আর্শিনগর থেকে রায়পুরা মিনিবাস চালুর দাবি, ভাড়া নৈরাজ্যে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা

স্টাফ রিপোর্টার, (নরসিংদী)

নরসিংদীর অন্যতম ব্যস্ততম এলাকা আর্শিনগর। প্রতিদিন এ এলাকা দিয়ে অর্ধলক্ষাধিক মানুষের যাতায়াত বলে দাবি স্থানীয়দের। রাজধানী ঢাকা ও নরসিংদী শহরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হওয়ায় প্রতিদিনই বাড়ছে যাত্রীদের চাপ। তবে গণপরিবহনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা।

স্থানীয় যাত্রীদের অভিযোগ, আর্শিনগর থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতে সিএনজি অটোরিকশার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হতে হচ্ছে। এ সুযোগে কয়েক বছরে কয়েক দফা ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। একসময় যে পথে ৩০ টাকা ভাড়া নেওয়া হতো, বর্তমানে তা কোনো কোনো সময়ে ৬০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আবার পরিস্থিতি ও যাত্রীর চাপ বিবেচনায় কখনো ৪০, কখনো ৫০ টাকা ভাড়াও আদায় করা হয় বলে জানান যাত্রীরা।

বিশেষ করে সন্ধ্যার পর ভাড়া আরও বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের অনেকেই এ সময় বাড়তি ভাড়া দিতে বাধ্য হন। যাত্রীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত ভাড়ার পাশাপাশি কখনো কখনো যাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

আর্শিনগর থেকে বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের জন্য সিএনজি অটোরিকশার চাহিদা বেশি থাকায় যাত্রীদের বড় একটি অংশ বাধ্য হয়ে এসব যানবাহনের ওপর নির্ভর করেন। ফলে ভাড়া নির্ধারণ ও আদায়ে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।

এ অবস্থায় সময়ের চাহিদা ও জনসাধারণের দুর্ভোগ বিবেচনায় আর্শিনগর থেকে রায়পুরা রুটে মিনিবাস সার্ভিস চালুর দাবি উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, এ রুটে নিয়মিত মিনিবাস চালু হলে একদিকে যাত্রীদের পরিবহন সংকট কমবে, অন্যদিকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতাও নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।

যাত্রী ও স্থানীয়দের দাবি, আর্শিনগর-রায়পুরা রুটে দ্রুত গণপরিবহন চালুর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যমান পরিবহন ব্যবস্থায় ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে স্বল্প আয়ের মানুষ, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীদের যাতায়াত আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হবে বলে মনে করছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *