প্রতিবেশীর বাড়িতে গ্যাসলাইট আনতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার কিশোরী

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের উলিপুরে প্রতিবেশীর বাড়িতে গ্যাসলাইট আনতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী। এ ঘটনায় দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগীর মা। ঘটনার পর কিশোরীকে হত্যার হুমকি দিয়ে মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে উলিপুর থানায় মামলাটি করা হয়। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাঁকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্যাসলাইট আনার কথা বলে ডেকে নেওয়া:
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার বজরা ইউনিয়নে নিজ বাড়ির পাশের উঠানে কাজ করছিলেন ওই কিশোরী। এ সময় প্রতিবেশী নতিজার ফারাজির ছেলে নয়ন ফারাজি (২২) তাঁকে নিজের বাড়ি থেকে একটি গ্যাসলাইট নিয়ে আসতে বলেন।

প্রতিবেশীর কথায় সরল বিশ্বাসে তাঁর বাড়িতে যান কিশোরী। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন ইকবাল সরদারের ছেলে বাইজিদ সরদার (২০)। কিশোরী বাড়িতে পৌঁছালে বাইজিদ তাঁকে জাপটে ধরেন।

এ সময় কিশোরী চিৎকার করলে তাঁকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে জোরপূর্বক বাড়ির শয়নকক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেন বাইজিদ বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনা প্রকাশ না করতে হত্যার হুমকি:
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনার পর কিশোরী বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানাবেন বলে জানালে বাইজিদ তাঁকে খুন-জখমের হুমকি দেন। ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

পরে কিশোরী বাড়িতে ফিরে তাঁর মা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছে ঘটনার বিবরণ দেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করেন পরিবারের সদস্যরা।

একপর্যায়ে বুধবার রাতে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে বাইজিদ সরদার ও নয়ন ফারাজির নাম উল্লেখ করে উলিপুর থানায় মামলা করেন।

ডাক্তারি পরীক্ষা, গ্রেপ্তারে অভিযান:
উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার পর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করার জন্য বৃহস্পতিবার তাঁকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *