তহশিলদার মোতাহার এর বিরুদ্ধে ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে সরকারী চাকুরী

বিশেষ প্রতিনিধি : ঢাকা ও নিজ এলাকা কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে অঢেল সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে বাড্ডা ভূমি অফিসের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী মোঃ মোতাহার হোসেন খানের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ভুয়া শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন তিনি। সামান্য একজন ভূমি সহকারী হয়েও অল্প সময়ে ফ্ল্যাট, বাড়ি, গাড়ি ও বিপুল পরিমাণ ব্যাংক ব্যালেন্সের মালিক হওয়া নিয়ে জনমনে নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
​জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ
এর আগে রাজধানীর দনিয়া ভূমি অফিসে কর্মরত থাকা অবস্থাতেও মোতাহার হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরণের অনিয়ম ও দুর্নীতির কথা ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে বাড্ডা ভূমি অফিসে থাকলেও তিনি নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকেন না বলে সেবাগ্রহীতাদের দাবি। অভিযোগ রয়েছে, সকালে অফিসে এসে শুধুমাত্র হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেই তিনি বের হয়ে যান। সেবা প্রার্থীরা মাসের পর মাস ভূমি অফিসে ঘুরলেও তাকে পান না।
​উর্ধতন কর্মকর্তা ও প্রশ্নের মুখে মিথ্যাচার
অফিসে অনুপস্থিতির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করলে মোতাহার হোসেন জানান, তিনি মন্ত্রণালয়ের কাজে বাইরে রয়েছেন। তবে ফোনে তাঁর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাসায় অবস্থান করছেন বলে জানান। অফিসের কর্মচারী ও তার দেওয়া বক্তব্যের মধ্যে কোনো মিল না থাকায় অনিয়মের বিষয়টি আরও সুস্পষ্ট হয়ে উঠে। সেবাগ্রহীতাদের প্রশ্ন—অফিস ফাঁকি দিয়ে তিনি মূলত কোন কাজে ব্যস্ত থাকেন?
​অভিযোগের সারসংক্ষেপ
​ভুয়া সনদ: জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি চাকরি লাভ।
​বিপুল সম্পদ: রাজধানীর ওয়ারী এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি এবং বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বিপুল অর্থ জমা করার অভিযোগ।
​গ্রামের বাড়িতে অঢেল সম্পত্তি: নিজ জেলা কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জেও বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়ে তুলেছেন।
​কর্মস্থলে অনুপস্থিতি: অফিসে এসে স্বাক্ষর করেই চলে যাওয়া এবং সেবাগ্রহীতাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি।
​তৃতীয় শ্রেণীর একজন সাধারণ কর্মচারী হয়ে কীভাবে তিনি অল্প সময়ের মধ্যে এমন অঢেল সম্পদের মালিক হলেন, তার নিরপেক্ষ তদন্ত চান বাড্ডা ভূমি অফিসে আসা ভুক্তভোগী সেবাগ্রহীতারা। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাঁর সম্পদের উৎস এবং সনদের সতত্যা যাচাইয়ের জোর দাবি জানানো হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *