বটিয়াঘাটায় চলাচলের রাস্তার প্রতিবন্ধকতা অপসারণ ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি, সাংবাদিক সম্মেলনে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান এলাকাবাসীর
সেখ রাসেল, বিভাগীয় ব্যুরো চিফ, খুলনা:
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার চরভরাটি এলাকায় প্রায় ৬০ বছর ধরে স্থানীয়দের ব্যবহৃত চলাচলের রাস্তা থেকে প্রতিবন্ধকতা অপসারণ এবং ইমাম, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মুরব্বিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তির দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার শুরখালী ইউনিয়ন ও গঙ্গারামপুর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ এবং বারোভুইয়া নুরুল উলূম মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের উদ্যোগে এ সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গঙ্গারামপুর মসজিদের ইমাম আরিফ বিল্লাহ এবং ডেউয়াতলা মসজিদের ইমাম ও গঙ্গারামপুর ইউনিয়ন ইমাম পরিষদের সভাপতি মাওলানা আবুল কাশেম।
সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বটিয়াঘাটা উপজেলার শুরখালী ইউনিয়নের চরভরাটি এলাকায় মোজাম, মেশারফ, মঈনুদ্দিনসহ কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দখলে রাখার চেষ্টা করছেন। তাদের দাবি, প্রায় ৬০ বছর ধরে এলাকাবাসী, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দারা ওই রাস্তা ব্যবহার করে আসছেন।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে ইমাম, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় কয়েকজন মুরব্বির বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে। তাদের দাবি, মামলাগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, চরভরাটি এলাকায় প্রায় ৫০ বিঘা জমি একটি পরিবারের ভোগদখলে রয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা নিয়েও বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, মুসল্লি, নারী, শিশু ও স্থানীয় সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।
সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তারা বলেন, “আমরা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা চাই না। আমরা চাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসুক। যদি আমাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো মিথ্যা বা হয়রানিমূলক প্রমাণিত হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী সেগুলো প্রত্যাহার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
তারা আরও বলেন, জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা আইন ও প্রশাসনের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ করে কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
চার দফা দাবি : সাংবাদিক সম্মেলনে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—
১. ইমাম, মাদ্রাসার শিক্ষক ও স্থানীয় মুরব্বিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা;
২. তদন্তে অভিযোগ মিথ্যা বা হয়রানিমূলক প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি থেকে অব্যাহতি দেওয়া;
৩. চরভরাটি এলাকার চলাচলের রাস্তার প্রতিবন্ধকতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা;
৪. রাস্তার মালিকানা, ব্যবহার এবং জনসাধারণের চলাচলের অধিকার সম্পর্কে সরেজমিন তদন্ত করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনানুগ ও সঠিক সিদ্ধান্ত প্রদান করা।
বক্তারা বলেন, প্রকৃত অপরাধী থাকলে তদন্তের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানি বা মামলার শিকার না হন, সেটিও প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে।
তারা উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করে বিরোধের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে বক্তারা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরে দীর্ঘদিনের জনভোগান্তির বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনার অনুরোধ জানান।
সাংবাদিক সম্মেলন শেষে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আমির এজাজ খান, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত এবং বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার থান্দার কামরুজ্জামানের কাছে সরাসরি লিখিত ও মৌখিকভাবে এসব অভিযোগ ও দাবির বিষয়টি অবহিত করা হয়।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসনের সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে চরভরাটি এলাকার রাস্তা ও মামলাসংক্রান্ত বিরোধের প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং আইনানুগভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।

