বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আলোড়ন: একদিকে ট্রাম্পের নির্বাচনী ধাক্কা, অন্যদিকে তেহরানে হত্যার হুমকি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
রিপাবলিকানকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আবদুল আল-সাইদ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর, মিশিগানে ডেমোক্র্যাটদের জয়, ট্রাম্প শিবিরে বড় ধাক্কা।
ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগানের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট আসনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে ইতিহাস গড়েছেন ডেমোক্র্যাট আবদুল আল-সাইদ। তাঁর এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে দেশটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে মার্কিন সিনেটর নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন তিনি।
৪২ বছর বয়সী চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আল-সাইদ নির্বাচনে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং রাজনীতিতে করপোরেট অর্থের প্রভাব কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের সমর্থন আদায় করেন।
নির্বাচনী প্রচারে তাঁকে ঘিরে বিতর্কও কম হয়নি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ রিপাবলিকান নেতাদের একাংশ তাঁর ধর্মীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আক্রমণাত্মক প্রচার চালান। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের রায়ে জয়ী হন এই প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট।
আল-সাইদের বিজয় শুধু মিশিগানের রাজনীতিতে নয়, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতিতেও নতুন বার্তা দিয়েছে। বিশেষ করে অভিবাসী পরিবারের সন্তান ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে তাঁর এই অর্জনকে ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষণ: জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা ও ইরান যুদ্ধ নিয়ে জনঅসন্তোষের মধ্যে আল-সাইদের জয় ডেমোক্র্যাটদের জন্য বড় রাজনৈতিক সাফল্য। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে প্রগতিশীল নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকেও সামনে এনেছে।
ট্রাম্পকে হত্যা করব’—তেহরানে বিশাল বিলবোর্ড, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের উত্তেজনা তুঙ্গে, ইরানের রাজধানীতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ঘিরে
তেহরান: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কারাগারের পেছনে বন্দী অবস্থায় দেখিয়ে বিশাল বিলবোর্ড স্থাপন করেছে ইরান। রাজধানী তেহরানের ব্যস্ত এনগেলাব স্কয়ারে স্থাপিত বিলবোর্ডে ইংরেজিতে লেখা হয়েছে—‘We will kill Trump’ (আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব)।
৩ নভেম্বর প্রকাশ্যে আসা এই বিলবোর্ডে ট্রাম্পকে মাথা নিচু করে কারাগারের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। একই এলাকায় আরেকটি বিশাল ব্যানারে ট্রাম্প, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে রক্তাক্ত মুখ ও ছেঁড়া পোশাকে উপস্থাপন করা হয়েছে।
বিলবোর্ড ঘিরে তেহরানে জড়ো হন বহু মানুষ। তাঁদের হাতে ছিল লাল পতাকা ও প্রতিশোধের আহ্বানসংবলিত ব্যানার। ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডের পর দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা এবং কূটনৈতিক আলোচনার প্রচেষ্টা—দুই-ই চলছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজার ও জ্বালানি দামের ওপর প্রভাব ফেলেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষণ: তেহরানের এই বিলবোর্ড কেবল রাজনৈতিক প্রচার নয়; এটি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে গভীর বৈরিতা এবং প্রতিশোধমূলক বক্তব্যের তীব্রতারও প্রতিফলন। তবে বিলবোর্ডের বক্তব্যকে ইরানের পক্ষ থেকে প্রকাশ্য হুমকি হিসেবে দেখা গেলেও, এটি নিজে কোনো নির্দিষ্ট হামলার পরিকল্পনার প্রমাণ নয়।

