বটিয়াঘাটায় জমির ধানের চারা উপড়ে ফেলার ঘটনায় ভুক্তভুগির শিক্ষক থানায় অভিযোগ
সেখ রাসেল, বিভাগীয় ব্যুরো চিফ, খুলনা:
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার ৫ নং ভান্ডারকোট ইউনিয়নের লক্ষ্মীখোলা এলাকায় আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক এসএম ওলিউল্লাহ (৫৮) নামের এক ব্যক্তির রোপনকৃত ধানের চারা উপড়ে ফেলে প্রায় ১০ হাজার টাকার ক্ষতি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভূগী বটিয়াঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বটিয়াঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে মৃত মোসলেম শেখ এর পুত্র শিক্ষক এস,এম ওলিউল্লাহ (৫৮) অভিযোগ করেন, লক্ষীখোলা এলাকার মৃত রাজ্জাক বিশ্বাস এর পুত্র মো. জসিম উদ্দিন বিশ্বাস (৪৫)-এর সঙ্গে তার সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। বিবাদী জসিম উদ্দিন বিশ্বাস বিরোধের সম্পত্তির দাবি করলেও তিনি কোন কাগজ পত্র না দেখিয়ে তার পিতা বলে যাওয়া দাবিতে উক্ত জমি দখলের চেষ্টায় লিপ্ত আছে বলে জানান ভুক্তভূগী শিক্ষক।
অভিযোগপত্রে এসএম ওলিউল্লাহ উল্লেখ করেন, গত ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে জসিম উদ্দিন তার জমিতে গিয়ে সেখানে রোপণ করা ধানের চারা উপড়ে ফেলেন। এতে আনুমানিক ১০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, ওইদিন বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে ওলিউল্লাহর ছেলে হাদিউজ্জামান (২৮) জমিতে গিয়ে রোপণ করা ধানের চারা উপড়ে ফেলা অবস্থায় দেখতে পান। পরে আশপাশের লোকজনের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর (৩৫) নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে জসিম উদ্দিন ধানের চারা তুলে ফেলেছেন বলে জানতে পারেন—এমনটাই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর হাদিউজ্জামান ঘটনাস্থলের ভিডিও ধারণ করে তার বাবাকে পাঠান বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে এসএম ওলিউল্লাহর ভাই মো. মারজান শেখ (৪৮) ঘটনাস্থলে গিয়ে ধানের চারা উপড়ে ফেলা অবস্থায় দেখতে পান বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু ধানের চারা উপড়ে ফেলার ঘটনাই নয়, পূর্বের বিরোধের জেরে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে মারধরের জন্য উদ্যত হওয়া এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষক।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।
অভিযোগকারী আরও উল্লেখ করেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা কোনো ধরনের সংঘাতে না গিয়ে আইনগত প্রতিকার চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ঘটনাকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগপত্রে জসিম উদ্দিনকে এলাকায় খারাপ প্রকৃতির ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে অভিযোগকারীর দাবি। এর সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয় পর্যায়ে জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের সংঘাত বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
এ বিষয়ে বটিয়াঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরে করার পর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে বলে জানা গেছে। তদন্তে জমির মালিকানা, ধানের চারা উপড়ে ফেলার ঘটনা, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় যাচাই করা হবে। এদিকে, অভিযোগ পত্রে মো. জসিম উদ্দিন বিশ্বাসের এর সাথে কোন যোগাযোগ নম্বর না থাকায় তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।

