চাঁদপুরে ইলিশসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির নামে অনলাইন প্রতারণা চক্রের আরও ৪ সদস্য গ্রেফতার ১০ মোবাইল, ৪৬ সিম ও ৭৫ হাজার টাকা উদ্ধার

মোঃ জাবেদ হোসেনঃ
চাঁদপুরের সুস্বাদু ইলিশ মাছসহ বিভিন্ন পণ্য অনলাইনে বিক্রির নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে সক্রিয় একটি চক্রের আরও চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে চাঁদপুর জেলা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১০টি মোবাইল ফোন, ৪৬টি সিম কার্ড—যার মধ্যে দুটি ভারতীয় সিম—এবং নগদ ৭৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এর আগে একই চক্রের আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। নতুন করে চারজন গ্রেফতার হওয়ায় এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
চাঁদপুর জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ইলিশ মাছসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। প্রতারকরা ফেসবুক থেকে বিভিন্ন ভিডিও ও ছবি সংগ্রহ করে সেগুলো এডিটের মাধ্যমে আকর্ষণীয় কনটেন্ট তৈরি করত। পরে ফেক ফেসবুক পেজ ও হোয়াটসঅ্যাপ আইডি খুলে সেখানে ইলিশ মাছ, ফার্নিচার, কলম, জুতা, বেবি টয় এবং অনলাইন জবসহ বিভিন্ন পণ্যের ভিডিও ও শর্ট রিল প্রচার করত।
ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে তারা লোভনীয় অফার, আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন এবং ভুয়া মন্তব্য ব্যবহার করে পোস্ট বুস্ট করত। এসব প্রচারণায় বিশ্বাস করে অনেকেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন।
পুলিশের তথ্যমতে, চক্রের সদস্যরা ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের সময় অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করত। মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো কিংবা সরাসরি অডিও কলে তারা ‘নাহিদ’, ‘জাবেদ’, ‘সনি মিয়া’, ‘হাজী আব্দুল কাদের’ ও ‘সাকিব’সহ বিভিন্ন ভুয়া নাম ব্যবহার করে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিত।
প্রতারণাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে তারা ভুয়া ঠিকানা, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করত বলে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়া গ্রাহকদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য নকল ভাউচারও তৈরি করা হতো। তবে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পর কোনো পণ্য সরবরাহ না করে তাদের অর্থ আত্মসাৎ করা হতো।
এ ঘটনায় চাঁদপুর মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা রুজু হয়েছে। এর মধ্যে মামলা নং-১১১, জিআর-৯৭৮/২৬, তারিখ ২১ আগস্ট ২০২৬; সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২১ ধারাসহ পেনাল কোডের ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় মামলা করা হয়। অপরদিকে মামলা নং-০৫, জিআর-১০২৪/২৬, তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬; সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২১ ও ২২ ধারাসহ পেনাল কোডের ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
সম্মানিত পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান-এর দিকনির্দেশনায় এসআই (নিঃ) মোঃ আনছার উল্লাহ, এসআই (নিঃ) মোঃ জিয়াউল হক জিয়া, এএসআই (নিঃ) মোহাম্মদ ইলিয়াছ ও এএসআই (নিঃ) মোঃ জহির উদ্দিনের সমন্বয়ে গঠিত একটি টিম অভিযানে অংশ নেয়।
চাঁদপুর জেলা পুলিশের এলআইসি শাখা ও ডিবির যৌথ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারক চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে। পরে গত ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ভোরে নড়াইল জেলার কালিয়া থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—ফুরকান ওরফে ফুরকান শেখ (২৫), চান মিয়া ওরফে চান্দু শেখ (২৫), রাতুল হোসেন নবেল (২৫) এবং শহিদুল শেখ (২৩)। তাদের বাড়ি নড়াইল জেলার কালিয়া থানা এলাকার বিভিন্ন গ্রামে।
অভিযান শেষে গত ৭ সেপ্টেম্বর অভিযানকারী দল চাঁদপুরে ফিরে আসে। মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, গ্রেফতারকৃত চার আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
চাঁদপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অনলাইনে পণ্য বিক্রির নামে সংঘটিত প্রতারণার ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে পুলিশ বলেছে, এ ধরনের প্রতারণা রোধে চাঁদপুর জেলা পুলিশের অভিযান ও আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *