জবিতে ছাত্রদলের দুপক্ষের সংঘর্ষ, ক্যাম্পাস ছাড়লেন সদস্য সচিব

অনলাইন ডেস্ক : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সদস্য সচিব শামসুল আরেফীন ও যুগ্ম-আহ্বায়ক নাহিয়ান বিন হক অনিকের গ্রুপের সংঘর্ষের একপর্যায়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামছুল আরেফিন। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববদ্যালয়ের প্রধান ফটকে শাখা ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি চলাকালীন দুপক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। পরিস্থিতি আরও উত্তাল হলে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভিক্টোরিয়া পার্কের গেটের পাশে একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় নাহিয়ান বিন অনিকের অনুসারীদের ওপর শামছুল আরেফিনের অনুসারীরা রড নিয়ে হামলা চালান। পরে তারা পাল্টা ধাওয়া দিলে শামছুল আরেফিনসহ তার অনুসারীরা ক্যাম্পাসের দিকে চলে যান।

আহতরা হলেন- অর্থনীতি বিভাগের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী মাদুদ, ইংরেজি বিভাগের আব্দুল্লাহ শেখ আসিফ, কনকুলেশন বিভাগের বিভাগের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমন ও প্রান্ত এবং বাংলা বিভাগের ১৫তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ইমরান হাসান ইমন।

সংঘর্ষের পেছনে সম্প্রতি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামছুল আরেফিনের আয়োজিত একটি পাঠচক্রকে ঘিরে বিরোধিতার বিষয়টি সামনে এসেছে।

জানা যায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ রফিক ভবনের তৃতীয় তলায় ‘শিক্ষা ভাবনা, ওরিয়েন্টালিজম এবং চিন্তার মৌলিকত্ব’ বিষয়ে পাঠচক্র আয়োজন করেন সদস্য সচিব শামসুল আরোফিন।

এর প্রেক্ষিতে ফেসবুকে তীব্র সমালোচনা করে পোস্ট দেন যুগ্ম-আহ্বায়ক নাহিয়ান বিন হক অনিক।

সেখানে তিনি লেখেন, ‘একটা পাডা কতগুলো ছাত্রলীগ, শিবির আর হাইব্রিড নিয়ে ধাপ্পাবাজির ক্লাস খুলছে। যেখানে ওর মতো গরু তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই পাডা কথা বলতে বলতে দাঁড়ানো অবস্থা থেকে প্রায় মাটিতে শুয়ে পরে। জাস্ট লাইক এ্যা জোকার…!! তুমি না হয় এরওর পা টিপে সামহাউ কিছু একটা হইছো। তুমি যেই ভেড়ার ১২-১৩ জনের পাল তৈরি করেছো- ওখানে আলো ছড়াবে এমন কাউকে দেখছি না..!! সব ধূলোয় অন্ধকার হাইব্রিড, লীগ আর শিবির। সতর্কবার্তা- ভাইয়া চরিত্র বদলাও, না হলে বদলে দেওয়া হবে। রাস্তার ছালছাড়া অথর্ব নেড়িকুকুর।’

এ বিষয়ে নাহিয়ান বিন হক অনিক বলেন, ‘আমাদের ওপর ভেক্টরিয়া পার্কে তারা হামলার পর আমরা প্রথমে হামলার শিকার হই। এরপর তাদের রড নিয়ে তাদেরকেও আত্মরক্ষার্থে আমরাও ধাওয়া দিই। এরপর ধাওয়া খেয়ে ক্যাম্পাস থেকে সদস্য সচিব সামছুল আরেফিনসহ তার কর্মীরা পালিয়ে যায়।’

তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তারা কোনো ধরনের সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিয়ে সেখানে অবস্থান করছিলেন না। ভিক্টোরিয়া পার্কের গেটসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় তাদের ওপর হামলা করা হয়।

নাহিয়ান আরও বলেন, ‘ওরা (বিরোধী গ্রুপ) রড নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করছে এবং আমাদের একুশতম আবর্তনের একজনের হাত ভাঙছে।’

আহত ওই শিক্ষার্থী অর্থনীতি বিভাগের বলে দাবি করেন তিনি। নাহিয়ানের অভিযোগ, সংঘর্ষের আগে ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হলেও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। হামলাকারীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী নন, এমন ব্যক্তিরাও ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতিকেও দায়ী করেন নাহিয়ান। তিনি জানান, আগেই হুমকির বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল। এরপরও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে সংঘর্ষের বিষয়ে বক্তব্য জানতে জবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামছুল আরেফিনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো সাড়া দেয়নি। ফলে এ ঘটনায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

জবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. গোলাম আজম বলেন, ‘নাহিয়ান বিন হক অনিক এসে অভিযোগ দিয়ে গেছেন। আমরা সবকিছু পর্যবেক্ষণে রাখছি। কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *