বটিয়াঘাটায় ‘ওপেন হাউজ ডে’ মাদক-চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দমনে কঠোর পদক্ষেপের দাবি, ব্রীজে চেকপোস্ট বসানোর আহ্বান
সেখ রাসেল, বিভাগীয় ব্যুরো চিফ, খুলনা:
‘পুলিশই জনগণ, জনগণই পুলিশ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে খুলনার বটিয়াঘাটা থানায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ওপেন হাউজ ডে’ ও মতবিনিময় সভা। সভায় মাদক, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্র ও কথিত ক্যাসিনো ব্যবসার বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বুধবার বটিয়াঘাটা থানার আয়োজনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বটিয়াঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনার পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক। বিশেষ অতিথি ছিলেন দাকোপ-বটিয়াঘাটা সার্কেলের সি সার্কেল মোঃ সালাউদ্দিন। অনুষ্ঠানে বটিয়াঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত)সহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য ও পরামর্শ দেন বটিয়াঘাটা থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক খায়রুল ইসলাম জনি, বটিয়াঘাটা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব বাহাদুর মুন্সী এবং বটিয়াঘাটা উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারশনের সভাপতি মোঃ খালেদ বিন কাশেম।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বটিয়াঘাটা থানা হেডকোয়ার্টার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেব দুলাল, পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি রাম প্রসাদ রায়, সদস্য সচিব অধ্যাপক বিদ্যুৎ রায়সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
মাদক-চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস নিয়ে উদ্বেগ :
মতবিনিময় সভায় বক্তারা বটিয়াঘাটা উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। বিশেষ করে মাদক ব্যবসা ও সেবন, কিশোর গ্যাংদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্র এবং কথিত ক্যাসিনো কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
বক্তারা প্রশ্ন তোলেন—কোনো চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ বা মাদক ব্যবসায়ীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করার পর কোনো প্রভাবশালী মহলের তদবিরে তারা ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ বিষয়ে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
বটিয়াঘাটা ব্রিজে চেকপোস্টের দাবি:
সভায় বটিয়াঘাটা ব্রিজ এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপনের দাবিও জোরালোভাবে উঠে আসে। বক্তাদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ এই যাতায়াতপথে নিয়মিত নজরদারি থাকলে মাদক, অস্ত্র ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।
পাশাপাশি দ্রুততম সময়ে দুর্গম এলাকায় পৌঁছানোর জন্য যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, খেয়া পারাপার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং গ্রাম পুলিশের বেতন কাঠামো বৃদ্ধির বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
‘রেড জোন’ হিসেবে আলোচনায় বালিয়াডাঙ্গা :
মতবিনিময় সভায় বটিয়াঘাটা উপজেলার ৬ নম্বর বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নে কথিত ক্যাসিনো ও অনলাইনভিত্তিক প্রতারণা/হ্যাকিং কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বটিয়াঘাটা প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক তরিকুল ইসলাম। কেউ কেউ এলাকাটিকে ‘রেড জোন’ হিসেবে উল্লেখ করে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর দাবি জানান। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত অপরাধী ও সংশ্লিষ্ট চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বর্তমান ওসির প্রশংসা :
সভায় অধিকাংশ বক্তা বটিয়াঘাটা থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ মারুফ হোসেনের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, তার দায়িত্ব গ্রহণের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশের তৎপরতা দৃশ্যমান হয়েছে। তবে একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিদ্যমান নিরাপত্তাহীনতা দূর করতে আরও কার্যকর পুলিশি নজরদারি ও জনসম্পৃক্ততা প্রয়োজন বলে মত দেন বক্তারা।
সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনার আইন সহায়তাকারী সংস্থার বিভাগীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর ও বটিয়াঘাটা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন মুন্সী, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম, সেখ রাসেল ক্রাইম রিপোর্টার ও বটিয়াঘাটা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক, সিনিয়র সাংবাদিক ইমরান হোসেনসহ আরও অন্যান্য সাংবাদিকবৃন্দ।
এছাড়া ইমাম-মুয়াজ্জিন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরাও সভায় অংশ নেন।
সভায় বক্তারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়নের জন্য পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, তথ্যের আদান-প্রদান এবং অপরাধের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। একই সঙ্গে মাদক, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্র ও কথিত ক্যাসিনো কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তারা।

