরা জমিতে অবস্থিত। অথচও ওই পরিবারের বিরুদ্ধে এমন ঘটনাটি খুবই দুঃখ জনক ও নিন্দনীয়।’এ ব্যাপারে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কাউন্সিলের প্রশাসক ও নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন বানু বলেন, ‘আমি বিষয়টি অবহিত হয়েছি। এভাবে একজন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ঘর সে দখল করতে পারে না। আমি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করবো।’

