বটিয়াঘাটায় পুকুরঘাটে গোবিন্দের মরদেহ মাথায় আঘাত ও রক্তপাত ঘিরে রহস্য—স্ট্রোক, দুর্ঘটনা নাকি হত্যার শিকার?

সেখ রাসেল, বিভাগীয় ব্যুরো চিফ, খুলনা:
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার কিসমত ফুলতলা সিলিন্দামারী এলাকায় গোবিন্দ বাড়ৈ (৫৫) নামে এক ব্যক্তির রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাড়ির পাশের পুকুরের ঘাট থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তবে মৃত্যুর আগে বা পরে তার শরীরে দৃশ্যমান কিছু চিহ্ন নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। স্থানীয়দের দাবি, গোবিন্দ বাড়ৈর মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। পাশাপাশি পুরুষাঙ্গ দিয়ে রক্তপাত এবং মুখ দিয়ে ফেনা বের হওয়ার মতো বিষয়ও দেখা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এসব তথ্য সামনে আসার পর তার মৃত্যু নিছক অসুস্থতাজনিত, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে—তা নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এসব লক্ষণ দেখে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

নিহত গোবিন্দ বাড়ৈ কিসমত ফুলতলা পুরাতন ভাটার মোড় সংলগ্ন সিলিন্দামারী এলাকার মৃত হরিপদ বাড়ৈর ছেলে।

যেভাবে উদ্ধার করা হয়:
নিহতের একমাত্র মেয়ে পূর্বা বাড়ৈর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ও তার মা দেবিতলা গ্রামে মামাবাড়িতে থাকেন। বুধবার সন্ধ্যায় বাবার সঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে তিনি সেখান থেকে চলে যাচ্ছিলেন। কিছু দূর যাওয়ার পর কোনো কারণে আবার ফিরে এসে দেখতে পান, তার বাবা পুকুরের পানিতে পড়ে আছেন। পরে তিনি পরিচিত লোকজনকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে এসে গোবিন্দ বাড়ৈকে পানি থেকে উদ্ধার করেন। এরপর ভ্যানযোগে তাকে বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই সময়ে তার মাথার ডান পাশের ওপরের দিকে আঘাতের চিহ্ন এবং পুরুষাঙ্গ দিয়ে রক্তপাতের বিষয়টি নজরে আসে বলে জানা গেছে। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

ঘটনাস্থলে পুলিশ, ময়নাতদন্তে পাঠানো মরদেহ:
খবর পেয়ে বটিয়াঘাটা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এখন মূল প্রশ্ন—গোবিন্দ বাড়ৈ কি কোনো শারীরিক অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে পুকুরে পড়ে মারা গেছেন, নাকি পড়ে যাওয়ার আগে বা পরে কোনো আঘাতের ঘটনা ঘটেছে?

স্থানীয়দের কেউ কেউ স্ট্রোকের সম্ভাবনার কথা বলছেন। আবার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও অন্যান্য বিষয় সামনে আসায় কেউ কেউ ঘটনাটিকে সন্দেহজনক বলছেন। তবে এ মুহূর্তে এগুলোর কোনোটিই প্রমাণিত নয়।

ময়নাতদন্তই দিতে পারে গুরুত্বপূর্ণ উত্তর:
গোবিন্দ বাড়ৈর মাথায় আঘাতটি কীভাবে হয়েছে, পানিতে পড়ার আগে নাকি পরে হয়েছে, শরীরে অন্য কোনো অভ্যন্তরীণ আঘাত ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

একই সঙ্গে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, নিহতের শেষ সময়ের গতিবিধি এবং পারিপার্শ্বিক আলামতও তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

তদন্তের ফলের অপেক্ষায় পরিবার ও এলাকাবাসী:
একজন মানুষের আকস্মিক মৃত্যু নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনাটিকে হত্যা বা স্বাভাবিক মৃত্যু—কোনোটিই চূড়ান্তভাবে বলা যাচ্ছে না। বর্তমানে পরিবার ও এলাকাবাসীর দৃষ্টি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের দিকে।

গোবিন্দ বাড়ৈর মৃত্যু কি নিছক দুর্ঘটনা, কোনো অসুস্থতার পরিণতি, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো ঘটনা—এই প্রশ্নের উত্তর এখন পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের ওপরই নির্ভর করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *