সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বিজিবি-বিএসএফের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সীমান্ত হত্যা বন্ধ, চোরাচালান প্রতিরোধ ও মানুষের নিরাপত্তায় দুই দেশের দৃঢ় অঙ্গীকার

জাকির হোসেন, বেনাপোল (শার্শা) প্রতিনিধি

সীমান্তে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও জোরদারের প্রত্যয়ে বৈঠকে বসেছেন বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সীমান্ত হত্যা বন্ধ, চোরাচালানসহ সব ধরনের সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধ এবং সীমান্তবর্তী মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বাংলাদেশের বেনাপোল সীমান্তের ওপারে ভারতের পেট্রাপোল বিএসএফ কনফারেন্স সেন্টারে বিজিবি দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ও বিএসএফ সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ারের আইজি পর্যায়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বিজিবির ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান। অন্যদিকে, বিএসএফের সাত সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ারের আইজি ইন্সপেক্টর জেনারেল শ্রী দলজিত সিং, আইপিএস।

সীমান্ত হত্যা বন্ধ ও অপরাধ দমনে গুরুত্ব

বৈঠকে সীমান্ত হত্যা বন্ধ, চোরাচালানসহ সব ধরনের সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বিশেষ গুরুত্ব পায় সীমান্তে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো এবং সীমান্তবর্তী মানুষের জীবন, সম্পদ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি। উভয় পক্ষই সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

সীমান্তসংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা পারস্পরিক যোগাযোগ, সমঝোতা ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন দুই দেশের কর্মকর্তারা। পাশাপাশি দুই বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক, নিয়মিত যোগাযোগ ও কার্যকর সমন্বয় আরও সুদৃঢ় করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তাঁরা।

‘সীমান্তের দুই পাশে মানুষের জীবন ও জীবিকা জড়িত’

যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, “সীমান্ত কেবল দুই দেশের ভৌগোলিক সীমানা নয়, এর দুই পাশে রয়েছে অসংখ্য মানুষের বসতি, জীবন-জীবিকা ও পারিবারিক-সামাজিক সম্পর্ক। তাই সীমান্তে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি বলেন, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক দুই বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি সীমান্তবর্তী মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা, আস্থা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরিবেশ তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বিজিবির এই কর্মকর্তা আরও জানান, বৈঠকের আলোচনা ও সিদ্ধান্ত সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে উভয় পক্ষ আশাবাদী।

সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বৈঠক শেষ

অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে শেষ হয় বলে জানান বিজিবির এই কর্মকর্তা।

সীমান্তে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *