বটিয়াঘাটায় বসতবাড়িতে হামলা, স্বামী-ছেলেকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ; ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে উদ্ধার

সেখ রাসেল, বিভাগীয় ব্যুরো চিফ, খুলনা:
খুলনার বটিয়াঘাটায় পূর্বশত্রুতার জেরে এক পরিবারের ওপর হামলা, বসতঘর ভাঙচুর, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট এবং তিন বছরের শিশুকে ছুড়ে মারার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন গৃহকর্তা মোঃ হাসেম খাঁ (৬২) ও তাঁর ছেলে আল-আমিন খাঁ (৩২)। আহত হয়েছেন গৃহকর্তার স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগম (৫৪) এবং তাঁদের তিন বছরের নাতনি আনিশাও (৩)।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে খুলনার বটিয়াঘাটা থানাধীন গঙ্গারামপুর মধ্যপাড়া গ্রামে নুরুন্নাহার বেগমের বসতবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পূর্ববিরোধ ও আদালতে দায়ের করা একটি মামলা তুলে নেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে ১, ২ ও ৩ নং বিবাদীরা হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে প্রতিপক্ষ: ১। রাজ্জাক শেখ (৫৫), পিং-রশিদ শেখ, ২। আছর (২৭), পিং-রাজ্জাক, উভয় সাং-কায়েমখোলা, ৩। শ্রীবাস কবিরাজ (৪০), পিং-কালিপদ কবিরাজ, সাং-গঙ্গারামপুর, ৪। একলাজ (৩৭), পিং-ইব্রাহীম, ৫। ফরহাদ (২৩), পিং-ইব্রাহীম, ৬। রফিকুল ফকির (৩৬), পিং-ইরাদাদ, ৭। মুরাদ (৩৫), পিং-ইব্রাহীম, ৮। সেকেন শেখ (৩৭), পিং-কুদ্দুস শেখ, ৯। রবিউল (৪০), পিং-জব্বার, ১০। আরিফিন (ছুট্টি) (৪৫), পিং-আকবর শেখ, ১১। রশিদ শেখ (৫১), পিং-তায়জদ্দিন, সর্ব সাং-কায়েমখোলা, থানা-বটিয়াঘাটা, খুলনা সহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৬/১৭ জনদের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ১, ২ ও ৩ নং সহ ১ নং রাজ্জাক শেখ ও তাঁর ছেলে আছরসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৬-১৭ জনকে অভিযুক্ত করে দায়ের করা এজাহারে বলা হয়েছে, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দলবদ্ধভাবে বাড়িতে প্রবেশ করে তাঁরা হাসেম খাঁ ও তাঁর ছেলে আল-আমিনের ওপর হামলা চালান। এ সময় হাসেম খাঁর মাথায় ধারালো দা দিয়ে কোপ দেওয়া হয়। ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে আল-আমিনের ডান হাতের তর্জনী ও গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগে। তাঁর মাথায় লোহার রড দিয়েও আঘাত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া নুরুন্নাহার বেগমকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, বসতঘরের ট্রাংক ভাঙচুর করে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা ও দেড় ভরি স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় তিন বছরের শিশু আনিশাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তুলে ছুড়ে মারার অভিযোগও রয়েছে।

৯৯৯-এ ফোন, পুলিশি উদ্ধার: অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আহত হাসেম খাঁকে চিকিৎসা নিতে বাধা দিতে প্রতিপক্ষ তাঁকে আটকে রাখে। পরে তাঁর ছেলে আল-আমিন ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে বটিয়াঘাটা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসেম খাঁকে উদ্ধার করে বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। আল-আমিনও বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের আরও অভিযোগ, ঘটনার পর অভিযুক্তরা মামলা করলে পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। আহতদের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় থানায় এজাহার দিতে বিলম্ব হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাদী নুরুন্নাহার বেগম।

এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য এবং পুলিশের তদন্তের অগ্রগতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ: গঙ্গারামপুরের এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, আহতদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *