আপনি যুক্তরাষ্ট্রে কেন এসেছেন?’ নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে ঘিরে বিক্ষোভ, ভিডিওতে তীব্র স্লোগান

নিজস্ব প্রতিবেদক | আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নিউইয়র্ক, ১৩ অক্টোবর ২০২৬: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিক্ষোভ ও তীব্র বাক্যবাণের মুখে পড়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (১২ অক্টোবর) দোহা থেকে কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরের ৮ নম্বর টার্মিনালে তাঁকে লক্ষ্য করে একদল ব্যক্তি স্লোগান দেন এবং তাঁর সরকারের ভূমিকা নিয়ে নানা অভিযোগ তোলেন। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। [সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও বিডিনিউজ২৪.কম]

‘কেন এখানে এসেছেন?’—প্রশ্নে প্রশ্নে উত্তপ্ত পরিস্থিতি:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হুইলচেয়ারে বসা ড. ইউনূসকে ঘিরে কয়েকজন ব্যক্তি উচ্চস্বরে কথা বলছেন। তাঁদের একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি সন্ত্রাসী। আপনি বাংলাদেশে মানুষ হত্যা করেছেন। কেন এখানে এসেছেন? আমাদের বলুন, কেন এসেছেন?’

ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের বাংলাদেশের গণতন্ত্র, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পুলিশ সদস্যদের মৃত্যুর ঘটনা নিয়েও অভিযোগ তুলতে শোনা যায়। একপর্যায়ে একজন দাবি করেন, ড. ইউনূসের শাসনামলে দুই লাখ মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং হাজার হাজার পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে এসব বক্তব্য ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের করা অভিযোগ; এগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

ভিডিওতে যা দেখা গেল:
ভিডিওতে ড. ইউনূসকে নিরাপত্তাকর্মী ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের সহায়তায় এগিয়ে যেতে দেখা যায়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা তাঁর উদ্দেশে সমালোচনামূলক বক্তব্য ও স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ দেখা যায় বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ভিডিওটির পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট, ঘটনার আগে-পরে কী ঘটেছিল এবং বিক্ষোভকারীদের প্রত্যেকের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

কারা ছিলেন বিক্ষোভে?
ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিক্ষোভকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। বিডিনিউজ২৪.কমের প্রতিবেদনে ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে বিক্ষোভকারীদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অতএব, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় ও সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য স্বাধীন নিশ্চিতকরণ ছাড়া পুরো ঘটনাকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি হিসেবে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়।

ইউনূস সরকারের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভের প্রকাশ?
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় রাষ্ট্র সংস্কার, নির্বাচনব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মানবাধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে দেশে-বিদেশে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে।

বিমানবন্দরের এই ঘটনার ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের বক্তব্যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যুর প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। তবে তাঁদের অভিযোগের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো ঘটনা, পরিসংখ্যান বা প্রমাণ তাঁরা ভিডিওতে উপস্থাপন করেননি। ফলে এই বিক্ষোভকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামগ্রিক মতামতের প্রতিফলন হিসেবে দেখারও সুযোগ নেই।

এখনো যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি:
ঘটনাটি সামনে আসার পর কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় কী, তাঁরা কী কারণে বিমানবন্দরে জড়ো হয়েছিলেন, অভিযোগগুলোর পক্ষে তাঁদের কাছে কী তথ্যপ্রমাণ রয়েছে এবং ঘটনার বিষয়ে ড. ইউনূস বা তাঁর প্রতিনিধিদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য কী।

প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ড. ইউনূসের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে বক্তব্য পাওয়া গেছে—এমন নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

সব মিলিয়ে, নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরের ঘটনাটি ড. ইউনূসকে ঘিরে রাজনৈতিক অসন্তোষের একটি আলোচিত দৃশ্য হয়ে উঠেছে। তবে ভিডিওতে দৃশ্যমান বিক্ষোভ এবং বিক্ষোভকারীদের উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা এক বিষয় নয়। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য, নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ এবং স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *